রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে এলিমেনেটর রাউন্ডের ম্যাচে ব্যাটিংই করলেন না সাকিব আল হাসান। অথচ ব্যাট হাতে বেশ ছন্দে ছিলেন বরিশালের অধিনায়ক। আজ রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তিন নম্বরে মাহমুদউল্লাহকে প্রমোশন দেওয়ার পর আশা করা হচ্ছিল হয়তো চারে নামবেন সাকিব। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ৪ ও ৫ নম্বরে ব্যাটিং করেন করিম জানাত ও ভানুকা রাজাপাকসে। অবিচ্ছিন্ন থাকলেও এই দুই ব্যাটার ঝড়ো ইনিংস খেলতে পারেননি। আর তাতে বরিশাল বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাকিব কেন ব্যাটিং করলেন, ম্যাচ শেষে সেই ব্যাখা দিয়েছেন বরিশালের প্রধান কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম।
১৩ ম্যাচে ১৭৪ এর বেশি স্ট্রাইকরেট সাকিব আল হাসান রান করেছেন ৩৭৯। যা টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকার পরও সাকিবের ব্যাটিংয়ে না আসাটা রীতিমতো বিস্ময়ের! ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের ব্যাটিংয়ে না আসার সেই ব্যাখাই দিয়েছেন নাজমুল আবেদিন ফাহিম।
মূলত বিদেশি দুই ক্রিকেটার করিম ও ভানুকার ওপর আস্থা থাকায় সাকিব এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ‘এতো ভালো প্লাটফর্ম হওয়ার পরও ওর (সাকিব) মনে হয় মাথায় কাজ করেছিল (ভানুকা) রাজাপাকশে বা করিম জানাতকে ফ্রি করে দিলে ওরা যদি ফ্রিলি খেলে। ওরা যদি ভালো স্ট্রাইক রেটে রান করতে পারে, সেটা দলের কাজে আসবে। আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম সেটা তারা করতে পারেনি। সেটা উইকেটের কারণে হোক বা অন্য কোনও কারণে বা ভালো বোলিংয়ের কারণে হোক। কিংবা ওদের নিজেদের ইনটেন্টের কারণে হোক। সেটা করতে পারেনি। সেটার কারণেই কিন্তু আমরা পিছিয়ে গিয়েছি। যে ফাউন্ডেশন শুরুতে দিয়েছিল আমাদের সুযোগ ছিল ১৯০ বা তারও বেশি স্কোর ছাড়িয়ে যাওয়ার। সেই ব্যাটিং শক্তি কিন্তু আমাদের শেষের দিকে ছিল। যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। ‘
টিম ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি জানলেও এমন পরিকল্পনা মূলত সাকিবের মাথা থেকেই এসেছে, ‘অধিনায়কের কল তো ছিলই। নট দ্যাট আমাদের সঙ্গে আলাপ করেনি। ও (সাকিব) নিজে থেকে কমফোরটেবল ফিল করছিল যে ওরা ভালো খেলোয়ার। ওরা যদি যায় দুই –এক ওভার এক্সেলারেট করে দিয়ে আসতে পারে সেরকম একটা অবস্থায় আমরা ছিলামও। ১-২ উইকেট হারালেও অসুবিধা হতো না আমাদের। কিন্তু সেই সুযোগটা সেভাবে কাজে লাগাতে পারিনি।’
ফাহিম মনে করেন সাকিব নিজেই ব্যাটিংয়ে নামলে দলের জন্য ভালো হতো, ‘আমরা মনে হয় সাকিব এখন যেভাবে ব্যাটিং করছে এই উইকেটে এই পরিস্থিতিতে। যেখানে এতো ভালো প্লাটফর্ম। সাকিবের চেয়ে ভালো কোনও অপশন অমার মনে হয় না আছে। খুব ভালো হতো ও যদি নিজে খেলতো এবং নিজের মতো করে খেলতো, সেটা আমাদের দলের জন্য ভালো হতো। এটা এখন হয়তো সাকিবেরও উপলব্ধিতে আসবে। যেটা হয়ে গেছে সেটা আমরা আর ফেরত নিয়ে আসতে পারবো না। এটা একটা লেসন।’
তবে কি সাকিব নিরাপদ ক্রিকেট বেছে নিয়েছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে বরিশালের প্রধান কোচ বলেছেন, ‘অবশ্যই না। ও আরও বেশি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার জন্যই ওদেরকে পাঠিয়েছে। যেন তারা আরও বেশি আক্রমণাত্মক খেলতে পারে। ওর খুব আত্মবিশ্বাস ছিল রাজাপাকসে এবং করিমের উপর।’