ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষ হতেই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টির দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটের দলে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। বিপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স করে বেশ কয়েকজন সুযোগ পেয়েছেন এই দলে। ৮ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন রনি তালুকদার, তার সঙ্গে ফিরেছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারীও। এছাড়া তিনজন ক্রিকেটার প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন।
বুধবার প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটে হারের পর প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গত বছর অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলা সর্বশেষ স্কোয়াড থেকে ৫ জন বাদ পড়েছেন। ওই স্কোয়াডে থাকা ইয়াসির আলী চৌধুরী, মোসাদ্দেক হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সৌম্য সরকার ও এবাদত হোসেন নেই। তাদের বদলে সুযোগ পেয়েছেন রনি, শামীম, তানভীর ইসলাম, রেজাউর রহমান রাজা ও তৌহিদ হৃদয়। এর মধ্যে রনি ও শামীমের শুধু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল নির্বাচনে বিপিএলের পারফরম্যান্স প্রাধান্য পেয়েছে। বাদ পড়া পাঁচজনের কারও পারফরম্যান্সই বিপিএলে ভালো ছিলো না।
প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তিন ক্রিকেটারের একজন হচ্ছেন তানভীর। বাঁহাতি এই স্পিনার গত কয়েক বছর ধরেই ঘরোয়া ক্রিকেট দুর্দান্ত বোলিং করছেন। এবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তানভীর। এছাড়া সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সুযোগ পেয়েছেন হৃদয়। বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই ব্যাটার ওয়ানডে স্কোয়াডেও আছেন। ১৩ ম্যাচে হৃদয়ের ব্যাট থেকে এসেছে ৪০৩ রান। ৩৬.৬৩ গড়ে ১৪০.৪১ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করে হৃদয় জেতেন তিনি।
তানভীর ও হৃদয় ছাড়া প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন রাজা। হৃদয়ের মতো তিনিও সিলেট স্ট্রাইকারের হয়ে বিপিএলে মাতিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক না হলেও টেস্ট স্কোয়াডে কয়েক দফা সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এবার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেও পেলেন সুযোগ। বিপিএলে ৮ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার।
এছাড়া জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া রনি ও শামীম ফিরেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ১৩ ম্যাচে ৪২৫ রান করেছেন রনি। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল তার। ওই একটি ম্যাচই খেলেন। ৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২১ রান করেছিলেন তিনি। এরপর বেশ কয়েকবার দলের সঙ্গে থাকলেও ম্যাচ খেলা হয়নি রনির। এবার বিপিএলে ৩৫.৪১ গড়ে ১২৯.১৭ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করে ৮ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি।
অন্যদিকে যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য শামীমের অভিষেকটা হয়েছিল রঙিন। জিম্বাবুয়েতে অভিষেক সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১০ ম্যাচ খেলেই বাদ পড়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। গত বছরের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন তিনি। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে ফের জাতীয় দলে ফিরলেন চাঁদপুর থেকে উঠে আসা শামীম। বিপিএলে ১২ ম্যাচে ১৭৫ রান করলেও বেশ কিছু প্রভাবশালী ইনিংস ছিল শামীমের।
টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, নাসুম আহমেদ, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন, রনি তালুকদার, তৌহিদ হৃদয়, রেজাউর রহমান রাজা ও তানভীর ইসলাম।