ইংলিশদের কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

দ্বিতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ- ৪৪.৪ ওভারে ১৯৪/১০ (লক্ষ্য ৩২৭)।

ফল: ইংল্যান্ড ১৩২ রানে জয়ী। 

সিরিজ: ইংল্যান্ড ২-০-তে জয়ী।

ম্যাচসেরা: ১৩২ রান করা জেসন রয়। 

ইংল্যান্ড- ৫০ ওভারে ৩২৬/৭।

ইংল্যান্ডের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের পর পার হয়েছে ৭টি বছর। ২০১৬ সালে সেবারই বাংলাদেশ কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হার দেখেছিল। তারপর তো সাকিব-তামিমরা ঘরের মাঠকে দুর্গ বানিয়ে টানা ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে ৭টি। সেই দুর্গে আবারও বিজয় পতাকা উড়লো ইংল্যান্ডের! দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ১৩২ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তাতে ঘরের মাঠে স্বাগতিকদের টানা সিরিজ জয়ে ছেদ টেনে দিয়েছে সফরকারী দল। তাও আবার এক ম্যাচ হাতে রেখে!

৩২৭ রানের লক্ষ্যে ৯ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়াই কাল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের। সাকিব-তামিম ৭৯ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই জুটিতে পর্যাপ্ত বারুদ ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে রান রেটের চাপ। লম্বা ইনিংস খেলতে না পারার ব্যর্থতায় ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে স্বাগতিক দল।  

তামিমের বিদায়ের পর চাপের মাঝে ফিফটি করে আরেকটি জুটি গড়ে ক্ষীণ আশাটা জিইয়ে রেখেছিলেন সাকিব। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৫৮ রানে সাকিব সহজ ক্যাচে পরিণত হলে সেখানেই কক্ষপথচ্যুত হয়ে যায় বাংলাদেশ দল। আফিফ হোসেন, মাহমুদউল্লাহও প্রতিশ্রুতিশীল কিছু করতে পারেননি। একের পর এক ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ৪৪.৪ ওভারে থেমেছে রানে ১৯৪।  

বাংলাদেশকে শুরুতে বিপদে ফেলতে বড় অবদান ছিল স্যাম কারানের। ইংলিশ পেসার ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। তার পর বাকি সর্বনাশ করেছেন লেগস্পিনার আদিল রশিদ। তিনি ৪৫ রানে বাকি ৪টি উইকেট নিয়েছেন। একটি নিয়েছেন মঈন আলী। 

মোস্তাফিজের বিদায়ে অলআউট বাংলাদেশ 

তাসকিনের পরের বলে ফিরে যান নতুন নামা মোস্তাফিজুর রহমান। স্যাম কারানের বলে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন তিনি। 

তাসকিনের বিদায়

প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে তাসকিন রানের ব্যবধান কমাতে চেষ্টা করেছেন। ২১ বলে ৪ চারে করেছেন ২১ রান। তাকে রানআউট করলে দলীয় ১৯৪ রানে পড়েছে ৯ উইকেট। 

মিরাজের বিদায়

ব্যাটারদের স্থায়ী জুটি গড়ার ব্যর্থতায় আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। বাকিরা লড়াই করলেও সেটা দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর মিরাজও টেকেননি বেশিক্ষণ। রশিদের বলে ক্যাচ তুুলে ৭ রানে সাজঘরে ফিরেছেন। 

ফিরলেন মাহমুদউল্লাহও

ব্যাটারদের স্থায়ী জুটির পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের সেই বারুদে ঝলকটা দেখা যায়নি বাংলাদেশের। ১৬০ রানে যখন ষষ্ঠ উইকেট পড়ে তখনই ইনিংসের একই পর্যায়ে ইংলিশদের চেয়ে ৪৫ রান পিছিয়ে স্বাগতিকরা। তাতে দুই দলের ব্যাটিংয়ের পার্থক্য ভালো করে চোখে পড়ে। আফিফের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহর প্রতিরোধও স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। রশিদের একই ওভারে জীবন পাওয়ার পর তিন বল পর আর শেষ রক্ষা হয়নি। অভিজ্ঞ ব্যাটার স্লিপে তালুবন্দি হয়ে ৩২ রানে ফিরেছেন। তার ৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার।  

সাজঘরে আফিফ

সাকিব-তামিমের বিদায়ের পর লড়াই করতে গিয়েও বেশি দূর যেতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ-আফিফ জুটি। এই জুটিও ভেঙেছেন আদিল রশিদ। ভাসানো ডেলিভারিতে আফিফ হোসেনকে পরাস্ত করেছেন। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে বাটলারের গ্লাভসে জমা পড়েছে। তাতে ভাঙে ৩৮ রানের জুটি। আফিফ ৩৩ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ রান করেছেন।   

সাকিবের বিদায়ে আরও বিপদে বাংলাদেশ

দ্রুত ৩ উইকেটের পতনে ভীষণ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই চাপ ভালোভাবে সামাল দিচ্ছিল তামিম-সাকিব জুটি। তামিমের আউটের পর চাপের মাঝেই ফিফটির দেখা পেয়েছেন সাকিব। বাঁহাতি অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে আরও একটি জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন। বারবার প্রলুব্ধ করার মতো ডেলিভারি দিয়ে ৩৪ রানের এই জুটি ভেঙেছেন আদিল রশিদ। বিদায় দিয়েছেন সাকিব আল হাসানকে। তাতে আরও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। সাকিব সহজ ক্যাচ দিয়ে ৬৯ বলে ৫৮ রানে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার।     

৪০০তম ম্যাচে সাকিবের ফিফটি

তামিমের বিদায়ের পর নিজের ৪০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিফটিতে রাঙিয়েছেন সাকিব। ৫১তম ওয়ানডে ফিফটি করতে ৫৯ বল খেলেছেন তিনি। তাতে ছিল ৫টি চার। মাহমুদউল্লাহ তাকে সঙ্গ দিয়ে স্কোর সচল রাখতে অবদান রাখছেন। 

তামিমের বিদায়ে ভাঙলো ৭৯ রানের জুটি

দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ৩২৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তারপর জুটি গড়ে ধাক্কা সামাল দিতে থাকেন সাকিব-তামিম। তাদের দুর্দান্ত জুটি আশার সঞ্চার করলেও রান রেটের চাপ বেড়ে যাচ্ছিল। তখন আগ্রাসী হতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তামিম। মঈনের বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। তামিমের ক্যাচ নিয়েছেন ভিন্স। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৬৫ বলে ৩৫ রানে ফিরেছেন। তাতে ছিল ৪টি চার। তামিমের আউটে ভাঙে ৭৯ রানের জুটি! 

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন সাকিব

৯ রানে তিন উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরাতে লড়ছেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের জুটি পঞ্চাশ ছাড়ালে আউট হয়ে গিয়েছিলেন সাকিব। উইল জ্যাকসের বলে অনফিল্ড আম্পায়ার এলবিডব্লিউর আবেদনে আঙুল তুললেও সাকিব রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন। রিপ্লেতে দেখা গেছে, বল গ্লাভস ছুঁয়ে তার থাই প্যাডে লেগেছে। এর আগে ২.২ ওভারের মধ্যে স্যাম কারানের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম।

মুশফিককে ফেরান কারান

কারানের তৃতীয় শিকার মুশফিক

স্যাম কারান তার দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে পেয়ে যান তৃতীয় উইকেট। মুশফিকুর রহিমকে জস বাটলারের ক্যাচ বানান তিনি। ইংল্যান্ডের কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নেয় সফরকারীরা। রিপ্লেতে ব্যাটের পেছনে স্পাইক দেখা যায়, আউট হন মুশফিক। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তাতে ৯ রানে পড়েছে ৩ উইকেট।

শূন্য হাতে লিটন-শান্তর বিদায়

কঠিন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিক দল। ওপেনিংয়ে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গী ছিলেন লিটন দাস। স্যাম কারানের প্রথম দুটি বল কোনোরকমে ঠেকান তামিম। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে রানের খাতা খোলেন। লিটন স্ট্রাইকে গিয়ে প্রথম বলেই আউট। শূন্য হাতে বিদায় নেন বাংলাদেশি ওপেনার। ক্রিজে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তও মাঠ ছাড়েন জস বাটলারকে ক্যাচ দিয়ে। লিটন ও শান্ত দুজনই গোল্ডেন ডাক মেরেছেন। কারানের সামনে ছিল হ্যাটট্রিকের হাতছানি। কিন্তু মুশফিকুর রহিম তা হতে দেননি।

বাংলাদেশকে কঠিন লক্ষ্য দিলো ইংল্যান্ড

প্রথম ওয়ানডের নায়ক ডেভিড মালান জ্বলে উঠতে না পারলেও তা পুষিয়ে দিয়েছেন জেসন রয় ও জস বাটলার। তারপর ডেথ ওভারে মঈন আলী ও স্যাম কারানের ছোট দুটি ঝড়। তাতে শক্ত পুঁজি ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৩২৭ রানের টার্গেট দিয়েছে তারা। জেসন ১৩২ রানে থামেন। বাটলার করেন ৭৬ রান। মঈন ৮ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি পাননি, খেলেন ৩৫ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। শেষ দিকে কারান ১৯ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। আদিল রশিদের সঙ্গে ১৫ বলে ২৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তিনি। ৭ উইকেটে ৩২৬ রান করেছে সফরকারীরা। তাসকিন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। দুটি পান মেহেদী হাসান মিরাজ।

ডেথ ওভারে বাংলাদেশের ব্যর্থতা আবারও স্পষ্ট হয়ে ধরা দিয়েছে। শেষ ১০ ওভারে তারা ২ উইকেট নিয়ে ১০৭ রান দিয়েছে।

২০১৮ সালের পর প্রথমবার মিরপুর শেরেবাংলায় দলীয় স্কোর তিনশ’ ছাড়ালো। পাঁচ বছর পর এই মাঠ সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোর দেখলো। ইংল্যান্ডের আগে সবশেষ বাংলাদেশ সেবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৩২০ রান করেছিল।

তিন উইকেট পান তাসকিন

মঈন ঝড় থামালেন তাসকিন

তাসকিন আহমেদের বলে থামলো মঈন আলীর ঝড়। ৪৮তম ওভারে তাকে লিটন দাসের ক্যাচ বানান বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার। ৩৫ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৪২ রান করেন মঈন। স্যাম কারানের সঙ্গে ২৪ বলে ৩৯ রানের জুটি ছিল তার।

মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরলেন বাটলার

জস বাটলারকে ফেরালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইংল্যান্ডের অধিনায়কের ব্যাট দারুণ গতিতে ছুটছিল। তাকে ৭৬ রানে থামালেন বাংলাদেশি স্পিনার। ৪৪তম ওভারে পরপর দুটি ছক্কা হজম করেন মিরাজ। চতুর্থ বলে বাটলারের জোরালো শট লুফে নেন তিনি। ৬৪ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে সাজানো ছিল বাটলারের ইনিংস।

বাটলারের হাফ সেঞ্চুরি

৪১তম ওভারের চতুর্থ বলে সাকিব আল হাসানকে চার মেরে ফিফটি করলেন জস বাটলার। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন মঈন আলী। ৫০ বলে চারটি চারে বাটলার হাফ সেঞ্চুরি করেন।

তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার জ্যাকস

উইল জ্যাকস ক্রিজে টিকলেন মাত্র ৪ বল। সাকিব আল হাসানের বলে জেসন রয় ফিরে যাওয়ার ছয় বল পর তাসকিন আহমেদের শিকার তিনি। শর্ট মিডউইকেটে জ্যাকস ক্যাচ দেন সাকিবকে। মাত্র ১ রানে থামেন তিনি। তিন রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

সাকিবের বলে আউট জেসন

অবশেষে জেসন রয় থামলেন। সাকিব আল হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হলেন ইংলিশ ওপেনার। বাঁহাতি স্পিনারের আর্মবলে সুইপ করতে গিয়ে প্যাডে আঘাত করে বল। রিভিউ নেওয়ার কোনো চিন্তা না করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন জেসন। ১২৪ বলে ১৮ চার ও ১ ছয়ে ১৩২ রান করেন তিনি। জস বাটলারের সঙ্গে ৯৩ বলে ১০৯ রানের জুটি গড়ে জেসন বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন। 

সেঞ্চুরি করেছেন জেসন রয়

জেসনের সেঞ্চুরি

জেসন রয় ৫৪ বলে পাওয়া হাফ সেঞ্চুরিকে তিন অঙ্কের ঘরে নিলেন। এজন্য আরও ৫০ বল খেলতে হয়েছে তাকে। ১০৪ বলে ১২ চার ও ১ ছয়ে সেঞ্চুরি করলেন ইংল্যান্ডের এই ওপেনার। ৩১তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে ১২তম শতক উদযাপন করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। 

৩৫তম ওভারে ইংল্যান্ড পেয়ে গেছে দুইশর দেখা। তাসকিন আহমেদের বলে জেসন দলীয় রান ২০০ অতিক্রম করেন। ডিপ মিডউইকেটে মিসফিল্ডিং করেন মাহমুদউল্লাহ। চার হয় ইংল্যান্ডের, স্কোরও পৌঁছায় ডাবল সেঞ্চুরিতে। 

জেসনের ব্যাটে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ

জেসন রয়ের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। বোলিংয়ে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আম্পায়ার পাল্লিয়াগুরুগে আউট দেননি। রিভিউ নেয় স্বাগতিকরা। বল স্টাম্পে আঘাত করতো, কিন্তু অফস্টাম্পের বাইরে পা থাকায় আম্পায়ার্স কলে টিকে যান জেসন। বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে রেখেছেন ইংল্যান্ডের ওপেনার। 

তাইজুলের বলে তৃতীয় উইকেটের পতন

স্কোর একশ’ হওয়ার আগেই তৃতীয় উইকেট হারালো ইংল্যান্ড। ডেভিড মালানের বিদায়ের পর ক্রিজে নামা জেমস ভিন্সের পতন হলো। তাইজুল ইসলামের বল ব্যাট ছুঁয়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়ে। মাত্র ৫ রান করলেন ভিন্স, খেলেছেন ১৬ বল। ৯৬ রানে তিন নম্বর উইকেট হারালো সফরকারীরা।

প্রথম ওভারেই সাফল্য পেলেন মিরাজ

মালানকে ফেরালেন মিরাজ

১৬তম ওভারে বল হাতে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তৃতীয় বলেই পেলেন সাফল্য। প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক ডেভিড মালানকে এলবিডব্লিউ করেন বাংলাদেশি স্পিনার। মাত্র ১১ রানে থেমে গেলেন মালান। তার ১৯ বলের ইনিংসে ছিল না কোনও বাউন্ডারি।

আগের ম্যাচে মালান ইংল্যান্ডের ঘোরতর বিপদে রক্ষাকবচ হয়েছিলেন। তার অপরাজিত ১১৪ রানের ইনিংসে ৩ উইকেটে জিতেছিল সফরকারীরা। এবার তিনি ব্যর্থ হলেন।

জেসনের হাফ সেঞ্চুরি

ওপেনিংয়ে নেমে জেসন রয় ছন্দময় ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। ক্রিজে বেশ সাবলীল ছিলেন তিনি। ১৫তম ওভারে তাইজুল ইসলামের বলে দুটি রান নিয়ে পঞ্চাশ ছোঁন জেসন। ৫৪ বলে সাত চারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২২তম ফিফটি করলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। একই ওভারের শেষ দুটি বলেও চার হাঁকান।

হাফ সেঞ্চুরি করেছেন জেসন রয়

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪০ রান

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের রানের লাগাম টেনে ধরে রেখেছে। মিরপুরে প্রথম ১০ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা করেছে ৪০ রান। একমাত্র উইকেটটি পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ফিল সল্টকে ৭ রানে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানান তিনি। ক্রিজে আছেন জেসন রয় ও ডেভিড মালান।

তাসকিন ভাঙলেন ওপেনিং জুটি

ফিল সল্টকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ২৫ রানে পড়ে ইংল্যান্ডের প্রথম উইকেট। সফট সিগন্যালে আউট দিলেও নিচু ক্যাচ হওয়ায় অনফিল্ড আম্পায়াররা শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে রিভিউয়ে দেখা যায় ক্যাচটা ঠিকঠাক ধরেছেন শান্ত। ১৫ বলে ৭ রানে থামেন ইংলিশ ওপেনার। প্রথম ওয়ানডের সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড মালান তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন, তার সঙ্গী আরেক ওপেনার জেসন রয়।

তাসকিন ভাঙেন ওপেনিং জুটি

৪০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাকিব

নিজের ৪০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাকিব আল হাসান বল হাতে ইনিংস শুরু করেন। এই অফস্পিনারের পঞ্চম বলে ফিল সল্ট চার মারেন। এটি বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের ২২৬তম ওয়ানডে। টেস্ট খেলেছেন ৬৫টি এবং টি-টোয়েন্টি ১০৯টি।

নিজের প্রথম ওভারে সাকিব দেন ৫ রান। ক্রিজে সল্টের সঙ্গী জেসন রয়। 

প্রথম ওয়ানডের একাদশ নিয়েই মাঠে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডের একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে। শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় তারা। একই একাদশ নিয়ে নামার ব্যাখ্যায় স্বাগতিক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘কী করা প্রয়োজন, সেটা নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলাপ হয়েছে। এখন বাস্তবায়নের পালা।’ ইংল্যান্ড দলে দুটি পরিবর্তন এসেছে। ক্রিস ওকস ও জোফরা আর্চারের জায়গায় স্যাম কারান ও সাকিব মাহমুদ।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম (উইকেটকিপার), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।

ইংল্যান্ড একাদশ: জেসন রয়, ফিলিপ সল্ট, ডেভিড মালান, জেমস ভিন্স, জস বাটলার (উইকেটকিপার), উইল জ্যাকস, মঈন আলী, স্যাম কারান, আদিল রশিদ, সাকিব মাহমুদ, মার্ক উড।

টস জিতে ফিল্ডিং নেন তামিম

টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে প্রথম ওয়ানডে হেরে যায় বাংলাদেশ। শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামছে তারা। সিরিজ বাঁচাতে হলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ জিততেই হবে তাদের। এরই মধ্যে টস হয়ে গেছে। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে এটি বাংলাদেশের শততম ওয়ানডে।

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ 

৭ বছর আগে একই পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে হেরে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতায় ফিরেছিল। এবারও তারা একই পরিস্থিতির মুখোমুখি। সেটি করতে পারলে ঘরের মাঠে রাজত্ব করে চলা বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখার পথে এগিয়ে যাবে। 

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ১২টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টেলিভিশন ও টি-স্পোর্টস। 

অবশ্য বিশ্বকাপ জয়ী ইংলিশ দল প্রথম ওয়ানডেতে যেভাবে খেলেছে, তাতে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন হুমকির মুখে। এমন অবস্থায় দ্বিতীয় ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। 

বাংলাদেশ ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর আর কোনও সিরিজ হারেনি। এবার কি পারবে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে? শুক্রবার জিতলে সুযোগ থাকবে তৃতীয় ম্যাচটি জিতে ঘরের মাঠে টানা আট সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ার।