খবরটা আব্বুকে জানাতে পারা আমার জন্য স্পেশাল: মৃত্যুঞ্জয়

মৃত্যুঞ্জয়ের বাবা তাহাজ্জত হোসেন চৌধুরী ক্রিকেটের পাঁড়ভক্ত। নিজে ওয়াসিম আকরামের বোলিংয়ের ভক্ত বলে ছেলেকেও ‘সুলতান অব সুইংয়ের’ মতো দেখার স্বপ্ন ছিল তার। ২০১২ সালে ক্রিকেট কোচিং স্কুলে ছেলেকে ভর্তি করার মাধ্যমে তাহাজ্জত হোসেনের পরিপূর্ণ স্বপ্ন দেখা শুরু। তার সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে। পেস বোলিংয়ে মৃত্যুঞ্জয় নিজের সহজাত প্রতিভা দেখিয়ে দ্রুতই বয়সভিত্তিক দলের সিঁড়ি ভেঙে সুযোগ করে নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। মৃত্যুঞ্জয়ও খুশি বাবার স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনকে নিজের প্রতিক্রয়া জানিয়েছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের এই পেসার।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাকে ওয়াসিম আকরামের মতো দেখতে চাইতেন আপনার বাবা, নিশ্চয়ই তার সঙ্গে কথা হয়েছে?

মৃত্যুঞ্জয়: আব্বু আমাকে ফোনে পাচ্ছিল না, আমিও কয়েকবার চেষ্টা করে পাচ্ছিলাম না। সবাই ফোন দিচ্ছিল, তাই খুব বেশি কথা হয়নি। মজার কথা হচ্ছে আব্বু আগে থেকেই জানতো, তারপরও চুপ করে ছিল। আমি বলার পর আমাকে অভিনন্দন জানালো। উনি টিভিতে আগেই খবরটা শুনেছেন। কিছু পরমর্শ দিলো, উৎসাহ দিলো। বললো, রাতে কথা হবে। তোমার ব্যস্ততা শেষ করো……।  শুধু বাবা নন, পরিবারের সবাই খুব খুশি। সত্যি কথা বলতে আমার পরিবার এমন একটি দিনের অপেক্ষাতে ছিল। তবে এখন দায়িত্বটা আমার, নিজের ক্যারিয়ারকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে আরও পরিশ্রম করতে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাবার স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আপনার নিজের অনুভূতিটা কেমন?

মৃত্যুঞ্জয়: বাবার জন্য আমার অনুভূতি অন্য পর্যায়ের। উনি আমার জন্য সেই ছোট বেলা থেকেই কষ্ট করে আসছেন। সেই কষ্টের প্রতিফলন দেখার পথে। হয়েছে বলবো না, অন্তত একটা সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগনো গেলে বাবাকে দারুণ একটি গিফট দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে আব্বুকে জাতীয় দলে সুযোগের খবর জানানোর জন্য ফোন দিতে পারাটা, আমার জন্য সত্যিকার অর্থেই স্পেশাল। এই অনুভূতি অন্য রকমের। 

বাংলা ট্রিবিউন:  যখন খবরটা শুনেছেন কেমন লাগছিল?

মৃত্যুঞ্জয়: আমি অনুশীলনের মধ্যে ছিলাম, এরপর প্রচুর ফোনকল পেলাম আপনাদের কাছ থেকে। ওখান থেকেই প্রথম শুনেছি। তবে ধারনা ছিল সুযোগ হতে পারে। কেননা এক সপ্তাহ আগেই ভিসা পেয়ে গেয়েছিলাম। এই কারণে মানসিকভাবে তৈরি ছিলাম, সুযোগ হলেও হতে পারে। আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেক খুশি। এটা আমার ক্যারিয়ারের বড় প্রাপ্তি বলা যায়। রোযায় গরমের মধ্যে এই খবর আমার জন্য প্রশান্তির।

বাংলা ট্রিবিউন: লম্বা সময় ধরে প্রসেসের মধ্যে ছিলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনেকেই সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে। নিজেকে কীভাবে মোটিভেশন দিয়েছেন?

মৃত্যুঞ্জয়: কখনোই হতাশ হয়নি। আমি আমার প্রসেসে ঠিক ছিলাম। আমার কাজটা ঠিকঠাক করেছি। জানতাম ভালো করতে পারলে সুযোগ আসবে। মূল কথা আমি নিজের জায়গা থেকে সরে যাইনি। সব সময় নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা করে গেছি। নির্বাচকরা হয়তো মনে করেছে আমি এখন পারফেক্ট, জাতীয় দলের জন্য উপযুক্ত; সেই কারণে নিয়েছে। বলা যায় পরিশ্রামের ফল পেয়েছি। তবে সুযোগ পাওয়াটাইতো বড় কথা নয়, জাতীয় দলের অংশ হওয়াটা জরুরি।

বাংলা ট্রিবিউন: ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন, জাতীয় দলতো ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন?

মৃত্যুঞ্জয়: আমি বলবো, এটা চ্যালেঞ্জিং নয়, আমার জন্য সুযোগ। চ্যালেঞ্জিং তার জন্য যার হয়তোবা এটাই শেষ অপশন। আর কোনও অপশন নেই। আমার জন্যতো কেবল শুরু, সেক্ষেত্রে এটা কেবলমাত্র একটি সুযোগ। আমি এভাবেই চিন্তা করছি। যেহেতু বাংলাদেশ দলে অনেক অভিজ্ঞ, প্রমাণিত ক্রিকেটার রয়েছে। আমিও এই মঞ্চে সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবো। কেউইতো জানে না কী হতে পারে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার বোলিংয়ের শক্তির জায়গা কোনটি?

মৃত্যুঞ্জয়: একজন পেস বোলারের যা কিছু থাকা দরকার মনে করি ওইসকল কিছুই আমার মধ্যে আছে। গতিতে বোলিং করতে পারি। বোলিংয়ে ভেরিয়েশেন আছে। ইয়র্কারটা ভালো হচ্ছে, আগ্রাসনও আছে। মনে হবে এসবই আমার মূল শক্তির জায়গা। কিছু ত্রুটি হয়তো আছে, সেগুলো সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে।