গ্রিন ঝড়ের পর টেন্ডুলকার জুনিয়রের ঝলকে মুম্বাইয়ের জয়

শেষ ওভারে লাগতো ২০ রান। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটিং প্রান্তে আব্দুল সামাদ ও ভুবনেশ্বর কুমার। বল হাতে নিলেন অর্জুন টেন্ডুলকার। শচীন টেন্ডুলকারের ছেলের জন্য ছিল আসল পরীক্ষা। পুরো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তার দিকে তাকিয়ে। প্রথম বলে দিলেন ডট, দ্বিতীয়টিতে সামাদ দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে স্ট্রাইকিং প্রান্তে আউট হয়ে গেলেন। হৃত্বিক শোকিনের থ্রোতে ইশান কিষাণ স্টাম্প ভাঙেন। ওয়াইড দেওয়ার পর তৃতীয় বৈধ বলে মায়াঙ্ক মারকান্ডেকে ২ রান দিলেন টেন্ডুলকার জুনিয়র। চতুর্থ বলে লেগ বাই থেকে এলো একটি রান। পরের বলটি নিশ্চিতভাবে অর্জুনের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভুবনেশ্বরকে কভারে রোহিত শর্মার ক্যাচ বানিয়ে আইপিএলে প্রথম উইকেট নিলেন তিনি।

প্রথম দুই ওভারে ১৪ রান দেওয়ার পর স্নায়ু ধরে রেখে ইনিংসের শেষ ওভারে এক উইকেট নিয়ে অর্জুন দেন ৪ রান। আসল পরীক্ষায় উতরে গেলেন দারুণভাবে। ২.৫ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ১ উইকেট, ডট ৯টি। নিঃসন্দেহে বল হাতে দ্বিতীয় আইপিএল ম্যাচে স্মরণীয় পারফরম্যান্স করলেন অর্জুন। হায়দরাবাদকে ১৭৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৪ রানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম দুটি আইপিএল ম্যাচেই জিতলেন অর্জুন।

১৯৩ রানের লক্ষ্যে নেমে পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৪২ রান করেছিল হায়দরাবাদ। মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ৪১ বলে ৪৮ রান  ও হেনরিখ ক্লাসেনের ১৬ বলে ৩৬ রানের ক্যামিওতে লড়াই চালিয়ে যায় তারা। দুজনের বিদায়ের পর রানের গতি কমে যায়। ১৭ ওভার শেষে স্কোর ৭ উইকেটে ১৫০ রান। জ্যাসন বেহরেনডর্ফের পরের ওভার থেকে ১৯ রান তুলে নিয়ে লড়াইয়ে ফেরে হায়দরাবাদ। শেষ দুই ওভারে ২৪ রান প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন ও অর্জুনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পেরে ওঠেনি তারা।

বেহরেনডর্ফ, রাইলি মেরেডিথ ও পিযুষ চাওলা সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে গ্রিন ৪০ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার দারুণ ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ১৯২ রান করে মুম্বাই। এছাড়া তিলক ভার্মার ১৭ বলে ২ চার ও ও ৪ ছয়ে ৩৭ রানের ক্যামিও ছিল চমৎকার। রোহিত ২৮ রানের ইনিংস খেলার পথে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ৬ হাজার আইপিএল রানের মালিক হন। ৩১ বলে ৩৮ রান করেন ইশান কিষাণ।

গ্রিন হাফ সেঞ্চুরির পর এক উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা।

পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ৫ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে। হায়দরাবাদ সমান খেলে তৃতীয় হারে চার পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে।