১৫৪ রান করেও শীর্ষ দলকে চমকে দিলো লখনউ

একশ পঞ্চাশের ঘরে রান করেও যে রোমাঞ্চ ছড়ানো যায়, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকলো লখনউ সুপার জায়ান্টস ও রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচ। খেলার মাঝপথেও মনে হচ্ছিল লখনউর ১৫৪ রান তাড়া করা রাজস্থানের জন্য কোনও ব্যাপারই না।

১৫৫ রানের লক্ষ্যে নেমে রাজস্থান দারুণ শুরু করে। কোনও উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লে শেষ করে ৪৭ রানে। এমনকি ১২তম ওভার পর্যন্ত তাদের কোনও উইকেট খোঁয়া যায়নি। লখনউর হয়ে বল হাতে নেন মার্কাস স্টয়নিস। খেলা বদলে দেন তিনি। চল্লিশের ঘরে পৌঁছে তার টানা ওভারে দুই ওপেনার যশ্বসী জয়সাওয়াল (৪৪) ও জস বাটলার (৪০) বিদায় নেন। মাঝের ওভারে অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসন (২) রান আউট হন।

বিনা উইকেটে ৮৭ রান করা রাজস্থান দ্রুত তিন ব্যাটারকে হারায়। আরেকদিকে বাউন্ডারি শুষ্ক হয়ে ওঠায় চাপ বাড়ে। শিমরন হেটমায়ার (২) এবার নায়কোচিত কিছু করতে পারেননি। দেবদূত পাডিক্কাল ও রিয়ান পরাগ শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেট হতে বেশি বল খেলে ফেলেন। নাভিন উল হক লখনউর হয়ে দারুণ বোলিং করেন, কোনও উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দেন। শেষ ওভারে আবেশ খান তার স্নায়ু ধরে রেখে দলকে জেতান।

শেষ ওভারে লাগতো ১৯ রান। আবেশ টানা দুই বলে পাডিক্কাল (২৬) ও ধ্রুব জুরেলকে (০) ফিরিয়ে জয় সহজ করে দেন। ৮ রান করে তারা শেষ ওভারে। আইপিএলের শীর্ষ দলকে ৬ উইকেটে ১৪৪ রানে থামিয়ে ১০ রানে জেতে লখনউ। এই মৌসুমে সবচেয়ে কম রান আটকে দেওয়ার কৃতিত্ব গড়লো দলটি।

ব্যাট হাতে ১৬ বলে ২১ রান করার পর ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় স্টয়নিস। লখনউর হয়ে আবেশ সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন।

এর আগে জয়পুরে ব্যাট করতে নেমে লোকেশ রাহুল ও কাইল মায়ার্সের ৮২ রানের জুটিতে দারুণ শুরু করেছিল লখনউ। কিন্তু ৩ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট পড়লে ধাক্কা খায় তারা। রাহুল ৩৯ রানে ফেরার পর একপ্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুরি করেন মায়ার্স। ৪২ বলে ইনিংস সেরা ৫১ রান করেন তিনি। পরে স্টয়নিস ও নিকোলাস পুরানের ৪৫ রানের জুটি স্বস্তিতে রাখে লখনউকে। পুরান ২০ বলে ২৯ রান করেন। দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসের পথে ৭ উইকেট হারায় দলটি।

৬ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে রাজস্থানের সমান ৮ পয়েন্ট পেলো লখনউ। কিন্তু নেট রান রেটে পিছিয়ে থেকে রাজস্থানকে শীর্ষস্থানচ্যুত করতে পারেনি তারা। টানা তিন ম্যাচ জেতার পর হারলেও এক নম্বরেই স্যামসনের দল। রাজস্থানও খেলেছে ষষ্ঠ ম্যাচ।