ডু প্লেসির পর সিরাজের ম্যাচসেরা নৈপুণ্যে জিতলো বেঙ্গালুরু

১৭৫ রানের লক্ষ্য পেয়ে জয়ের লক্ষ্যেই ছুটছিল পাঞ্জাব কিংস। বলা যায় ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে শেষ দিকে খেলা জমিয়ে তুলেছিলেন জিতেশ শর্মা। পর্যাপ্ত উইকেট থাকলে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ভিন্ন হলেও হতে পারতো। সেটি না হওয়ায় জিতেশের আউট হতেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ২৪ রানে হেরেছে পাঞ্জাব। ডু প্লেসিদের এটা তৃতীয় জয়।

স্কোর: বেঙ্গালুরু ১৭৪/৪

পাঞ্জাব: ১৮.২ ওভারে ১৫০

ফল: বেঙ্গালুরু ২৪ রানে জয়ী।

পাওয়ার প্লেতেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাঞ্জাব। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১০৬! তার পরও ধ্বংসস্তূপে থেকে লড়াই চালিয়ে আশার সঞ্চার করেছেন জিতেশ শর্মা। ঝড়ো গতিতে রান তুলে শেষ দিকে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছিলেন তিনি-ই। ১৪৯ রানে নবম উইকেট পড়লেও প্রান্ত আগলে ছিলেন। তখনও শেষ ১২ বলে প্রয়োজন ২৬ রান। কিন্তু ১৮.২ ওভারে হার্শাল প্যাটেল তাকে ক্যাচ আউট করতেই শেষ হয়ে যায় সব সম্ভাবনা। জিতেশ ২৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রানে ফিরেছেন। অবশ্য ম্যাচটা এত দূর যেত না যদি ১৭তম ওভারে কোহলি তার ক্যাচ মিস না করতেন। পাঞ্জাব অলআউট হয়েছে ১৫০ রানে।   

শুরুতে পাঞ্জাবকে চাপে ফেলতে বড় অবদান মোহাম্মদ সিরাজের। প্রথম ৬ ওভারে দুটি উইকেট নিয়েছেন। জিতেশের আগে পাঞ্জাবের হয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাটিংয়ে লড়াই করেছেন প্রভসিমরান সিংও (৪৬)।

তবে ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বোলিং করেছেন সিরাজ। ৩৯ রানে দুটি নেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। একটি করে নিয়েছেন ওয়েইন পারনেল ও হার্শাল প্যাটেল। 

অবশ্য বিরাট কোহলি-ফাফ ডু প্লেসি যেভাবে ঝড়ো ব্যাটিং করছিলেন তাতে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখছিল বেঙ্গালুরু। তাদের বিদায়ের পর পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটাররা ব্যাট করতে পারেননি। মুহূর্তের ছন্দপতনে বেঙ্গালুরু শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৭৪ রানে থেমেছে।

মোহালিতে কোহলিদের ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানায় পাঞ্জাব কিংস। তার পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাঞ্জাবের বোলারদের ওপর চড়াও হন কোহলি-ডু প্লেসি। তাদের সেঞ্চুরি ছাড়ানো পার্টনারশিপে ওপেনিং জুটিতেই ১৬.১ ওভারে ১৩৭ রান যোগ হয়েছে। ৪০ বলে ফিফটি পাওয়া কোহলি আউট হলে ভাঙে এই জুটি। ফেরার আগে কোহিলি ৪৭ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ রান করেছেন। একই ওভারে জোড়া আঘাতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও ফিরলে ছন্দপতন হয় ইনিংসে। যার প্রভাবও পড়ে। পরের ওভারে ফিরে যান সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকা ফাফ ডু প্লেসি। প্রোটিয়া ব্যাটার আউট হতেই চাহিদা মিটিয়ে রান তুলতে পারেনি বেঙ্গালুরু। করতে পারে ১৭৪ রান। ডু প্লেসি ৫৬ বলে ৫ চার ও ৫ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেছেন।

বেঙ্গালুরুর ইনিংসে ছন্দপতন ঘটাতে অবদান বামহাতি হারপ্রীত ব্রারের। ৩১ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন আরশদ্বীপ সিং ও নাথান এলিস।