টানা ৬১টি টি-টোয়েন্টি খেলে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর আফিফ হোসেনকে থামতে হয়েছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তো পুরো সিরিজ থেকেই বাদ পড়েন। তার আগে আইরিশদের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে থেকে বাদ দিয়ে দ্রুত সিলেট থেকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় আফিফকে। ওই সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে জাতীয় দলে তার জায়গাটা নড়বড়েই হয়ে যাচ্ছিল। যদিও আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন সবসময় আফিফকে জাতীয় দলে দেখতে চান।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গত দুই বছরে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স নেই। এই কারণে আফিফকে বাদ পড়তে হয়েছে। যদিও আবাহনীর জার্সিতে ঢাকা লিগে বেশ ভালো খেলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। সর্বশেষ ম্যাচে তো লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। ১২ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি ও ৩ হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৪৬ রান সংগ্রহ করেছেন আফিফ। আবাহনীর কোচ সুজন তার এই শিষ্যের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি।
আফিফকে নিয়ে সুজন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘অবশ্যই আমি সবসময় আফিফকে বাংলাদেশ দলে দেখি। আফিফের ছোটখাটো যে ভুল ত্রুটি আছে সে চেষ্টা করছে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার। এখনও সে তরুণ। তার যথেষ্ট সামর্থ্য আছে। ওর মতো খেলোয়াড় আমাদের জন্য সহজে পাওয়া সম্ভব না। যে কি না একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।'
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও আফিফ রেকর্ডবুক ওলট-পালট করে আফগানিস্তানকে হারান। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তাদের ২২৫ বলে ১৭৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির ওপর দাঁড়িয়ে ৭ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। যে জয় এককথায় অবিশ্বাস্য ও অতুলনীয়। আফিফ ৯৩ এবং মিরাজ ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ওই ম্যাচটির উদহারণ টেনে সুজন বলেছেন, 'আমি যদি কিছুদিন আগের কথা বলি, আফিফ-মিরাজের দারুণ এক জুটিতে আমরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটা কঠিন ম্যাচ জিতেছি। এই লিগেও (চলমান ঢাকা লিগ) সে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছে। হয়তো যে ইস্যুগুলোর কথা বললাম সেগুলো নিয়ে সে কাজ করছে এবং ভালো করছে। আফিফ সবসময় ভালো খেলোয়াড়।'
আফিফের ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না বাংলাদেশের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বিষয়টি তার সাথেও আলোচনা করেছিলেন কোচ। আফিফের করণীয় বিষয়গুলোও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ঠিকঠাক ভাবে। সুজন অবশ্য আফিফকে নিয়ে আশার কথাই শোনালেন, ‘আমার মনে হয় সে চিন্তা ভাবনায় নেই তা হতেই পারে না, অবশ্যই সে আছে। দেখা যাক সামনে কী হয়। এখানে সে ব্যাটিং পজিশন নিয়েও খুব খুশি। জাতীয় দলের ৬-৭ এ কঠিন পজিশনে ব্যাটিং করতে হয়। এখানে আবাহনীতে ৪-৫ এ ব্যাটিং করছে। আমি মনে করি সে তার কাজটা খুব ভালোভাবে করছে। আফিফ আমাদের জন্য, বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার।’
বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘হয়তো বা (ক্ষুধা কমে যাওয়া), কারণ যখন আপনি দলে থাকবেন তখন বুঝবেন না। আমি বিশ্বাস করি আফিফ দলে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছে। সে অবশ্যই দলে ফিরবে। আর ও চিন্তা করার একটা ফাঁকা সময়ও পেয়েছে। আমি মনে করি প্রিমিয়ার লিগ কোনও অংশেই হালকা ক্রিকেট না, এটা অনেক কঠিন ক্রিকেট।'