আবাহনীর বিপক্ষে অলিখিত ফাইনালের আগে নির্ভার শেখ জামাল

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনী ও শেখ জামাল দুই দলই সমানে সমান। পুরো লিগে দুই দলই ১৩টি করে জয় ও দুটি করে ম্যাচ হেরেছে। ১৫ রাউন্ড শেষে সমান ২৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ওপরে তারা। শনিবার অলিখিত ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের কাছ থেকে শিরোপা পুনুরুদ্ধারের মিশনে নামবে আবাহনী। কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল আবাহনীর বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে কোনও চাপ নিচ্ছেন না শেখ জামালের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম শনিবার দুই দলের অলিখিত এই ফাইনাল ম্যাচটি হবে। ফাইনালে লড়াইয়ের আগে শুক্রবার মিরপুরে অনুশীলন করেছে দুই দলই। অনুশীলন শেষে শেখ জামালের অধিনায়ক সোহান জানিয়েছেন শিরোপা ধরের রাখার মিশন সফল করতে আত্মবিশ্বাসী তার দল। তিনি বলেন, ‘আসলে চাপ নেওয়ার কিছু নেই। যেটা আপনারা বললেন যে আমরা হয়তো কাগজে-কলমে খুব ভালো একটা দল ওভাবে ছিলাম না, কিন্তু আল্টিমেটলি সবাই ভালো করছে। আমরা যে প্রসেসটা ফলো করে এসেছি, সেটাই ফলো করার চেষ্টা করবো। যে যেখানে যেভাবে পারফর্ম করার চিন্তা করছে, যেটা বললাম ব্যক্তিগত চিন্তা না করে দলের চিন্তা করা। আপনি যদি পুরো টুর্নামেন্ট দেখেন, কারও একার জন্য কিন্তু দল এখানে আসেনি। সবারই কিছু না কিছু অবদান আছে। যার যেদিন পারফরম্যান্স করার প্রয়োজন ছিল, সে-ই অবদান রাখছে। ওই ব্যাপারটাই শেষ ম্যাচে করার চেষ্টা করবো। ’

গত মৌসুমেও আবাহনীকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শেখ জামাল। চলতি মৌসুমের প্রথম রাউন্ডেও আবাহনীকে হারের তেতো স্বাদ দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শনিবারও ঠিকঠাক কাজগুলো সম্পন্ন করে এমন কিছু করার লক্ষ্য সোহানের, ‘অবশ্যই, আপনি দেখেন যে একটা একটা আলাদা দিন। আমার কাছে মনে হয় অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তা করার সময় নেই। আমরা নির্দিষ্ট দিনে কেমন করছি, কে কোথা থেকে কার কাজটা কতটুকু ভালোভাবে করতে পারছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে।’

শেখ জামালের গুরুত্বপূর্ণ তিন ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও এবাদত হোসেন জাতীয় দলের খেলতে ব্যস্ত। সুপার লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে এই তিন ক্রিকেটারকে হারিয়েছে তারা। যদিও এমন পরিস্থিতির জন্য সব সময় প্রস্তুত ছিলে দল, তেমনটাই জানালেন শেখ জামালের অধিনায়ক, ‘আমাদের মাঝপথে তাওহীদ হৃদয়, মৃত্যুঞ্জয়, এবাদত চলে গেছে। কিন্তু আল্টিমেটলি এটা আমরা জানতাম যে জাতীয় দলের কল থাকলে আরও বেশি যেতে পারতো। এটা আমরা তেমন মাথায় নেইনি। যারা গেছে তাদের জায়গাটা পূরণ করার জন্য যে যেভাবে পারছে চেষ্টা করছে।’
 
প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না থাকায় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন সোহান। লিগের প্রথম রাউন্ডে খুব ভালো পারফরম্যান্স করতে না পারলেও সুপার লিগে এসে সাফল্য পাচ্ছেন। টানা তিন ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। সবমিলিয়ে  ১৫ ম্যাচে তার রান ৪২২। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সোহান বলেছেন, ‘প্রথম রাউন্ডে আমি একটু নিচের দিকে ব্যাট করছিলাম। যেহেতু হৃদয়রাও ছিল, আমাদের টপ অর্ডাররা প্রথম থেকে রান করছিল। সুপার লিগটা ওপরে ব্যাট করেছি, আলহামদুলিল্লাহ দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। আশা থাকবে শেষ ম্যাচটা যেন এভাবে খেলতে পারি।’

সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে হেরেছিল শেখ জামাল। ওই হারই মূলত উজ্জীবিত করেছে পুরো দলকে, ‘এই সময়টা আসলে, ওই দুইটা দিন আমাদের জন্যও খুব কঠিন ছিল। আল্টিমেটলি যদি চিন্তা করেন আমরা চ্যাম্পিয়ন রেসে আছি, ওখান থেকে পাঁচ-ছয় নম্বর দলের সঙ্গে...। তো দল ওখান থেকে বুস্ট আপ করে।’

প্রসঙ্গত, ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে না হলে পরের দিন রিজার্ভ ডেতে হবে।