‘ওই রকম কঠিন লাগেনি, খেলাটাকে শুধু উপভোগ করেছি’

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন শাহাদাত হোসেন দিপু। ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারানো সন্তানের জন্য ক্রিকেটার হওয়ার পথটা সহজ হওয়ার কথা নয়। তারপরও মা, বড় ভাই এবং এলাকার এক ভাইয়ের সুবাদে ক্রিকেটার হওয়ার পথটা ঠিকই খুঁজে নেন তিনি। বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের ক্রিকেটার শাহাদাত এখন জাতীয় দলে অভিষেকের অপেক্ষায়। সোমবার মিরপুরে প্রথম দিন বাংলাদেশের জার্সিতে অনুশীলন করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শাহাদাত। 

প্রশ্ন: জাতীয় দলে সুযোগ আসছে, কবে জানতে পারলেন?

শাহাদাত: আমি ‘এ’ টিমে খেলছিলাম। তিনটা ম্যাচ ছিল ওইখানে। ওটা নিয়েই ফোকাসড ছিলাম, ‘এ’ টিমে ভালো করতে হবে। বাকিটা আমি জানতাম না বা কী হবে না হবে। গতকাল (রবিবার) মাগরিবের আগে জেনেছি।

জাতীয় দলে খেলার অপেক্ষায়, কত খুশি লাগছে?

শাহাদাত: খুশি তো লাগবে এটা স্বাভাবিক। সবারই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। আমারও একই। দিনকে দিন যাতে আরও উন্নতি করতে পারি, সেটাই চিন্তা করেছি।

দল কীভাবে স্বাগত জানালো?

শাহাদাত: সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছিল। এটা ভালো লেগেছে। সবারই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। আমারও আছে।

অল্প বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর আপনাকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে, কীভাবে পথ খুঁজে পেলেন?

শাহাদাত: আমার বাবা যখন মারা যান, তখন আমি ছোট ছিলাম। ওভাবে বুঝতে পারিনি বিষয়টা। আস্তে আস্তে যখন বড় হচ্ছিলাম, আমার বড় ভাই আমাকে সাহায্য করছিল। এবং সুদীপ্ত ভাই ছিল, সে ক্রিকেটে অনেক হেল্প করেছিল। জিনিসপত্র থেকে শুরু করে সবকিছু দিয়ে। সেভাবেই আসলে ওখান থেকে আস্তে ধীরে আগানো। 

যুব বিশ্বকাপজয়ী অনেকে খেলে ফেলেছে, আপনার সুযোগ হলো, মাথায় কোনও ভাবনা আছে কি?

শাহাদাত: ওইসব ব্যাপার নিয়ে আমি কোনোদিন চিন্তা করিনি। চিন্তা করেছি, যখনই আমাকে ডাকবে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবো। 

লাল বল নিয়ে আলাদা কোনও প্রস্তুতি ছিল কি না?

শাহাদাত: পরিস্থিতি যখন যেভাবে আসে ওইভাবে খেলার চেষ্টা করি আর কী।  

ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন, মাত্রই ‘এ’ দলের হয়ে খেললেন। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য কতখানি?

শাহাদাত: ওদের বোলার একটু কঠিন থাকে। ভালো অভিজ্ঞতা থাকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। যারা ‘এ’ টিমে খেলে। ভারতের মোটামুটি ভালো বোলাররাই খেলেছে। ওদের স্কিল খুব ভালো থাকে। ওরা একটু চ্যালেঞ্জিং থাকে। মানসিকভাবে অনেক শক্ত থাকতে হয় আমি অনুভব করি। এটা যদি মানিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে…।

উইন্ডিজ বোলাররা আগ্রাসী, এমন বোলিংয়ের আক্রমণের বিপক্ষে প্রস্তুতি ছিল?

শাহাদাত: খেলেছি আগে। আমাদের তাসকিন ভাই, এবাদত ভাইরা ওই রকম পেসেই বল করে। এবার প্রিমিয়ার লিগে খেলা হয়েছে। ওই রকম কঠিন লাগেনি। শুধু খেলাটাকে উপভোগ করেছি। 

সিডন্সের সঙ্গে কী কাজ করলেন?

শাহাদাত: স্কিল অনুযায়ী স্পিনে কীভাবে খেলতে হবে বা পেস বোলিং কেমন করে খেলতে হবে। কিছু কিছু জিনিস কাজ করিয়েছেন। ওগুলো নিজের মধ্যে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি। 

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটাই তো মুখ্য নয়, টিকে থাকাটাই আসল, কী ভাবছেন?

শাহাদাত: আমি দিনকে দিন নিজের স্কিলটাকে ডেভেলপ করার চেষ্টা করবো। মানসিকভাবে আরও শক্ত হওয়ার চেষ্টা করবো। এটাই আমার কাজ। যতই উন্নতি করবো, আমার জন্য খেলাটা সহজ হবে।