মধ্যগগনে সূর্য, তপ্ত শরীর। মাঝে একটু পানি পানের বিরতি দিয়ে টানা ৩০-৩২ ওভার ফিল্ডিং করা এবং ২২ গজে ব্যাটারদের দৌড়াদৌড়ি। টেস্ট ক্রিকেটে সারা দিনকে তিন সেশনে ভাগ করে এভাবেই রুটিনমাফিক খেলে থাকেন ক্রিকেটাররা। তবে সবচেয়ে লম্বা বিরতি পান প্রথম সেশনের পরে, যখন মাথার ওপরে সূর্য। এই বিশ্রামের সময়টুকুর কেতাবি নাম লাঞ্চ ব্রেক। দ্বিতীয় সেশনের পর থাকে চা বিরতি। তবে লাঞ্চ ব্রেকই সবচেয়ে বেশি সময়ের হয়ে থাকে, ঘড়ি ধরে ৪০ মিনিট। খেয়েদেয়ে ছোট্ট একটু ঘুম দেওয়ার জন্য কি যথেষ্ট? না, ভাতঘুম দেওয়ার সময় নেই। এই লাঞ্চ ব্রেক মূলত নিজেদের তরতাজা করে মাঠে ফেরার উপলক্ষ। তবে নামের সঙ্গে যেহেতু লাঞ্চ শব্দটি আছে, নিশ্চয় ‘ভালোমন্দ’ খান ক্রিকেটাররা!
হ্যাঁ, ক্রিকেটারদের জন্য একাধিক লোভনীয় খাবার থাকে। টেবিলে সাজানো সেসব খাবার ক্রিকেটারদের উদরে যেতে তাকিয়ে থাকে অধীর হয়ে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও নিজেদের লাগাম ধরে রাখেন ক্রিকেটাররা। মনের চেয়ে মস্তিষ্কের কথা শোনেন তারা। থরে থরে সাজানো বহু লোভনীয় খাবারের মধ্যে থেকে তারা বেছে নেন পুষ্টিকর খাবার, যা খেলে পেট ভরার চেয়ে শরীরে ফিরবে শক্তি, ঝরে যাবে ক্লান্তি। তাদের নজরে থাকে কোন খাবার তাদের ক্লান্তি সারাতে ও প্রাণসঞ্চার জাগাতে বেশি প্রয়োজন। তা টেস্টে ৪০ মিনিটের এই লাঞ্চ ব্রেকে ঠিক কী খেয়ে মাঠে ফেরেন ক্রিকেটাররা, সেটাই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টিভি৯বাংলা স্পোর্টস।
দীর্ঘ সময়ের জন্য লাঞ্চ বিরতিতে ক্রিকেটাররা নিজেদের ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। ৪০ মিনিট পর তারা যখন মাঠে ফেরেন বেশ ফুরফুরে দেখায় তাদের। কাউকে আবার বেশি সক্রিয় মনে হয়। তাদের খেলায় পরিবর্তনও আসে। এই যখন অবস্থা, কারও মনে প্রশ্ন ওঠে লাঞ্চ ব্রেকে তারা কী খান?
লাঞ্চ ব্রেকের সময় পাস্তা থেকে আইসক্রিম সব থাকে মেন্যুতে
ক্রিকেটপ্রেমীদের মনের মধ্যে আসতে পারে, ভারী খাবারই হয়তো খেয়ে নেন ক্রিকেটাররা। আসলেই কি তাই? আসলে টেস্ট ক্রিকেটে মধ্যাহ্নভোজের জন্য মেন্যুতে রোস্টেড মাংস, রুটি, পাস্তা, ফিস ফ্রাই, মুরগির মাংস, ভাত, প্রোটিন বার, স্পোর্টস ড্রিংকস, আইসক্রিম, চকলেট, কফি, ফলের সালাদ, কলা, স্যুপ, গ্রিন সালাদ, বিভিন্ন সবজি, ড্রাইফ্রুটস ও বিভিন্ন মিষ্টি থাকে।
ভারী খাবার এড়িয়ে যান ব্যাটার ও বোলার
মধ্যাহ্নভোজের মেন্যু দীর্ঘ হলেও ক্রিকেটাররা কী খাবেন তা তারা নিজেরা পছন্দ করেন। সাধারণত ক্রিকেটাররা ভারি খাবার এড়িয়ে চলেন। বেশিরভাগ ক্রিকেটার কলা এবং প্রোটিন বারের মতো সাধারণ কিছু খাবার খান। তারা শক্তি বজায় রাখার জন্য এমনটা করেন। কারণ একটি ভারি দুপুরের খাবার তাদের ২২ গজে অলস করে দিতে পারে। ফিল্ডাররাও খুব ভারি খাবার খান না। তা হলে তাদের দৌড়াতে অসুবিধা হয়।
অনেক সময় যে দেশে টেস্ট ম্যাচ থাকে, সেখানকার বিশেষ ও জনপ্রিয় খাবারও ক্রিকেটারদের জন্য লাঞ্চ ব্রেকে রাখা হয়। আগামীকাল থেকে শুরু হবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের জন্য সেখানেও লাঞ্চ ব্রেকে থাকবে বিভিন্ন খাবার।