বাংলাদেশ দলের সাবেক গোলরক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের এখন করুণ দশা। শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। গত কয়েক মাস ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এখন সব দিক দিয়েই দুরবস্থা। সবকিছু হারিয়ে চিকিৎসাও ঠিকমতো করতে পারছেন না। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ছোট ভাইয়ের একটি ফ্ল্যাটে কোনোমতে জীবন কাটাচ্ছেন ৬০ বছর বয়সী সাবেক ফুটবলার। গুরুতর অসুস্থ এই ফুটবলারকে সাহায্যে এগিয়ে এলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মঙ্গলবার মহসিনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নির্দেশে তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ ব্যাপারে সুজন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শুধু ক্রিকেটারদের জন্য না। যে কোনও ডিসিপ্লিন বলেন বা অ্যাথলেট বলেন, যে কোনও অসুবিধায় পাশে থাকার চেষ্টা করে। এবং মহসিন ভাইয়ের ব্যাপারটাও এমনই। বোর্ড সভাপতির নজরে এসেছে বিষয়টি। ইতোমধ্যে আমাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন উনাকে সার্বিক সহযোগিতার ব্যাপারে।’
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, মহসিনের জায়গা-জমি সংক্রান্ত জটিলতাগুলোও দেখবে বিসিবি, ‘উনার জায়গা জমি সংক্রান্ত কিছু আইনি সমস্যা আছে সেগুলোর ব্যাপারে আমাদের লিগ্যাল অ্যাডভাইজারকে বলেছি। কাগজ-পত্র দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা করার কথা বলেছি।’
তারকা ফুটবলার আশরাফউদ্দিন চুন্নুর হাত ধরে মহসিন আবাহনীতে অনুশীলন করে মোহামেডানে খেলা শুরু করেন। সাদা-কালো জার্সিতে প্রায় অর্ধ যুগ খেলে আবাহনীতে নাম লেখান। সেখানে সফলতার ছাপ রাখেন। এরপর খেলেন মুক্তিযোদ্ধায়। ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলেও দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত গোলপোস্টের নিচে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার ফুটবলার দারুণ পারফরম্যান্স করে একসময় জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারও পেয়েছেন। খেলা ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মহসিন। সেখানে ভালোই ছিলেন। তবে একসময় স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ঢাকায় ফিরে আসেন, অনেকটা নিঃস্ব হয়ে।