আফগানিস্তানের পেস আক্রমণ শক্তিশালী বলে পেসবান্ধব উইকেটে টেস্ট খেলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। স্কোয়াডেও দেখা গেছে সেই ছাপ। দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনারের সঙ্গে স্কোয়াডে আছেন পাঁচ বিশেষজ্ঞ পেসার। শুধু স্কোয়াডেই নয়, টেস্ট শুরুর দুই দিন আগে মিরপুরের উইকেট সবুজ ঘাসে ঢাকা। দূর থেকে মাঠ ও উইকেটকে আলাদা করা বেশ কঠিন। যদিও ম্যাচের আগে ঘাস কিছুটা কমানো হবে। শেষ পর্যন্ত সবুজ ঘাসের উইকেটেই মাঠে নামলে একাদশে দুইয়ের বেশি পেসার দেখার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সাকিব আল হাসানের ইনজুরিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়া লিটন দাস সেটাই জানিয়ে গেলেন।
সোমবার বৃষ্টির কারণে কোনও দলই ঠিকঠাক অনুশীলন করতে পারেনি। আফগানরা সকাল দশটা থেকে অনুশীলন শুরু করলেও বৃষ্টির কারনে ঠিকমতো শেষ করতে পারেনি। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা তো অনুশীলনেই আসেননি। কেবলমাত্র অধিনায়ক লিটন এসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানেই লিটন জানিয়ে গেছেন ঘাসের উইকেটে দুই পেসারের বেশি নিয়েই মাঠে নামবে তারা, ‘মিরপুরে যখন খেলা হয়, তখন স্পিন উইকেটেই খেলা হয়। আমাদের চ্যালেঞ্জ এটাই যে, ঘাসের উইকেটে কেমন খেলি। আমরা কীভাবে এখানে টিকে থেকে বড় স্কোর করতে পারি সেটাই দেখার ব্যাপার। এরকম দলের সঙ্গে এমন উইকেটে খেলতে চাওয়াই স্বাভাবিক। আপনি যখন ঘাসের উইকেটে খেলবেন, দুইয়ের বেশি পেসার খেলানোর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।’
মিরপুরে এখন থেকে কি ঘাসের উইকেটেই খেলবেন? এমন প্রশ্নে লিটন বলেছেন, ‘আপাতত এই সিরিজেই। দেখেন এটা নির্ভর করে আপনি কোন উইকেটে খেলতে চাইছেন। যদি ভারসাম্যপূর্ণ উইকেটে খেলেন তাহলে আপনার পাঁচটা বোলার লাগবেই। আমি সব সময় তেমন উইকেটে পাঁচ বোলার রাখাটাই সমীচীন মনে করি।’
বুধবার থেকে শুরু হওয়া ঢাকা টেস্টে টস গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে বলে মনে করেন লিটন, ‘প্রথমত, যে কন্ডিশন দেখছি, ওভারকাস্ট, স্বাভাবিক বিষয় যে কোনও দল কোন সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আপনারাও বলে দিতে পারেন। সিমিং কন্ডিশন হবে, ওভারকাস্ট কন্ডিশনে সেটার ফায়দা প্রথম ঘণ্টায় সবাই তুলতে চাইবে। ’
চার বছর আগে চট্টগ্রামে রশিদ খানের কাছেই পরাস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার আফগান লেগস্পিনার নেই। বাংলাদেশের জন্য কতটা স্বস্তির? প্রশ্নটা শেষ হতেও দেননি লিটন, ‘রশিদ থাকলেও যতটা সিরিয়াসভাবে নিতাম, না থাকায়ও আমরা একইভাবে এগোবো। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদেরও বিরতি পড়েছে। সর্বশেষ আমরা এপ্রিলে খেলেছি। তারপর একটা সাদা বলের সংস্করণ খেলেছি আমরা। আমার মনে হয় তাদের চেয়ে আমরা একদিক দিয়ে ভালো, আমরা নিয়মিত টেস্ট ক্রিকেট খেলছি, আমাদের ম্যাচিউরিটি লেভেলও বেশি। কারণ আমরা ক্রিকেটাররা অনেক টেস্ট ক্রিকেট খেলি এখন।’
আফগানিস্তানকে হারাতে বিশেষ পরিকল্পনাও আছে বলে তিনি জানালেন, ‘দিন শেষে আপনি যখন মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলবেন না, বাস্তবায়ন করতে পারবেন না তখন কিন্তু এটা নেতিবাচকভাবে কাজ করবে। অবশ্যই তাদের (আফগানিস্তান) ক্রিকেটারদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম। কারণ তারা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বেশি খেলেছে। এটা দিয়ে টেস্ট ক্রিকেট বিচার করাটাও কঠিন। আমাদের মাথায় একটা পরিকল্পনা আছে, সেটা যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি অবশ্যই ভালো কিছু হবে।’
আফগানিস্তানের টেস্ট দলে নতুন মুখের ছড়াছড়ি। চার বছর আগে খেলে যাওয়া দলটিতে পরিবর্তন এসেছে অনেক। ৮ জন ক্রিকেটার আছেন, যারা বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ছিলেন না। এছাড়া ৫ জন আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। নতুন এই ক্রিকেটারদের শক্তি কিংবা দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য। তবে লিটন জানালেন যতটুকু সম্ভব ধারণা নিয়ে ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে চায় বাংলাদেশ, ‘যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে, তাদের সম্পর্কে ধারণাটা থাকে। কিন্তু নতুন মুখ হলে দেখার একটাই সুযোগ থাকে, যে ফরম্যাটগুলো তারা খেলেছে, ওয়ানডে টি টোয়েন্টি, আপনি একটা বোলারের অ্যাকশন ছাড়া আর বেশি কিছু দেখতে পাবেন না। তার সেরা সেরা ডেলিভারিগুলোই আমরা দেখি। সে কী কী করতে পারে, এটা দেখি। এ ছাড়া আমাদের সামনে পথ খোলা নেই আর। ’
বিগত কয়েক টেস্টে বাংলাদেশের প্রচুর ক্যাচ মিস হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিসের ফলে বেশ কিছু ম্যাচে মোমেন্টাম চলে গেছে প্রতিপক্ষের হাতে। ক্যাচ প্রসঙ্গ উঠতেই লিটন বিরক্ত প্রকাশ করলেন, ‘কঠিন প্রশ্ন ভাই। এত এত জ্ঞান আপনাদের কাছে। আমি আসলে এগুলো নিয়ে চিন্তিত না। ক্যাচ মিস করা বিষয়টা হচ্ছে, আপনি যখন নিয়মিত ক্যাচ মিস করছেন, আস্তে আস্তে দিন দিন পেছনের দিকে যাচ্ছেন। যে জায়গায় হয়তো আপনি কেউ একটা দুইটা উইকেট আগে নিতে পারতেন, সে জায়গায় পেছনে যাচ্ছেন। আমরা অনুশীলন করছি। অনেক কষ্ট করছি। কষ্ট করতে করতে একটা সময় কেষ্ট মেলবে। ওই আশাতেই আছি। পরিশ্রম করছি।’