টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ বেশ অভিজ্ঞ দল। এখন পর্যন্ত ১৩৭টি ম্যাচ খেলেছে তারা। সেই তুলনায় আফগানিস্তান নবীন দল। সব মিলিয়ে ছয়টি টেস্ট খেলেছে তারা। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে নিজেদের সপ্তম ম্যাচ খেলতে নামবে আফগানরা। খুব স্বাভাবিকভাবেই অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের ফেভারিট হয়েই মাঠে নামার কথা। কিন্তু আফগানিস্তান প্রধান কোচ জনাথন ট্রট সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেলেন, মাঠের খেলায় অভিজ্ঞতার কোনও মূল্য নেই।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এসে ট্রট ম্যাচ নিয়ে বলেছেন, ‘ঘরের মাঠে খেলা যে কোনও দলের জন্য বাড়তি সুবিধা। তাছাড়া বাংলাদেশ দল অনেক টেস্ট খেলেছে, তারা অভিজ্ঞ দল হিসেবে কিছু সুবিধা পাবে। তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলবে। আমরা সত্যিই ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি, খেলোয়াড়রা অসাধারণ ট্রেনিং করেছে। তারা বাংলাদেশে টেস্ট খেলা নিয়ে রোমাঞ্চিত। অতীতে যা ঘটেছে, কে ফেভারিট কিংবা কন্ডিশন কার পক্ষে, সেটা নির্ভর করে কাল কী ঘটবে এবং কে সেরাটা দেয়। আমার কাজ হলো কালকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টের জন্য সবাইকে প্রস্তুত রাখা।’
এমনিতেই নতুন টেস্ট খেলুড়ে দেশ আফগানিস্তান। তার মধ্যে দলটিতে লম্বা সংস্করণে খেলার অভিজ্ঞতা খুব বেশি ক্রিকেটারের নেই। চার বছর আগে বাংলাদেশ সফর করা দলটিতে আটটি পরিবর্তন আছে। স্কোয়াডের ৬ জন আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। সবমিলিয়ে তাই আফগানিস্তানের জন্য লড়াইটা একেবারে সহজ হবে না।
ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ট্রট জানালেন, ‘বাংলাদেশ একসময় নবীন ছিল, এখন টেস্ট দলগুলোকে হারাচ্ছে। এই লক্ষ্য থাকা জরুরি। আমাদের ক্রিকেটাররা এই ফরম্যাটকেই (টেস্ট) সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। দলে এমন অনেকে আছে যারা সাদা বলে খেলেনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তাদের জন্য নতুন। ব্যাপারটা চ্যালেঞ্জিং, তবে কোচিং প্যানেলের জন্য রোমাঞ্চকর। বাংলাদেশে খেলা যে কোনও দলের জন্যই কঠিন।’
২০১৯ সালে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলে বাংলাদেশ। ওই টেস্টে আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খানের জুজুতে পরাস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার তিনি নেই। তাকে মিস করবনে বলে জানালেন আফগানিস্তান কোচ, ‘রশিদের মতো অভিজ্ঞ একজন না থাকাটা আমাদের জন্য কঠিন ব্যাপার। তাকে অবশ্যই মিস করবো। তবে সামনে অনেক খেলা আছে, এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ আছে। বিশ্রামও তাই জরুরি।’
ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার হওয়ায় ট্রটকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইংল্যান্ড তো আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে, আফগানরাও কি সেই মানসিকতায় খেলবে? আফগানিস্তানের কোচের উত্তর, ‘কোনও দল আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে, কেউ রক্ষণাত্মক। ২৭ মাস পর আমরা টেস্ট খেলবো। তাই কোন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট আমরা খেলবো, সেটা নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। একটি টেস্ট খেলুড়ে দল হিসেবে আমরাও টেস্ট খেলতে উন্মুখ। সাদা বলের ক্রিকেটে আফগানিস্তান অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হয়ে উঠেছে।’