কোহলির মুখে মুস্তাফিজ স্তুতি

কোহলির মতে বাংলাদেশের জন্য বড় ফ্যাক্টর হবেন মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের বিপক্ষে গত বছর ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় ‘বিস্ময় বালক’ মুস্তাফিজুর রহমানের। এরপর থেকেই শুরু হয় তার চমক। অবশ্য এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নেমেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই ক্রিকেট বিশ্বে বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক। গত জুনে ভারতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতার পেছনে মূল অবদান কাটার খ্যাত মুস্তাফিজের।
বুধবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে আসেন টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তার কণ্ঠে স্তুতি ঝরেছে মুস্তাফিজকে নিয়ে। কোহলির মতে বাংলাদেশের জন্য বড় ফ্যাক্টর হবেন মুস্তাফিজুর রহমান।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ গত এক বছরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। এতো অল্প বয়সী একজন বোলারকে এভাবে বোলিং করতে দেখাটা সত্যিই রোমাঞ্চকর। আমার বিশ্বাস এই টুর্নামেন্টেও বাংলাদেশের জন্য মুস্তাফিজ হতে যাচ্ছে বড় ফ্যাক্টর।’

এশিয়া কাপে মুস্তাফিজকে সামলানোর জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ঠিক সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন কোহলিরা। তবে সেইসব সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করলেন না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো কন্ডিশনে একজন পেসার যদি ৪-৫ উইকেট নিয়ে ব্যাটসম্যানদের বিপাকে ফেলতে পারে, তখনই খেলাটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠে। এই ছেলেটার (মুস্তাফিজের) আলাদা এক ধরনের স্কিল আছে। আমাদের সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে, তাকে সামলানোর জন্য ভিন্ন যা কিছু করার করতে হবে।’

গত বছর মুস্তাফিজের অসাধারণ বোলিং ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ গুড়িয়ে দিয়েছিল। আগের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৪০ কি.মি.-এর কাছকাছির গতির সঙ্গে স্লোয়ার বল করছিল মুস্তাফিজ। আমাদের জন্য এটা ছিলো ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।’

এই ধরনের বোলারদের বিপক্ষে ব্যাটিং করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিরাট কোহলি। তিনি বলেন, ‘এমন বোলারের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং আরও বিকশিত করা সম্ভব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মুস্তাফিজের মতো বোলাররা ক্রিকেটের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু বোলার থাকা জরুরি যারা ব্যাটসম্যানদের বিপাকে ফেলতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত বছর জুনে ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। ওখানে সিরিজ জিততে ভূমিকা রেখেছিলেন মুস্তাফিজ। নিজের অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেটের পর, দ্বিতীয় ম্যাচেও নিয়েছিলেন ৬টি উইকেট। এরপর দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। সব মিলিয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ উইকেট। অন্যদিকে ৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে মুস্তাফিজ উইকেট নিয়েছেন দশটি।

/আরআই/এফআইআর/