বাবার স্বপ্ন পূরণে ক্রিকেটকে বেছে নিয়েছিলেন তামিম

সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়ে হুট করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। যার জন্য কেউই তৈরি ছিলেন না। সকাল থেকে গুঞ্জন ছিল তামিম হয়তো নেতৃত্ব ছাড়বেন। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে কান্নাভেজা কণ্ঠে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

 

অবসর ঘোষণার পরই তামিম নিজের বাবা ইকবাল খানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। মাত্র ১১-১২ বছর বয়সে এই ওপেনার বাবাকে হারিয়েছেন। অথচ বাবা ইকবাল খানের অনুপ্রেরণাতেই এতদূর এসেছেন তিনি। বিদায়বেলায় বাবাকে স্মরণ করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এই ওপেনার, ‘আমি সবসময় বলেছি, ক্রিকেটটা আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য। জানি না, তাকে কতটুকু গর্বিত করতে পেরেছি। সেটার জন্য ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়েছি।’

শুধু বাবা নন, ছোট চাচা প্রয়াত আকবর খানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘আমার ক্রিকেট জীবনে এমন অনেক মানুষ জড়িয়ে আছেন যাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার ছোট চাচা আকবর খান, যিনি কিছু দিন আগে মারা গেছেন। তার হাত ধরেই আমার প্রথম কোনও ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলা। তাকে এবং তার পরিবারকে ধন্যবাদ। তপন দা নামে একজন কোচ আছেন, যার কাছে আমি ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট শিখেছি। তাকেও ধন্যবাদ।’

কথাগুলো বলার সময় কান্নায় ধরে আসে তামিমের গলা। কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে চোখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারপর ধন্যবাদ জানান সতীর্থসহ পথচলার সঙ্গীদের, ‘ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় সব সতীর্থ, কোচ, বিসিবির কর্মকর্তাগণ, আমার পরিবার ও যারা আমার পাশে ছিলেন এবং আমার ভক্ত-সমর্থক, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনুসারী, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সবার অবদান ও ভালোবাসায় আমি চেষ্টা করেছি সবসময় দেশের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে।’

১৬ বছর দাপটে ক্রিকেট খেলেছেন। বাংলাদেশের জার্সিতে তামিমের গড়া সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক রানের রেকর্ড আরও কয়েক বছর নিশ্চিতভাবেই টিকে থাকবে। বিদায় বেলায় অবসর-পরবর্তী জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি, ‘জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।’