প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে ভারতের নারী ক্রিকেট দল। এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশ সফর হলেও সেগুলো ছিল কেবল মহাদেশীয় কিংবা বৈশ্বিক প্রতিযাগিতা। এবারই প্রথম দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে। শক্তিশালী দল নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছে তারা। খেলবে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি। অভিজ্ঞতা ও শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকলেও ভারত সমীহ করছে বাংলাদেশকে।
শনিবার ট্রফি উন্মোচন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। স্বাগতিক বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত যে কতটা সতর্ক সেই বার্তা সংবাদ সম্মেলনে দিয়ে গেছেন তিনি। তার বক্তব্য, ‘বাংলাদেশ ভালো দল। তারা সব সময়ই নিজেদের কন্ডিশনে ভালোমানের ক্রিকেট খেলে। এটা আমাদেরকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে এবং সেভাবে আমরা প্রস্তুতও আছি। আমরা দুই-তিন দিন নিজেদের প্রস্তুতির সময় পেয়েছি এবং প্রতিটি বিভাগেই কাজ করেছি। আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার অপেক্ষায় আছি। আশা করছি পুরো দল একসঙ্গে খেলতে পারবো এবং নিজেদের সেরাটা দিতে পারবো।’
বাংলাদেশ দল আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছে বলে মনে করেন হারমানপ্রীত। সাফল্যের জন্য অপেক্ষা না করে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরামর্শ দিলেন ভারতীয় অধিনায়ক, ‘দেখুন আমরা আজকের অবস্থানে এসে সবসময়ই ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করি। প্রতিটি দলই আসলে দিনকে দিন উন্নতি করার চেষ্টা করে। তারাও তাদের সামর্থ্য দেখানোর চেষ্টা করে। আমাদের থেকে যা প্রত্যাশা করা হচ্ছিল তা আমরা করেছি। ভালো দলগুলোর বিপক্ষেও ভালো খেলেছি। বাংলাদেশও বেশ ভালো দল। তারা যখন ভালো ক্রিকেট খেলে তারাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আমরা আমাদের প্রক্রিয়ায় থাকতে চাই যেগুলো আমাদের সাফল্য পেতে ভূমিকা রাখে। নিজেদের দিকে মনোযোগ রাখতে চাই, এটা ভাবতে চাই না যে কে ভালো, কে খারাপ। আমরা ভালো খেলার দিকে মনোযোগ রাখতে চাই, এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’
১১ বছর পর বাংলাদেশের মেয়েরা মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সফরে বহুবার এলেও এই মাঠে এই প্রথম খেলবে ভারত। মিরপুরের উইকেট কিছুটা স্লো হয়ে থাকে। হারমানপ্রীত উইকেট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা বললেন এভাবে, ‘দেখুন এশিয়ান কন্ডিশনে আমরা প্রায়ই টার্নিং উইকেট পেয়ে থাকি। কিন্তু এখানে যতটুকু শুনেছি খুব ভালোমানের উইকেট পাবো। এটাই আমরা প্রত্যাশা করছি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আপনি সব সময়ই একটা ভালো ব্যাটিং উইকেট চাইবেন এবং আশা করছি আগামীকাল উইকেট ভালো আচরণ করবে, তাতে আমরা বড় সংগ্রহ পাবো। যেটা আমরা পরিকল্পনা করছি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবো।’
স্বাগতিক দর্শকদের চাপ কোনও প্রভাব ফেলবে না মনে করেন ভারতের এই অধিনায়ক, ‘আমরা দর্শকের চাপ নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এটা আমাদের প্রভাব ফেলবে না। দর্শকরা যখন মাঠে আসে এবং যে কোনও দলকে সাপোর্ট করে সেটা আমাদের কাছে ভালো লাগে। আমি জানি, বাংলাদেশের দর্শকরা ক্রিকেট ভালোভাসে এবং তারা ভালোমানের ক্রিকেটকে গ্রহণ করবে। মাঠে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে উপভোগ করবো।’