সিনিয়র ব্যাটারদের ওপর চটেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক

ভারতের বিপক্ষে নারী দলের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হয়েছে হার দিয়ে। রবিবার মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এমন হারের পর দলের সিনিয়র ব্যাটারদের দিকে আঙুল তুললেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। 

বোলিং-ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ দারুণ করলেও ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে উন্নতি করতে পারছে না। এই নিয়ে প্রচুর কাজ হলেও মাঠে সেসবের বাস্তবায়ন নেই। বিশেষ করে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাচ্ছেন না অধিনায়ক। ১২০ বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রায় সময়ই ইনিংসের অর্ধেক বলই ছেড়ে দেন। রবিবারও সেই একই দশা, ৬২টি ডট বল। এখানেই বিরক্ত প্রকাশ করেছেন দলের অধিনায়ক। বিশেষ করে সোবহানা মোস্তারি ও শারমিন সুলতানার মতো সিনিয়ররা স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারায় হতাশ তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে, ইন্টেন্টের একটা অভাব ছিল। আমাদের ওই পরিস্থিতিতে কী করতে হবে সেটা বারবার কোচিং স্টাফরা প্র্যাকটিস করাচ্ছেন। কেন পারছি না? ভেতর থেকে একটা বিষয় থাকেই। অনেক সময় ভিন্ন কিছু খেলোয়াড়ের চাপ কাজ করে। যখন দুই একটা বল ডট হয়ে যায়, সেটাকে পুষিয়ে নিতে গিয়ে আরও দুটা বল ডট হয়ে যায়। এভাবে হয়ে যাচ্ছে। যখন স্বর্ণা এই কাজটা করছে বা অনূর্ধ্ব-১৯ খেলে আসছে, তাদের জন্য সেটা ঠিক আছে। তাদের জন্য ওকে। হয়তোবা ওপর লেভেলের ক্রিকেটটা একটু খেলছে। কিন্তু যারা নিয়মিত বাংলাদেশের হয়ে খেলছে তাদের কাছ থেকে এমন ব্যাটিং একটু হতাশা হবেই।’

ব্যাটারদের স্কিলের ঘাটতির প্রশ্নে নিগার বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় স্কিল তো আছে। স্কিলফুল তারা। অবশ্যই সম্ভাবনা আছে। তাই তো জাতীয় দলে তারা খেলছে। অনেকদিন ধরে। সমস্যাটা হচ্ছে, আমার কাছে মনে হয়, এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দেরকে বের হয়ে আসতে হবে। যখন একটা খেলোয়াড় ভালো একটা শুরু পায়, সে কেন ২৫ এর পরে আউট হবে। তাকে ইনিংসটা অবশ্যই এগিয়ে নিতে হবে। শট বাছাইয়ে আরেকটু চিন্তা ভাবনা করতে হবে।’

মিডল অর্ডার ব্যাটার সোবহানার কথা বলতে গিয়ে নিগারের মত, ‘সোবহানা অনেক স্কিলফুল ব্যাটার। ও যেভাবে খেলে। সবদিক থেকে শট আছে। ও সংগ্রাম করছিল। একটা বল সংযোগ করতে পারছিল না। হয়তো পরের বল হিট করতে যাচ্ছে। টাইমিংয়ের ওপর চিন্তা করছিল না। এটা যদি ভালো করে, ওর কাছ থেকে আরও ভালো স্ট্রাইকরেটটা উন্নত হয়, তাহলে মিডল অর্ডারে রানটা একটু বেশি আনতে পারবো।’ 

শুধু এটাই না, মেয়েদের ক্রিকেটে রান আউট যেন নিয়মিত ঘটনা। আজকের ম্যাচেও দুটি রান আউট হয়েছে। বিশেষ করে অধিনায়ক নিগারের রান আউটের মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। এনিয়ে তিনি বলেছেন, ‘রান আউট কিন্তু সব সময় একটা দলের জন্য উৎকণ্ঠার জায়গা। একটা রান আউট হলে টিমের মধ্যে কিন্তু একটা নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে। সুতরাং সেটা যত এড়ানো যায় তত ভালো।’

নিগার মনে করেন তার রান আউটের কারণে স্কোরবোর্ডে কিছু রান কম উঠেছে। ওটাই ম্যাচের মোমেন্টামকে বদলে দিয়েছে, ‘দেখেন সাধারণত আমি যেখানে ব্যাটিং করি, আমার যে দায়িত্বটা থাকে আমি একটা ইনিংস গড়ি এবং শেষও করি। সেক্ষেত্রে বলবো যে, একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হতে পারে আমার রান আউট।’

২ রানে রান আউট হওয়ার পর নিজের ওপর রাগ ঝারেন নিগার। ব্যাট ছুড়ে মেরে ফিরে আসেন সাজঘরে। কার কল ছিল এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘আসলে কলটা নন স্ট্রাইকারের ছিল। আমাকে কল করার জন্য বের হয়ে গিয়েছি। এখন এটা হয়ে গেছে দুর্ভাগ্যক্রমে। আমি জানি আমার উইকেটের মূল্যটা কী। ওই জায়গাটায় আমি খেললে টিম আরেকটু কিছু পেতো। আমি জানি ব্যাটার হিসেবে আমার ভূমিকা কী- টপ অর্ডার। ভালো করতে পারিনি, হতাশ ছিলাম।’

১১ বছর পর মিরপুরে খেললো বাংলাদেশের মেয়েরা। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো এই মাঠে খেললেন নিগার। কোনও চাপ কাজ করছিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘আসলে ওইভাবে তো কোনও চাপ কাজ করেনি। আমাদের ওখানে খেলা একটা খেলা। একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলছি।’