কাছে, তবুও কত দূরে। ভারতকে ৯৫ রানে থামিয়ে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করলো স্বাগতিকরা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১০ রানের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ নিতে পারে মোটে ১ রান, হারায় চারটি উইকেট। তাতে ৮ রানে ম্যাচ হেরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খোঁয়ালো নিগার সুলতানার দল।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ভারতকে কোণঠাসা করে ফেলে বাংলাদেশ। সফরকারীদের ৯৫ রানের থামিয়ে সহজ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা হতাশ করেছেন। একমাত্র নিগার ছাড়া দলের অন্য কোনও ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ছোট লক্ষ্যের বিপরীতে ঠিক যেমন পরিকল্পনা করে ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন ছিল, সেটি পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বিশেষ করে কনকাশন সাব হিসেবে সোবহানা মোস্তারির বদলে মাঠে নামা মোর্শেদা খাতুনও সুবিধা করতে পারেননি।
৩০ রানে চার উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক নিগার ও মোর্শেদা মিলে ৩৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। তবে মোর্শেদা ছিলেন বেশ ধীর। ১৫ বলে তার সংগ্রহ ৪ রান। তরুণ ব্যাটার স্বর্ণা আক্তারও প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি, নিগারের সঙ্গে জুটি বাঁধলেও ১৭ বলে ৭ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হয়েছেন তিনি।
তারপরও নাহিদাকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের পথেই এগিয়ে যাচ্ছিলে বাংলাদেশ দল। কিন্তু ১৯তম ওভারে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে স্টাম্পিং হন অধিনায়ক নিগার। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৮৫, জয়ের জন্য ১০ রান প্রয়োজন ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু শেষ ১ রানে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৭ রানে অলআউট হয়। নিগার ৫৫ বলে ২ চারে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন।
ভারতের বোলারদের মধ্যে দীপ্তি শর্মা ও শেফালি ভার্মা তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া মিনু মানি নেন দুটি উইকেট।
এর আগে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৯৫ রান করতে পারে ভারত। এই নিয়ে ১৪ বারের মতো কুড়ি ওভারের ক্রিকেট একশোর নিচে থামলো র্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বরে থাকা দলটি।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল ভারতের মেয়েরা। কিন্তু বাংলাদেশের দারুণ বোলিংয়ের পাশাপাশি দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে ভারত। স্মৃতি ও শেফালি মিলে ওপেনিং জুটিতে ৩৩ রান তোলেন। ১৩ বলে ১৩ রান করে নাহিদার ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে বোল্ড হন স্মৃতি।
এরপরই মোড়ক লাগে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে। ওই স্কোরেই আরও দুটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর গোল্ডেন ডাক মারেন সুলতানা খাতুনের বলে। টপ অর্ডারে ব্যাটারের পর মিডল অর্ডার ও লেট অর্ডারের কেউই বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেননি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান আসে শেফালির (১৯) ব্যাট থেকে। এছাড়া আমানজট কৌরের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রানের ইনিংস।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল বোলার সুলতানা খাতুন। ২১ রান খরচায় তার শিকার তিনটি উইকেট। এছাড়া ফাহিমা খাতুন ১৬ রানে খরচায় নেন দুটি উইকেট। মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।