সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৫৭/৮ (হৃদয় ৪৭*, শরিফুল ৪*, নাসুম ০, তাসকিন ০, মিরাজ ৮, শামীম ৩৩, সাকিব ১৯, লিটন ১৮, শান্ত ১৪, রনি ৪) লক্ষ্য ১৫৫ রান।
আফগানিস্তান ২০ ওভারে ১৫৪/৭ (নবী ৫৪*, মুজিব ০*; রশিদ ৩, ওমরজাই ৩৩, নাজিবউল্লাহ ২৩, জানাত ৩, ইব্রাহিম ৮, গুরবাজ ১৬, জাজাই ৮)
ফল: বাংলাদেশ ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: তৌহিদ হৃদয় ৩২ বলে ৪৭*।
১০ বলে ১৮ রান দূরে থাকতে শামীম হোসেন আউট হন। তৌহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ওই ধাক্কা কাটায় বাংলাদেশ। হৃদযের বাউন্ডারিতে ১৯ ওভারে স্কোর ৫ উইকেটে ১৪৯ রান। শেষ ওভারে করিম জানাতের প্রথম বলে চার মেরে সহজ জয়ের ইঙ্গিত দেন মিরাজ। কিন্তু নাটক জমে ওঠে পরের বল থেকে। দ্বিতীয় বলে মিডউইকেটে মোহাম্মদ নবীর ক্যাচ হন মিরাজ। পরের বলে তাসকিন আহমেদ ক্যাচ দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজকে। এরপর নাসুম আহমেদকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন জানাত। ডিপ থার্ডে ফরিদ আহমেদের ক্যাচ হন নাসুম। শেষ ২ বলে দরকার ২ রান। স্ট্রাইকে শরিফুল ইসলাম, চাপে বাংলাদেশ। তবে হতাশ করেননি তিনি। চাপ উড়িয়ে পঞ্চম বলে বাউন্ডারি মারেন। তাতে ২ উইকেটে জিতে গেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো স্বাগতিকরা। ৮ উইকেটে রান ১৫৭। ৩২ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়।
দারুণ খেলে আউট শামীম
৪৩ বলে তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়ে মাঠ ছাড়লেন শামীম হোসেন। ২৫ বলে ৩৩ রান করে রশিদ খানের বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজের ক্যাচ হন।
আগামী রবিবার সিলেটে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
হৃদয়-শামীমে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ
৬৪ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেছেন শামীম হোসেন ও তৌহিদ হৃদয়। বল বুঝে খেলছেন তারা। সুযোগ বুঝে বাউন্ডারিও হাঁকাচ্ছেন। ১৩তম ওভারে দুজনে মিলে ২১ রান তোলেন। তাতে বাংলাদেশ ১০০ তে পৌঁছে গেছে।
১৬তম ওভারে এই জুটির পঞ্চাশ হয়েছে। একই ওভারে নাজিবউল্লাহ জাদরানের হাতে জীবন পান হৃদয়, ২৮ রানে। তাদের জুটিতে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। শেষ ৩ ওভারে ১৯ রান দরকার।
প্যাভিলিয়নে সাকিব
বৃষ্টির পর মাঠে নেমে সাকিব ফরিদ আহমেদের ওভারে দুটি চার মারেন। রশিদ খানকেও ছেড়ে দেননি। বাউন্ডারি মারেন। ঝড় তোলা শুরু করতেই প্যাভিলিয়নে ফিরলেন তিনি। ফরিদের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে বা্উন্ডারির সামনে করিম জানাতের ক্যাচ হন সাকিব। তার নামের পাশে ছিল ১৯ রান। ৬৪ রানে চার উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
বৃষ্টি শেষে শুরু খেলা
বৃষ্টিতে ১৭ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। আবার মাঠে নেমেছে দুই দল। সাকিব আল হাসান ও তৌহিদ হৃদয় ক্রিজে। বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৪১ রান।
সিলেটে বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা
রশিদ খান বল হাতে নিলেন। তার দুটি বল পরই বৃষ্টি নামলো সিলেটে। কভার দিয়ে ঢাকা হলো পিচ। সাড়ে আটটার কিছু পরেই বৃষ্টির কারণে বন্ধ হলো খেলা। বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৪১ রান।
শর্ট বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে লিটন
সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে লিটন দাসকে ফেরালেন আজমতউল্লাহ ওমরজােই। তার শর্ট বলে মিড অফে রশিদ খানের সহজ ক্যাচ হন ওপেনার। ১৯ বলে ১৮ রান করেন লিটন। ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৩৭ রান বাংলাদেশের
১৫৫ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান করেছে। প্রথম ওভারে রনি তালুকদার আউট হন। ষষ্ঠ ওভারে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৪ রান করেন তিনি।
দুর্ভাগ্যজনক আউটে শান্ত প্যাভিলিয়নে
আগের ওভারে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ছক্কা মারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দুর্ভাগ্যজনক আউট হলেন তিনি। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মুজিব উর রহমানের বল তার বাঁ হাতের উপরের দিকে লেগে অফ স্টাম্পে আঘাত করে। ১২ বলে ১৪ রানে বিদায় নেন তিনি।
প্রথম ওভারেই উইকেট হারালো বাংলাদেশ
প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন লিটন দাস। পরের দুটি বল দেখেশুনে খেলেন রনি তালুকদার। চতুর্থ বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। তারপর আর দুই বল ছিলেন ক্রিজে। ষষ্ঠ বলে বোল্ড হন রনি। তাকে ফেরান ফজল হক ফারুকী।
বাংলাদেশের চাই ১৫৫ রান
ডেথ ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন আফগানিস্তানের দুই ব্যাটার মোহাম্মদ নবী ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তাতে শুরুতে দারুণ বোলিং করলেও চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে হচ্ছে স্বাগতিকদের। শেষ চার ওভারে বাংলাদেশ হজম করেছে ৫৩ রান। এই সময়ে মোস্তাফিজ তার দুই ওভারে ১৪ ও ১১ রান দেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান দেন সমান ১৪টি করে রান। ৭ উইকেটে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১৫৪ রান।
ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতে হাফ সেঞ্চুরি করেন নবী। মোস্তাফিজুর রহমানকে চার মেরে ৩৯ বলে পঞ্চাশ ছোঁন তিনি। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে রশিদ আউট হন নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ হয়ে। ৩ রান করেন তিনি। ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন নবী। ৪০ বলের ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ১ ছয়। তার সঙ্গে আজমতউল্লাহ ওমরজা্ইয়ের ৩৩ রানের ক্যামিও আফগানদের সম্মানজনক স্কোর এনে দেয়।
ঝড় তুলে সাকিবের শিকার ওমরজাই
সাকিব আল হাসান প্রথম দুই বলে ছক্কা হজম করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের কাছে। শেষ বলে তাকে থামালেন বাঁহাতি স্পিনার। ১৮ বলে ৬ চারে ৩৩ রান করে তাসকিন আহমেদের ক্যাচ হন আফগান ব্যাটার। ৩১ বলে ৫৬ রানের জুটি ভেঙে যায়।
খরুচে তাসকিন-মোস্তাফিজ
ডেথ ওভারে মোহাম্মদ নবী ঝড় তুলেছেন। তাসকিন আহমেদ ১৭তম ওভারে ১৪ রান দেন। একটি করে ছক্কা মারেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মোহাম্মদ নবী। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানও সমান রান দেন। ছয় মারেন ওমরজাই, চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মারেন নবী।
লিটনের কঠিন ক্যাচে মিরাজের ব্রেকথ্রু
২ রানে চার উইকেট পড়ার পর নাজিবউল্লাহ জাদরান ও মোহাম্মদ নবী প্রতিরোধ গড়েন। এই জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু আনলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নাজিবউল্লাহ জাদরানের ব্যাট ছুঁয়ে বল ভিন্ন গতিপথে এগোলেও ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বল গ্লাভসে জমান লিটন দাস। ৩৫ রানের জুটি ভেঙে যায়। ৮৭ রানে ৫ উইকেট পেলো বাংলাদেশ।
প্রথম ওভারেই সাকিবের সাফল্য
পাওয়ার প্লের পর শরিফুল ইসলাম বল হাতে নিয়েই মোহাম্মদ নবীর কাছে দুটি চার হজম করেন। বল হাতে নেন সাকিব আল হাসান। প্রথম ওভারেই সাফল্য মিললো। বাংলাদেশের অধিনায়ক ফেরালেন করিম জানাতকে। ৩ রানে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ হন আফগান ব্যাটার। ৫২ রানে চতুর্থ উইকেট লো বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের দাপট
পাওয়ার প্লেতে দারুণ করলো বাংলাদেশ। তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানকে চেপে ধরেছে স্বাগতিকরা। ৪০ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা্
নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন।
লিটনকে ক্যাচ তুলে দিলেন ইব্রাহিম
শরিফুল ইসলাম প্রথম ওভারেই পেলেন সাফল্য। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে ইব্রাহিম জাদরানকে ফেরান বাংলাদেশি পেসার। তার বল বুঝতে না পেরে লিটন দাসকে সহজ ক্যাচ দেন। যেন লিটনের সঙ্গে ক্যাচ প্র্যাকটিস করছেন তিনি। বাংলাদেশ সফরে চতুর্থবার শরিফুলের শিকার হলেন ইব্রাহিম। ৬ বলে ৮ রান করেন তিনি। ৩২ রানে তৃতীয় উইকেট পেলো বাংলাদেশ।
তাসকিনের শিকার গুরবাজ
রহমানউল্লাহ গুরবাজ ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাকে থামতে হলো বিধ্বংসী হওয়ার আগেই। তাসকিন আহমেদের বলে স্কয়ার লেগে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ হন তিনি। ১৬ রান করেন গুরবাজ। ২৬ রানে বাংলাদেশ পেলো ২ উইকেট।
জাজাইকে আউট করলেন নাসুম
আগের ওভারের শেষ বলে তাসকিন আহমেদকে ছয় মারেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। নাসুম আহমেদের প্রথম বলও ছক্কা হাঁকান হযরতউল্রাহ জাজাই। তবে পরের বলেই তৌহিদ হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১০ বলে ৮ রান করেন আফগান ব্যাটার। ১৬ রানে প্রথম উইকেট পেলো বাংলাদেশ।
দুর্দান্ত ডাইভে বল ধরে রাখতে পারেননি রনি
দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বল। তাসকিন আহমেদের বলে রহমানউল্লহ গুরবাজের শট কভার পয়েন্ট থেকে পেছনে দৌড়ে এসে দুর্দান্ত ডাইভে বল ধরেন রনি তালুকদার। কিন্তু মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর বল ধরে রাখতে পারেননি।
প্রথম ওভারে নাসুম আহমেদ ২ রান দেন।
টসে জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠালো বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি সিরিজের লড়াই শুরু। ওয়ানডে সিরিজ হারের আক্ষেপ ভুলে নতুন শুরুর পালা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুক্রবার সিলেটে টসে জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই দলের একাদশে থাকা রিশাদ হোসেন ও হাসান মাহমুদ নেই আফগানদের বিপক্ষে। মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ঢুকেছেন একাদশে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টির একাদশে থাকা সাদিকুল্লাহ আতাল ও উসমান গনির বদলে জায়গা পেয়েছেন হযরতউল্লাহ জাজাই ও নাজিবউল্লাহ জাদরান।
বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস (উইকেটকিপার), রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তৌহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।
আফগানিস্তান একাদশ: রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটকিপার), হযরতউল্লাহ জাজাই, ইব্রাহিম জাদরান, নাজিবউল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবী, করিম জানাত, রশিদ খান (অধিনায়ক), মুজিব উর রহমান, ফরিদ আহমেদ মালিক, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, ফজল হক ফারুকী।
এবার বাংলাদেশের সামনে টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ
ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো খেলে ওয়ানডে। কিন্তু এই ফরম্যাটেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ দল। শুক্রবার শুরু হচ্ছে তাদের কাছে সবচেয়ে কঠিন ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি। এটা স্বীকৃত কুড়ি ওভারের ক্রিকেট আফগানরা দুর্দান্ত একটি দল। তাই নিশ্চিতভাবে সিলেটে শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ।