হারমানপ্রীতের অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ, আইসিসির কাছে নালিশ করবে বিসিবি

বাংলাদেশ-ভারতের সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে মাঠ এবং মাঠের বাইরে অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরের শিষ্টাচারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি পর্যন্ত যাওয়ার কথা ভাবছেন বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

নাদেল বলেছেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ধরণের প্রশ্ন কেউ তোলেনি। তোলার সুযোগও পায়নি। আমরা তাদের বোর্ডের সঙ্গে বা আইসিসির সঙ্গে কথা বলবো। প্রথমে দেখবো ম্যাচ রেফারি কী রিপোর্ট দেয়। ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট দেখার পরে আইসিসির সঙ্গে কথা বলে বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে যেটা প্রয়োজন সেটা করবো।’

ভারতীয় ইনিংসের ৩৪তম ওভারের ঘটনা। নাহিদা আক্তারের ফুল লেংথ বল সুইপ করার চেষ্টায় করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি হারমানপ্রীত। বল তার প্যাডে লাগা মাত্র উদযাপন করতে শুরু করে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা। আম্পায়ার তানভির আহমেদ আঙুল তুলতে সময় নেননি। আম্পায়ারের আঙুল উঠতে দেখেই ফুঁসে ওঠেন ভারতীয় অধিনায়ক। শুরুতে হাত দিয়ে থাবা মারলেন আরেক হাতে ধরে রাখা ব্যাটে। তখন আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে ছিলেন আগুনে দৃষ্টিতে।

এরপর ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে এতটাই জোরে মারলেন যে, একটি স্টাম্প উপড়ে গিয়ে পড়লো অনেক দূরে! সেখানেই থামেননি তিনি। ক্রিজ ছেড়ে যাওয়ার সময় আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে কিছু বলছিলেন। এরপর ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশেও কিছু বলতে দেখা যায় তাকে। আঙুল উঠিয়ে দেখালেন ‘থাম্বস আপ।’ এখানেই থামতে পারতেন তিনি। কিন্তু থামেননি। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যেন আগের সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেলেন। 

আম্পয়ারিং নিয়ে সমালোচনা করে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে হারমান বলেছেন, ‘আমি মনে করি অনেক কিছু শেখার ছিল এই ম্যাচ থেকে। ক্রিকেট ছাড়াও যে মানের আম্পায়ারিং হয়েছে তাতে আমরা খুবই বিস্মিত। কিন্তু... আমরা সামনে যখন বাংলাদেশে আসবো নিশ্চিত করে আসতে হবে এই ধরনের আম্পায়ারিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে। ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে খেলতে হবে।’

শুধু এমন মন্তব্য করেই থামেননি। গ্রুপ ছবি তোলার আগে আম্পায়ারদেরও ফটোসেশনে আমন্ত্রণ জানান ভারতীয় অধিনায়ক। হারমানের এই কথার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি তার দল নিয়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান। সব মিলিয়ে বিসিবি ক্ষিপ্ত ভারতীয় অধিনায়কের আচরণে। নাদেল প্রশ্ন তোলেন তাদের শিষ্টাচার নিয়ে, ‘ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। এখানে ভালো খেলোয়াড় হওয়ার আগে ভদ্রতা সম্পর্কে এবং ক্রিকেটীয় জ্ঞানটা আগে অর্জন করতে হবে। তারপর আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে মন্তব্য করবো। আমি মনে করি এই জায়গায় ঘাটতি আছে।’