সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোলাররা তো আসলে কাঁপিয়েই দিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের মাত্র ১২৯ রানে আটকে রাখার পর মনে হচ্ছিল এশিয়া কাপের প্রথম অঘটন ঘটাতে যাচ্ছে তারা। কিন্তু দেখা গেল মালিঙ্গা-কুলাসেকারারাও ঝাঁপিয়ে পড়লেন আমিরাতের ওপর। বোলারদের দাপটে কম রানের পুঁজি নিয়েও আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৪ রানের প্রত্যাশিত জয় তুলে নিয়ে এশিয়া কাপের শুভসূচনা করলো গতবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।
এদিন প্রথমে ব্যাট করে আরব আমিরাতের বোলারদের দাপটে মাত্র ১২৯ রান তুলতে সক্ষম হয় লঙ্কানরা। ১৩০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে মালিঙ্গা-কুলাসেকারার বোলিং তোপে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৫ রান তুলতে সক্ষম হয় আরব আমিরাত।
বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ। শুরুটা ভালোই করেছিল শ্রীলঙ্কা। ৯.১ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ রান তুলেন দুই ওপেনার দিনেশ চান্দিমাল ও তিলকরত্নে দিলশান। আমজাদ জাভেদের বলে আউট হওয়ার দিলশান ২৮ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলেন। দলীয় ৭৯ রানে ১১.১ ওভারে সেই আহমেদ জাভেদের বলে আউট হন মিলিন্দা সিরিবর্ধনা (৬)।
কিছুক্ষণ পর দলীয় ৮৯ রানে ফিরে যান চান্দিমালও। আবারও হন্তারক জাভেদ। তার বলে ওসমানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে ৩৯ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কানরা। দলীয় ৯৮ রানে শ্রীলঙ্কার চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে। নাভিদের বলে সাজঘরে ফিরে যান দাসুন শানাকা। দলীয় ১০৫ ও ১১৩ রানে শ্রীলঙ্কার পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। যথাক্রমে আউট হন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও শেহান জয়সুরিয়া।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচে ৪ ওভার বল করে ২৫ রান খরচায় তিনটি উইকেট তুলে নেন আমজাদ জাভেদ। দুটি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নাভিদ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমেই মালিঙ্গার তোপে পড়ে আমিরাত। প্রথম ওভারেই প্রথম ও শেষ বলে আউট হন রোহান মুস্তফা (০) ও মোহাম্মদ শাহজাদ (১)। দলীয় ১৪ রানে তৃতীয়, ১৬ রানে চতুর্থ আমিরাতের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে। কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন শাইমান আনোয়ার। তবে ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফিরে যান তিনিও। ৩৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে আরব আমিরাত। দলীয় ৪৭ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। ফিরে যান সাকলাইন হায়দার।
সপ্তম উইকেট ৩৮ রানের জুটি গড়েন আমজাদ জাভেদ ও স্বপ্নিল পাতিল। দলীয় ৮৫ রানে ফিরে যান আমিরাতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাতিল (৩৭)। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান করে আমিরাত। ফলে ১৪ রানে ম্যাচটি হেরে যায় তারা।
৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। তিনটি উইকেট নিয়েছেন কুলাসেকারা। দুটি উইকেট নিয়েছে হেরাথ।
/এমআর/