সুজনের প্রশ্ন, ‘নির্বাচকরা কি মাহমুদউল্লাহর শত্রু?’

এশিয়া কাপ থেকে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বাদ পড়া নিয়ে তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার ও আব্দুর রাজ্জাক। তবে মাহমুদউল্লাহর বাদ পড়াতে নির্বাচকদের কোনও দায় দেখছেন না সাবেক অধিনায়ক ও বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখানেই মাহমুদউল্লাহর এশিয়া কাপের স্কোয়াডে না থাকা নিয়ে সুজন বলেছেন, ‘আপনারা কি বলবেন, নান্নু ভাই, হাবিবুল বাশার, আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদের শত্রু? কোনও দিনও না। রাজ্জাক আর রিয়াদ তো এক দলেও খেলেছে। এগুলো আসলে ভুল কথা। ওনারা অনেক পরিকল্পনা করেন। সব কিছু তো আমার জানা উচিত না। আমি প্রশ্ন করবো না যে, আপনি কেন রিয়াদকে বাদ দিলেন? যদি বোর্ড পরিচালক, সাবেক অধিনায়ক হিসেবে প্রশ্ন করি, তাহলে এটা তাদের ওপর চাপ দেওয়া হলো, ছোট করা হলো।’

প্রধান নির্বাচককে নিয়ে সুজন বলেছেন, ‘আমি মনে করি, উনার ক্রিকেট মেধা আছে। উনি বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন। হাবিবুল বাশারের কথা বললাম। রাজ্জাকও অনেক খেলেছে। তাদের যথেষ্ট মেধা আছে। তারা নিশ্চয়ই পরিকল্পনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা আমাদের জানানো তাদের দল নির্বাচনের কাজের অংশ নয়। প্রধান কোচ থাকেন, অধিনায়ক থাকেন। তাদেরও তো মতামত থাকে। সব মিলিয়েই দল হয়। আমার মনে হয়, দল হওয়ার পর ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে দল হিসেবে চিন্তা করলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো।’

এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়লেও মাহমুদউল্লাহর শেষ দেখছেন না সুজন, ‘আমি এটা এখনই বলবো না যে ওর শেষটা দেখছি। স্টিল রিয়াদ একজন গুড ফাইটার। আমি মনে করি টিম কম্বিনেশন বা যে কারণেই বাদ পড়ুক না কেন, তাতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। এটা সত্যি কথা রিয়াদের বয়সও হচ্ছে।’

তিনি আরও যোগ করে বলেছেন, ‘বিশ্বাস করি রিয়াদ যেভাবে ফাইট করে চেষ্টা করে, তাতে শেষ হয়ে গেছে বলাটা ঠিক হবে না। সুযোগ আবার আসতেও পারে। রিয়াদ এখনও বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার। সুতরাং রিয়াদ এখনও সেই স্পোর্টসম্যান স্পিরিটটাই রাখবে। নিজের সঙ্গে লড়াই করবে এবং নিজের সঙ্গে লড়াই করাটাই সবচেয়ে বড় লড়াই হবে। রিয়াদ যতক্ষণ না পর্যন্ত বলছে ও শেষ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পাইপলাইনে সে অবশ্যই থাকবে। রিয়াদ বাংলাদেশে খেলার মতো যোগ্যতা অবশ্যই রাখে।’