মিরপুরে অশোভন আচরণে অনুশোচনা নেই ভারতের অধিনায়কের

বাংলাদেশের বিপক্ষে গত মাসে আম্পায়ারিং নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন হারমানপ্রীত কৌর। বিশেষ করে শেষ ওয়ানডেতে আউট হয়ে ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করেছিলেন। বিধিবহির্ভুত হওয়ার পরও ম্যাচ শেষে আম্পায়ারদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তার পর তো বাংলাদেশ অধিনায়ককে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক কথাও বলেছেন। অশোভন আচরণে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলেও সম্প্রতি নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ওই ঘটনায় তার কোনও ধরনের অনুশোচনা নেই।

দ্য ক্রিকেট পেপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে এভাবেই মন্তব্য করেন ভারতের অধিনায়ক, ‘বলবো না আমার মধ্যে কোনও ধরনের অনুশোচনা কাজ করছে। কারণ, দিন শেষে চাইবো ন্যায় কিছু হোক। আর খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অনুভূতি ও নিজেকে প্রকাশ করার অধিকার অবশ্যই একজনের আছে।’

সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ৩৪তম ওভারে নিজের আউট নিয়ে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন হারমানপ্রীত। নাহিদা আক্তারের বলে সুইপ করতে গিয়েছিলেন। বল তার ব্যাট বা প্যাডে লেগে স্লিপে ফাহিমা খাতুনের হাতে জমা পড়ে। বোলার এলবিডাব্লিউয়ের আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভারতীয় অধিনায়ক। ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করাসহ মাঠ ছাড়ার সময় আম্পায়ারের ওপর রাগ উগড়ে দিতেও দেখা যায় তাকে। এমনকি গ্যালারিতে দর্শকদের উদ্দেশ্যে থাম্বস আপ দেখিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সরাসরি আম্পায়ারিংয়ের সমালোচনা করেছেন! ফটোসেশনের সময়ও প্রতিপক্ষ নিয়ে তীব্র সমালোচনায় মেতে উঠেন। তার অক্রিকেটীয় আচরণে খোদ ভারতীয়রাই তখন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এত কিছুর পরও নিজের ভুল দেখেন না হারমানপ্রীত, ‘আমার মনে হয় না আমি কাউকে ভুল কিছু বলেছি। মাঠে যা হয়েছে, সেটাই বলেছি। এটা নিয়ে আমার কোনও অনুশোচনা নেই।’

ওই ঘটনায় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৭৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা করা হয় তাকে। একই কারণে হারমানপ্রীতকে ডেকে পাঠান ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রধান রজার বিন্নি।

মিরপুরে বাংলাদেশ-ভারতের শেষ ম্যাচটি ছিল ভীষণ উত্তেজনাপূর্ণ। টাই হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে ওয়ানডে সিরিজ।