ওরকম কোনও ‘কিক’ নেই: সাকিব

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটা স্মরণীয় করে রাখতে আলাদা কাজ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। ফিটনেস নিয়ে ভীষণ পরিশ্রম করে নিজেকে একদম ঝরঝরে করে ফেলেছিলেন।  এরপর পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই একের পর এক বিস্ময় উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। ব্যাট হাতে ৬০৬ রান ছাড়াও বল হাতে নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। এর রহস্য জানতে চাইলে ওই টুর্নামেন্টের আগে ছোট্ট একটা অনুধাবনের কথা বলেছিলেন তিনি। যেটা তার মধ্যে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছিল। এবারও তেমন কিছু আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন সাকিব।

সাকিব ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে আলাদা কাজ করার সুযোগটা পেয়েছিলেন আইপিএলের কারণেই। ম্যাচের পর ম্যাচ বাইরে বসে থাকাটাই তার জন্য শাপেবর হয়েছে। ওই সময়টা নিজের মতো করে নিবিড়ভাবে কাজ করে গেছেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ট্রেনারের সঙ্গে কাজ করেছেন ফিটেনস নিয়ে। দেশ থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। তাকে নিয়েই ঝালাই করেছেন স্কিল। যার ফল হিসেবে মিলেছে আলো ঝলমলে পারফরম্যান্স।

এক ইন্টারভিউতে সাকিব বলেছিলেন, ‘‘মাঝে মাঝে ‘কিক’ মুভির মতো ‘কিক’ দরকার হয়! কোনও একটা ভাবে, সেই কিক আমি পেয়েছি। কিক এসেছে। কীভাবে, তা আড়ালেই থাকুক। তবে কোনওভাবে এসেছে কিকটা, সেটিই আমাকে জাগিয়ে দিয়েছে। এমন নয় যে খুব বড় কিছু, কিন্তু একটি কিক তো এসেছেই।’

তামিমের ইনজুরিতে নতুন করে বিশ্বকাপ দলের দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন দায়িত্বে নতুন রূপে সাকিবকে পাওয়া গেলে লাভটা বাংলাদেশরই। সেই উপলক্ষে নতুন কিকের কথা সাকিব স্বীকার না করলেও হয়তো অগোচরেই চিন্তার জগতে এসব নিয়ে ঠিকই ভাবছেন। 

মঙ্গলবার বিকালে বনশ্রীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নতুন কিকের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠলে সাকিব বলেছেন, ‘ওরকম কোনও কিক নেই। শুধু চেষ্টা করছি যতটা ফিট থাকা যায়। যেহেতু সামনে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট বা সিরিজ আছে। প্রচুর খেলা আছে, ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি।’

সাকিব দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন করে সোমবার রাতে দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার সকাল চলে যান বরিশাল। সেখানকার কার্যক্রম শেষ করে হেলিকপ্টারে করে বিকালে ফিরে আসেন ঢাকায়। ফিরেই রাজধানীর বনশ্রীতে একটি মুঠোফোন কোম্পানির শ্যুটিংয়ে অংশ নেন। এমন ব্যস্ততা এই অলরাউন্ডারের জন্য নতুন নয়। নিয়মিতই ছুটে বেড়ান পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। এমন ব্যস্ত জীবন উপভোগ করছেন বলেই জানালেন সাকিব, ‘যেটা বললাম, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের এগুলো ম্যানেজ করেই চলতে হয়। যেহেতু সময় এত বেশি নেই। এই অল্প সময়ে সবকিছু ম্যানেজ করার একটা পথ তো বের করাই লাগে। একটু ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু ভালোই লাগে সেসব।’

সাকিব ৩৫ দিন পর দেশে ফিরেছেন। দেশের হাওয়া-বাতাস বেশ উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার, ‘যে কেউ দেশের বাইরে থাকলে দেশকে মিস করে। আমার ক্ষেত্রেও নতুন কিছু না। দেশে আসতে পেরে ভালোই লাগছে।’

সাকিব আরও জানিয়েছেন, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা তার এশিয়া কাপেও কাজে লাগবে, ‘ভালো ছিল। শ্রীলঙ্কারটা আমাদের জন্য একটু গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেহেতু শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের ম্যাচ আছে। ওদের সবার সঙ্গে খেললাম, মাঠের সম্পর্কে ধারণা হলো; ওদের প্লেয়ারদের সম্পর্কে আইডিয়া হলো। সেদিক থেকে ভালোই হলো।’