গত মে মাসে হিথ স্ট্রিকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় তার পরিবার। লিভার ও কোলন ক্যানসারের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার হুট করে খবর এলো, দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে গেছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক। তার একসময়ের সতীর্থ হেনরি ওলঙ্গার টুইট ধরে বিশ্ব গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, মারা গেছেন স্ট্রিক। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তার টুইটেই খবর বদলে যায়। ওলঙ্গা নিশ্চিত করেন, এখনও বেঁচে আছেন স্ট্রিক। নিজ চোখে নিজের মৃত্যুর খবর দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছেন জিম্বাবুয়ান লিজেন্ড।
ভারতের সংবাদমাধ্যম মিড ডে স্ট্রিকের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, ‘এটা একেবারেই গুজব এবং ডাহা মিথ্যা। কারও মৃত্যুর মতো একটি ব্যাপার সত্যতা যাচাই না করেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা জেনে আমি হতাশ, বিশেষ করে আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়া যুগে। আমি মনে করি, সূত্রের ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমি এই সংবাদে কষ্ট পেয়েছি।’
আরও পড়ুন: হিথ স্ট্রিক মারা যাননি
মঙ্গলবার তার মৃত্যুর কথা জানিয়ে ওলঙ্গা টুইটারে লেখেন, ‘দুঃসংবাদ আছে, হিথ স্ট্রিক পরপারে চলে গেছেন। শান্তিতে ঘুমাও লিজেন্ড। আমাদের সেরা অলরাউন্ডার। তোমার সঙ্গে খেলা ছিল আনন্দের। আমার বোলিং স্পেল শেষ হলে ওপারে দেখা হবে।’
স্ট্রিকের মৃত্যুর সংবাদে শোকে কাতর হয়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিতে শুরু করেন। হুট করে ওলঙ্গার আরেকটি পোস্ট। নিচে স্ট্রিকের সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের শট। ওলঙ্গা লেখেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি হিথ স্ট্রিকের মৃত্যুর গুজব ব্যাপকভাবে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। এই মাত্র তার কাছ থেকে খবর পেলাম। থার্ড আম্পায়ার আবার তাকে ফিরিয়ে এনেছে। সে এখনও ভালোভাবে বেঁচে আছে।’
স্ক্রিনশটে ওলঙ্গার সঙ্গে আলাপে স্ট্রিক লিখেছেন, ‘বেশ ভালোভাবে বেঁচে আছি। বন্ধু তাড়াতাড়ি খবর পাল্টে দাও, এখনই।’ জবাবে ওলঙ্গা, ‘হা, হা। শুনে খুব ভালো লাগলো। এসব ব্যাপার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এক রাতেই তুমি মারা গেছো।’
২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ছিলেন স্ট্রিক। ৬৫ টেস্ট ও ১৮৯ ওয়ানডে খেলেছেন। টেস্টে জিম্বাবুয়ের হয়ে একশ উইকেট নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার তিনি। সব মিলিয়ে সাদা পোশাকে ১৯৯০ রানের সঙ্গে তার দখলে ২১৬ উইকেট। আর সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়েছেন ২৩৯ উইকেট, রান ২৯৪৩।
আরও পড়ুন: মারা গেছেন হিথ স্ট্রিক
ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোচিংও করেন স্ট্রিক। বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ ছিলেন তিনি।
২০০৫ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে অবসর নেন স্ট্রিক। এরপর কোচিংয়ে মনোযোগী হন। তবে কলঙ্কিত হয়ে ক্রিকেট ছাড়তে হয়েছে তাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতিবিরোধী আচরণ লঙ্ঘনের দায়ে ২০২১ সালে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন ৮ বছরের জন্য।