বিসিবি বিশ্বকাপের যে দল দিয়েছে তাদের নিয়ে সেমিফাইনাল খেলা সম্ভব। আমি অন্তত বিশ্বাস করি। বিশ্বকাপে আমাদের সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল। এবার আগের বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো হবেই। শেষ তিনটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তিনটি করে ম্যাচ জিতেছে, এবার আশা করছি, চার কিংবা পাঁচটি ম্যাচ জিতবে।
তবে এশিয়া কাপের পর সেই স্বপ্নে কিছুটা হলেও ফাটল ধরেছে। তিন মাস আগেও দলটি ব্যালান্সড ছিল। দেশের মানুষ আশা করছিল বিশ্বকাপে ভালো কিছু হবে। হঠাৎ করে হাথুরুসিংহে বলেছেন, এশিয়া কাপের পর যেন আমরা বিশ্বকাপে স্বপ্ন না দেখি। বিগত দিনে ভালো খেলার কারণে ভেবেছিলাম আমরা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েই যাবো। কিন্তু এখন পুরোটাই ওলট-পালট লাগছে। এরমধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রভাব কতখানি পড়ে সেটাই চিন্তার বিষয়। তবে আশা করি সাকিব পেশাদারিত্বের সঙ্গেই সবকিছু সামাল দেবেন।
এত কিছুর পরও আমি আত্মবিশ্বাসীদের দলে। অনেকে বলতে পারেন, সেমিফাইনাল খেলার ব্যাপারে আমি এত আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে পেলাম? আমাদের বোলিং আক্রমণ অনেক ভালো। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এক বছর ধরে যারা খেলছে তাদের সুস্থ থাকা। কারণ তারাই আসল ভূমিকা রাখবেন। অসুস্থ হয়ে গেলে ভালো খেলাটা কঠিন হয়ে যাবে। আমাদের পেস বোলিং ইউনিট চমৎকার। স্পিনও ভালো। সবচেয়ে বড় কথা আমরা এই ফরম্যাটে ভালো দল।
ওপেনিং নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন থাকলেও আমি মোটেও চিন্তিত নই। লিটন প্রমাণিত। তানজিদ তামিমের খেলা দেখেছি। সে খুব ভালো ব্যাটিং করে। ফলে ওপেনিং পজিশন নিয়ে আমি কোনও দুশ্চিন্তা দেখি না। হ্যাঁ, তামিম ইকবাল থাকলে ভালো হতো। যেহেতু নেই, সেটা নিয়ে ভেবেও লাভ নেই। লম্বা সময় ধরে ওয়ানডে দলটাকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তামিম। কিন্তু ইনজুরির কারণে তাকে নেতৃত্ব ছাড়তে হয়েছে। নেতৃত্ব ছাড়াই আশা করছিলেন তামিম শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলের অংশ হতে পারবেন। কিন্তু পুরো ফিট না হওয়ায় তাকে দলে রাখা সম্ভব হয়নি। তামিম থাকলে দলটা ব্যালেন্সড হতো। জুনিয়র তামিমও কিন্তু ভালো ব্যাটসম্যান। তার খেলা আমি দেখেছি, ছেলেটা দারুণ। পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ ফিরেছে, এটা স্বস্তির খবর।
যেহেতু সাকিবের মতো এমন একজনের কাঁধেই নেতৃত্বের ভার তুলে দিতে হতো। কোনও সন্দেহ নেই সাকিব আমাদের প্রো-অ্যাক্টিভ ক্যাপ্টেন। যেহেতু সাকিব দলের অন্যতম সেরা পারফরমার, সেহেতু সাকিবের অধিনায়কত্ব করাটা বেশ সহজ হবে। তাছাড়া সতীর্থরা সবাই তাকে মেনে চলে। এমনকি বাইরের দেশেরক্রিকেটাররাও সাকিবকে সম্মান করে। সবকিছু মিলিয়ে সাকিবের জন্য মাঠের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। আমি বিশ্বাস করি, সাকিবের নেতৃত্বেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সেরা সাফল্য পাবে।
ভারত বিশ্বকাপে অনেক হাইস্কোরিং ম্যাচ আমরা দেখতে পারবো। ৩৬০-৩৭০ রানের প্রচুর ম্যাচ হবে বলে আমার ধারণা। এখন তো নিয়মিতই এমন বড় ধরনের রান হয়। আগেই বলেছি এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পরিকল্পনা মাফিক ক্রিকেট খেলতে পারলে সেমিফাইনাল খেলবে। বাংলাদেশের বাইরে আমার চার সেমিফাইনালিস্ট পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড হয়তো ফাইনাল খেলবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো।
লেখক: ক্রিকেটার, ছবি: মোহাম্মদ আশরাফুলের সৌজন্যে