ক্রিকেট বিশ্বকে উন্মাদনায় ভাসাতে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এবারের আয়োজক দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ওয়ানডে ফরম্যাটের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সপ্তমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের প্রতি আসরের দলে নতুন নতুন চমক এসেছে। সেই অর্থে এবার তেমন কোনও চমক নেই। প্রত্যাশিতরাই সুযোগ পেয়েছেন। ভারতে অতীতের সাফল্যকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস রচনা করতে চায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এই যুদ্ধে শামিল হবেন বাংলাদেশের ১৫ জন।
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক)
২০১১ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০১৫ ও ২০১৯ দুটি বিশ্বকাপের পর ফের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি। ২০০৬ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর বাংলাদেশের হয়ে একটি বিশ্বকাপও মিস করেননি বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। গত চার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ও উইকেট সংগ্রাহক সাকিব। ২৯ ম্যাচে ৮২.২৬ স্ট্রাইক রেটে ৪৫.৮৪ গড়ে সাকিবের রান ১ হাজার ১৪৬। বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরি ছাড়াও ১০টি হাফ সেঞ্চুরি আছে তার। সমান ম্যাচে তার উইকেট ৩৪টি। শেষ বিশ্বকাপে তো ঝড়ই তুলেছিলেন ইংলিশ কন্ডিশনে। ব্যাট হাতে ৬০৬ রানের পাশাপাশি নিয়েছেন ১১ উইকেট। ভারত বিশ^কাপে বিশ্বের তামাম ক্রিকেটবোদ্ধাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন তিনি। ২৪০টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা সাকিব যে ব্যাট ও বল হাতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ যোদ্ধা হবেন, এ নিয়ে দ্বিধা নেই কোনও।
মুশফিকুর রহিম
উইকেটের পেছনে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল মুশফিকুর রহিম। ব্যাট হাতেও নির্ভরতার প্রতীক। চাপের মাঝে ভেঙে পড়তে থাকা ব্যাটিংয়ের মধ্যে প্রাচীর তুলে দাঁড়িয়ে যেতে জুড়ি নেই তার। ২০০৭ সালের পর অনুষ্ঠিত চার বিশ্বকাপেই অপরিহার্য অংশ হয়ে দলে ছিলেন। ম্যাচ ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে তার মতো আর ক্রিকেটার খুব কমই আছে। মিডল অর্ডারের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বেশি তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে টিম ম্যানেজমেন্ট। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর মুশির ব্যাটে ধারাবাহিকভাবেই রান প্রসব হচ্ছে। এরপর ৪৩ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। রান করেছেন বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭৯। ৪ বিশ্বকাপে সাকিব-তামিমের সমান ২৯ ম্যাচ খেলে মুশফিকের রান ৮৭৭। আছে ১টি সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফ সেঞ্চুরি।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
কখনও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার নন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর তথাকথিত তারকা তিনি কখনও ছিলেনও না। তবে একটা ব্যাপারে কোনও সন্দেহ ছাড়াই বলে দেওয়া যায়, যে বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর ক্রিকেটারদের একজন মাহমুদউল্লাহ। দলের প্রয়োজনে সব সময়ই তাকে ভ‚মিকা রাখতে দেখা যায়, সেটা ব্যাটিংয়ে হোক কিংবা বোলিংয়ে। তবে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে এক প্রকার ব্রাত্যই ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বিশ্রামের নামে তাকে বাদ দিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে কেউই টিকতে পারেননি। ফলে নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয় বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। সুযোগটা বেশ ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে এখন তিনি বিশ্বকাপ দলের গর্বিত সদস্য। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান তিনিই। বিশ^কাপে ১৭ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও ২ হাফসেঞ্চুরিতে এই অলরাউন্ডারের রান ৬১৬। বল হাতে তার উইকেট চারটি।
লিটন দাস
লিটনের চোখ জুড়িয়ে যাওয়া কাভার ড্রাইভ নিয়ে নতুন করে বলার আছে সামান্যই। পুল, ফ্লিক আর কাট শটেও লিটনের তুলনা হয় না। কোনও ম্যাচে ডানহাতি এই ব্যাটারের ব্যাট হেসেছে মানেই প্রতিপক্ষের বোলারদের নাভিশ্বাস ওঠা। কিন্তু কিছু দিন ধরে জ্বলে ওঠার আগেই দপ করে নিভে যাচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ এশিয়া কাপের পর নিউজিল্যান্ড সিরিজেও ব্যর্থ হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। তবে লিটন যেদিন নিজের খেলাটা খেলতে পারবেন, সেদিন প্রতিপক্ষ বোলারদের কিছুই করার থাকবে না! মাশরাফির নেতৃত্বে ২০১৯-এ নিজের প্রথম বিশ্বকাপে মোটামুটি ভালোই ছিল তার পারফরম্যান্স। ৫ ম্যাচে ১১০.১৭ স্ট্রাইক রেটে ৪৬ গড়ে লিটনের রান ১৮৪। সাম্প্রতিক খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপে ঝড় তুলবেন লিটন-সেই প্রত্যাশায় ক্রিকেট ভক্তরা।
মেহেদী হাসান মিরাজ
২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পরে বাংলাদেশ দলের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। বর্তমানে বাংলাদেশ দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। ২০১৯ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে হাত ঘুরিয়ে নিয়েছেন ছয়টি উইকেট। ব্যাটিংয়ে ৭ ম্যাচে ৩৭ রান করেন। ২০১৯ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার হাতছানি এই অলরাউন্ডারের সামনে। গত চার বছরে এবং অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়ে শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়ে দাপট দেখাচ্ছেন তিনি। ১৫ ইনিংসের ব্যবধানে দুটি সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন। লেট অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার, টপ অর্ডার সবখানেই ব্যাটিং করতে পারেন তিনি। ফলে অধিনায়কের জন্য পরিকল্পনা করা বেশ সহজ হচ্ছে। ভারত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র এই অলরাউন্ডার।
তানজিদ হাসান তামিম
বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালের খেলা টিভিতে দেখেই একসময় তার সঙ্গে ওপেন করার স্বপ্ন দেখতেন তানজিদ হাসান। ওপেন করার স্বপ্নপূরণ না হলেও তামিমের সঙ্গে জুটি বাঁধার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে জুনিয়র তামিমের। বাংলাদেশ যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য তানজিদ তামিম। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করা তরুণ এই ব্যাটারকে নিয়ে জাতীয় দলেও একই প্রত্যাশা। জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন তো বলেই দিয়েছেন সিনিয়র তামিমের ছোটবেলার কপি জুনিয়র তামিম। জাতীয় দলে তিন ইনিংস ব্যাটিং করে বড় স্কোর গড়তে পারেননি তিনি। তবু তার ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ সিনিয়র ক্রিকেটাররা। সব মিলিয়ে বাজির ঘোড়া হয়েই বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছেন এই তরুণ।
নাজমুল হোসেন শান্ত
মিডিয়া, দর্শক-সমর্থক কত ধরনের আলোচনা আর সমালোচনার মধ্য দিয়েই না যেতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে। বয়সভিত্তিক দলের গণ্ডি পেরিয়েই সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে। ২০১৭ সালে ঢাকা লিগে ১৬ ম্যাচে ৭৪৯ রান করেন। তাতেই নিউজিল্যান্ড সিরিজে শিক্ষানবিশ হিসেবে যাওয়ার টিকিট পেয়ে যান। তবে দলে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ইনজুরিতে পড়ায় সুযোগ পেয়ে যান এই তরুণ। সেই শুরু, এরপর একে একে সব ফরম্যাটেই অভিষেক হয়ে যায় তার। মাঝে ভীষণ খারাপ সময় কাটলেও এখন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের হৃৎপিণ্ড বাঁহাতি এই ব্যাটার। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে দারুণ ছন্দে আছেন এই তরুণ। চলতি বছর বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটার তিনিই। ১৪ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরিতে তার রান ৬২২। ভক্তরা আশায় আছেন, এমন পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকবে বিশ্বকাপেও।
তাওহীদ হৃদয়
১১ বছর আগে ঢাকায় এসে বনশ্রীতে একটি ‘ভুয়া’ ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়ে গচ্চা দিয়েছিলেন বেশ কিছু টাকা। পরে রীতিমতো শোকার্ত হয়ে পড়েছিলেন। শোককে শক্তিতে পরিণত করতে পেরেছিলেন মায়ের অনুপ্রেরণায়। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায় দিয়ে তাওহীদ হৃদয় এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে। চলতি বছর মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকেই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন ডানহাতি মিডল অর্ডার এই ব্যাটার। ১৬ ওয়ানডেতে ৮৫.৭৬ স্ট্রাইক রেটে ৩৮.৪৬ গড়ে তাওহীদের রান ৫০০। তার ব্যাট বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের বোলারদের সামনে চওড়া হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর।
তাসকিন আহমেদ
২০১৫ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৯ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। বাজে ফর্ম এবং ইনজুরির কারণে সুযোগ হয়নি পরের বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডে হওয়া ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আক্ষেপে দীর্ঘদিন পুড়েছেন। বসে থাকেননি ডানহাতি এই পেসার। করোনার সময়টাকে কাজে লাগিয়ে অসম্ভব পরিশ্রম করে ফের জাতীয় দলে ফিরেই পেস আক্রমণের নেতা হয়ে উঠেছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব তার হাতেই। তাসকিনকে নিয়ে বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখছেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি। বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন ৬৩ ম্যাচে ৯০ উইকেট শিকার করা তাসকিনও।
মোস্তাফিজুর রহমান
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মোস্তাফিজুর রহমানের। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে কাটার মাস্টার। গত বিশ্বকাপে কিছুটা খরুচে হলেও বাংলাদেশের শীর্ষ উইকেট শিকারি তিনিই। সাকিব যেখানে ২৯ ম্যাচ বোলিং করে ৩৪ উইকেট শিকার করেছেন, সেখানে মোস্তাফিজ এক আসরে ৮ ম্যাচ খেলেই পকেটে পুরেছেন ২০ উইকেট! কিছুদিন ছন্দহীন থাকলেও এশিয়া কাপে ছন্দ ফিরে পান বাঁহাতি এই পেসার। ভারতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে মোস্তাফিজকেও।
শরিফুল ইসলাম
পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক বাবার ঘরে জন্ম পেসার শরিফুল ইসলামের। সেখানকারই একটি গ্রাম মউমারি। বাজারের এক দোকানে বসে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নটা হৃদয়ে এঁকেছিলেন শরিফুল ইসলাম। ধীরে ধীরে সেই স্বপ্নগুলো পূরণ হচ্ছে বাঁহাতি পেসারের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই পেসার এবার বড়দের বিশ্বকাপ দলের অন্যতম যোদ্ধা। বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে তাকেও। মাঝে কিছুদিন ছন্দ হারালেও বিশ্বকাপের আগে দারুণ ফর্মে আছেন বাঁহাতি এই পেসার। গতিময় বোলিংয়ের পাশাপাশি স্লোয়ার, ইনসুইং, আউট সুইংয়ে দারুণ দক্ষ হয়ে উঠেছেন শরিফুল।
হাসান মাহমুদ
লক্ষ্মীপুর থেকে উঠে আসা হাসান মাহমুদ বয়সভিত্তিক দল, হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি), ‘এ’ দল, ইমার্জিং এশিয়া কাপ মাড়িয়ে সুযোগ করে নেন জাতীয় দলে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। জাতীয় দলে সুযোগ মূলত মিলেছে তার বাড়তি গতির কারণে। ২০২০ সালে সুযোগ পেলেও হাসানের অভিষেক হয় ২০২১ সালে। ইনজুরিতে কিছু দিন মাঠের বাইরে থাকলেও ফিরে এসে ত্রাস ছড়াচ্ছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটাদের মনে। চলতি বছর ১১ ম্যাচ খেলে ১৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা বোলার তিনিই। ভারত বিশ্বকাপে অধিনায়ক সাকিবের মূল অস্ত্র হয়ে উঠবেন তরুণ এই পেসার, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শেখ মেহেদী হাসান
সিলেটে ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে অভিষেক হয়েছে শেখ মেহেদী হাসানের। অফস্পিনিং অলরাউন্ডারের ওয়ানডেতে অভিষেক আরও পরে, ২০২১ সালে ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টিতে ৩৮ ম্যাচ খেললেও ৫০ ওভারের ফরম্যাটে সেভাবে সুযোগ মেলেনি। খেলেছেন মাত্র ৮ ম্যাচ। ওয়ানডেতে তার শিকার ৮টি উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ৩০টি। ওয়ানডের ৮ ম্যাচে তার ইকোনমি ৪.৪৮ আর টি-টোয়েন্টিতে ৬.৫৬। বিশ্বকাপে স্পিনের পাশাপাশি বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারেও ব্যাটিং অপশন হিসেবে থাকবেন তিনি।
নাসুম আহমেদ
বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে সাকিব আল হাসান সঙ্গে আছেনই। তার সঙ্গে আরও একটি অপশন নাসুম আহমেদ। ভারত বিশ^কাপে বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারেন তিনি। বিশেষ করে ব্যাটারদের ক্রিজে আটকে রাখতে নাসুমের জুড়ি মেলা ভার। তার ফ্লাইট ডেলিভারিগুলো বেশ কার্যকর। ১১ ওয়ানডেতে ২৯.৮১ গড়ে ১১ উইকেট নিলেও নাসুমের ইকোনমি কিন্তু দুর্দান্ত। প্রতি ম্যাচে ৩.৭৮ রান করে খরচ করেছেন তিনি। ব্যাটিংটাও দারুণ করছেন। লেট অর্ডারে নাসুমের এই ব্যাটিং খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
তানজিম হাসান সাকিব
এবাদত হোসেনের ইনজুরিতে পঞ্চম বোলারের খোঁজে ছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে তরুণ তানজিম সাকিব সেই জায়গাটি পূরণ করতে পারবেন বলেই সবার বিশ্বাস। যার প্রমাণও দিয়েছেন এশিয়া কাপে। মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে রাজসিক অভিষেকে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন তিনি। অভিষেক ম্যাচে সব মিলিয়ে ৭.৫ ওভার বোলিং করে ৩২ রান খরচায় শিকার করেছেন দুটি উইকেট। এখন পর্যন্ত মোট দুটি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। ৪.২২ ইকোনমিতে শিকার ওই দুটিই।