মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখলো বাংলাদেশ 

হিমালয়ের কোলে ম্যাচটা সহজ হবে না তা সবাই জানতো। কিন্তু বাংলাদেশ দল যে এভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ করবে, তা কে ভেবেছিল? বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ এক জয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আশা করেছিল সবাই। কিন্তু ধর্মশালার মাঠে ১৩৭ রানের পরাজয়ে ছন্দপতনই শুধু হয়নি, সামনের দিকে প্রয়োজনীয় রানরেটে এগিয়ে থাকার রসদ থেকেও লাল-সবুজ দল অনেক দূর সরে এসেছে। 

অথচ এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের বিশ্বকাপের দুটিতে জয়ের সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। তাই আজও সাকিব আল হাসানের দলের খেলা দেখার জন্য যারা টিভি সেটের সামনে বসে ছিলেন, তাদের একপ্রকার হতাশই হতে হয়েছে। 

টস হারার পরেও ইংলিশদের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে স্কোর ৪০০ ছাড়াতে পারে! ডেভিড মালান-জো রুটরা যেভাবে শাসন করছিলেন, তাতে করে ৩৬৪ রানের বেশি হওয়া অসম্ভব ছিল না। বোলারদের দারুণ দক্ষতায় ভাগ্যিস সেটি হয়নি। কিন্তু ইংলিশদের এমন ইনিংসের পরই ম্যাচ অনেকটা শেষ হয়ে গেছে বলতে হবে। কেননা এর আগে হাথুরুসিংহের দলের এমন পাহাড় সম বাধা পেরোনের রেকর্ড নেই। আর ইংল্যান্ড তো তাতিয়ে ছিল আগে থেকেই। বিশ্বকাপে কিউইদের কাছে পরাজয়ে চাপ ছিল ভীষণ। ৯ উইকেটের হারে জোর ধাক্কাও লেগেছিল আত্মবিশ্বাসে। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় আকারে ম্যাচ জিতে ইংলিশদের চিরচেনা ফর্মে ফেরাটা ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বলে কথা! শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। 
 
তবে সাকিব আল হাসানের টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তে কিছুটা বিতর্ক আছে। আগে ব্যাটিং নিলেও নিতে পারতেন। যা ভেবে ফিল্ডিং নিয়েছেন তাতে কোনওভাবেই ইংলিশদের আটকাতে পারেননি। দুর্দমনীয় ছিলেন মালানরা। আগের বিশ্বকাপে ইংলিশদের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ ভালো খেলেছিলেন। তাই আজ তার মাঠে নামার প্রত্যাশা করেছিলেন অনেকে। তবে পিচ কন্ডিশন দেখে শেখ মেহেদী হাসানের ওপর ভরসা রাখতে হয়েছে। ইংলিশরা বড় স্কোর করলেও মেহেদী কিন্তু স্পিন বিষে চার উইকেট নিয়ে নিজের একাদশে থাকার প্রমাণ দিয়েছেন। পেসার শরিফুলও পেয়েছেন তিন উইকেট। পরের ম্যাচেও যে মেহেদী-শরিফুলরা থাকবেন তার আগমনী বার্তা মিলছে তাতে। 

তবে যে স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আগমন তাতে একটা ধাক্কা লেগেছে এই ম্যাচের পারফরম্যান্সে। সেমিফাইনালে খেলতে পারলে সেটা হবে বড় পাওনা। কিন্তু সেজন্য বড় স্কোর তাড়া করে জেতার মানসিকতা এখনই দেখাতে হবে। যদিও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোনও দলই তা দেখাতে পারেনি। এই বিশ্বকাপ চলবে দীর্ঘদিন। ফলে যে কোনও পজিশনে থেকে চ্যালেঞ্জ উতরাতে পারলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোও সহজ। কিন্তু ইংলিশদের বড় অঙ্কের রান তাড়া করতে গিয়ে যেভাবে ব্যাটাররা উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন- তা মোটেও কাম্য ছিল না। তামজিদ তামিম কেন বিশ্বকাপে এসেছেন তা দুই ম্যাচ পরও পরিষ্কার নয়। এখনও নিজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারেননি। অধিনায়ক সাকিব মাঠে ভালোই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে নৈপুণ্য দেখাতে পারলে হয়তো আজ বড় ব্যবধানে হারতে হতো না। তেমনই ধারাবাহিক হওয়ার দরকার ছিল শান্ত-তৌহিদদের।

ব্যর্থতার ভিড়ে লিটন দাসের কথা আলাদা করে বলতেই হচ্ছে। ফর্মহীনতায় থেকে সমালোচনার মুখে ছিলেন। আজ ৭৬ রান করে নিজের ছন্দে ফেরার দারুণ ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তিনি। মুশফিকও হাফ সেঞ্চুরি করে অভিজ্ঞতাটা ভালোই কাজে লাগিয়েছেন।

আগেই বলা হয়েছিল আফগানিস্তান ম্যাচের পর বাংলাদেশের একের পর এক বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ। মাঝে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। আজ ইংলিশদের বিপক্ষে বড় পরীক্ষায় বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। চেন্নাইয়ে পরের ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তৃতীয় ম্যাচে স্পিন সহায়ক পিচে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে বিশ্বকাপের শেষ চারের স্বপ্নটা হয়তো ম্লান হয়ে যেতে পারে। সাকিব আল হাসানের দল নিশ্চয়ই সেটি চাইবেন না!