বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুগুলোর মধ্যে একটি খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, যা দেশের মানুষের কাছে ফতুল্লা স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার স্মরণীয় টেস্টসহ বেশ কিছু হাইভোল্টেজ ম্যাচের সাক্ষী হয়ে আছে এই ভেন্যু। তবে অযত্ন, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ফলে পরিত্যক্ত রূপ ধারণ করেছে প্রায় ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আন্তর্জাতিক এই ভেন্যুটি। তবে আশার কথা সংস্কার কাজে হাত দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি।
গত কয়েক বছর ধরেই নারায়াণগঞ্জের ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে পা ফেলাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় টেস্ট ভেন্যুটি পরিণত হয়েছিল ময়লার ভাগাড়ে। বিশেষ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিসিবির দড়ি টানাটানির খেসারত দিতে হয়েছে এই ভেন্যুটিকে। তবে এখন সমস্যার সমাধান হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিসিবির উদ্যোগে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত বিসিবি কাজ করলেও স্টেডিয়ামের মূল কাজ করবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
আজ মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান আকরাম খান ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটু মাঠ সংস্কারের কাজ উদ্বোধন করেন। এ সময় আকরাম বছর খানেকের মধ্যে এই স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানের হবে বলে আশ্বাস দেন, ‘আমাদের মাঠটা অনেক উঁচু করতে হবে। আমরা যতটুকু সম্ভব মাঠটি উঁচু করে খেলার উপযোগী করে তুলবো। এটা এই সিজনে না হলেও পরবর্তী সিজনে আমরা করতে পারবো।’
বুয়েটের একটি টিমের সহায়তায় মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বিসিবি। আগামী এক বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হিসেবে তৈরি হয়ে যাবে স্টেডিয়ামটি, ‘বুয়েটের একটি টিমের সঙ্গে আমরা বিগত ছয় মাস আলোচনা করছি। ওদের আইডিয়া নিয়েই আমরা কাজ করবো। আপাতত আমরা মাঠটিকে খেলার উপযোগী করতে চাই। আমাদের কাজ শুরু হয়েছে। বছরখানেক পর আমরা এখানে আন্তর্জাতিক খেলার ভেন্যু হিসেবে তৈরি করে ফেলবো।’
এসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটু বলেছেন, ‘আমাদের জেলায় জেলায় খেলার মাঠ দরকার। এই মাঠটি খেলার অবস্থায় ছিল না। ক্রিকেট বোর্ডের নিজের অর্থায়নে এটা ছয় ফুট ও চার ফুট উঁচু করা হবে। যেন এখানে পানি না জমে। এখানে আপাতত ফার্স্ট, সেকেন্ড ও প্রিমিয়ার ডিভিশন খেলা হবে।’
যদিও স্টেডিয়ামের মূল সংস্কারের কাজগুলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ করবে বলে জানালেন টিটু, ‘আমাদের খেলাধুলা যেন সারাবছর হয় সেজন্য এটা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে এটিকে ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক সংস্কার করা প্রয়োজন। সেটা এনএসএ করবে।’
টিটু আরও যোগ করে বলেছেন, ‘যতদিন এ মাঠটি আন্তর্জাতিক ভেন্যু ছিল, ততদিন এখানে রক্ষণাবেক্ষণ ভালোভাবেই হয়েছে। ভেন্যু বাদ হয়ে যাওয়ার পর যখন খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায়, তখন আর রক্ষণাবেক্ষণ আগের মতো হয়নি। পাশাপাশি এটা ডিএনডি এলাকায়। ডিএনডির কাজ সেনাবাহিনী করছে, সেটা সম্পন্ন হয়ে গেলেই এ জলাবদ্ধতার সমস্যাগুলো আর থাকবে না। এখন নিয়মিত খেলা চালু হলে এটার রক্ষণাবেক্ষণ আগের মতোই নিয়মিতভাবে চলবে।’