দশ বছর পর ইডেন গার্ডেন্সে খেলতে নামছে পাকিস্তান। টানা চার ম্যাচ হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া তারা। তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশও ধুঁকছে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলার কোনও সুযোগ নেই, ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে পাকিস্তানের। তবুও ২ পয়েন্ট নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে সাকিব জানিয়েছেন, ‘কালকের (মঙ্গলবার) ম্যাচটা খেলার টার্গেট- চেষ্টা করবো জিততে। নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। ২ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে চাইবো। এজন্য যতটা সম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’
সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং নিয়েই বেশি ড্রিল করতে দেখা গেছে পুরো দলকে। সাকিব তো দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ব্যাটিং করেছেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসদের বাড়তি পরিশ্রম করতে দেখা গেছে। টানা হারে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে একটি ম্যাচ জিততে মরিয়া বাংলাদেশ।
সাকিব স্পষ্ট করেই বলে গেছেন সেই কথা, ‘আমি এই মুহূর্তে কোনও দলকে রেট করতে চাইছি না। আমাদের কাল অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। যেটা আমরা জিততে চাই। পাকিস্তানও তাই। তারাও ম্যাচটা জিততে চায়। যে দলটি ভালো খেলবে তারাই জিতবে। আমরা পাকিস্তানের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবো, যেন ম্যাচটা জিততে পারি।’
এমনিতেই কলকাতার ইডেনে বাংলাদেশের ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা খুব একটা নেই। ১৯৯০ সালে প্রথমবার খেলছিল। তারপর ৩৩ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এই মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেললো গত শনিবার, যেখানে পাকিস্তান খেলেছে ৬টি ম্যাচ। যার পাঁচটিই জিতেছে পাকিস্তানিরা। কেবলমাত্র শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি ম্যাচ হেরেছিল তারা। যদিও সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছিল ২০১৩ সালে। লম্বা সময় পর ইডেনে ফিরছে পাকিস্তান।
ইডেনে পাকিস্তানের পরিসংখ্যান বাংলাদেশকে চোখ রাঙাতে যথেষ্ট। সাকিব অবশ্য বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন না, ‘পরিচিতির দিক থেকে কিনা সেটা বলা মুশকিল, কারণ আমরা কখনও ভারতে ওয়ানডে সিরিজ খেলিনি। যারা আইপিএল খেলেছে, তাদের হয়তো একটু ধারণা আছে। তবে এসব কোনও প্রভাব রাখবে না। তাদের কোচ যদি বলে থাকেন যে, এখানে দুই দলই শেষ ১০-১৫ বছর খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি, সেদিক থেকে এটা (ইডেন) আমাদের খুব পরিচিত নয়, যদিও খুব কাছাকাছি দেশ।’
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স হতাশাজনক হলেও সাকিব পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরা ক্রিকেট খেলতে উন্মুখ হয়ে আছেন। এই মুহূর্তে প্রতিপক্ষ কারা কিংবা তাদের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে না ভেবে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে চাইছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমরা এখানে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছি। এখানে প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকালকের (মঙ্গলবার) ম্যাচটাও ভিন্ন কোনও ম্যাচ হতে যাচ্ছে না, যেটা আমরা খেলেছি বা সামনে খেলতে যাবো। আমরা একটা একটা ম্যাচ ধরে আগাচ্ছি। আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স বাদে অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করছি না। নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে চাই যেন পাকিস্তানের চেয়ে ভালো খেলতে পারি এবং জিততে পারি।’
পাকিস্তান ও বাংলাদেশ প্রায় একই পথের পথিক। বাংলাদেশ টানা পাঁচ হারে ইংল্যান্ডের সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে। আর পাকিস্তান টানা চার হারে খাদের কিনারায়। বলতে গেলে মানসিকভাবে এখন তারা বিধ্বস্ত। এই বিষয়টা বাংলাদেশকে বাড়তি কোনও সুবিধা দেবে কিনা প্রশ্নে সাকিব বলেছেন, ‘একই কথা তো ওরাও বলতে পারে যে বাংলাদেশ শেষ পাঁচ ম্যাচ হেরেছে। কী বলবো বলেন (হাসি)। মাঝে মাঝে হাসির দরকার আছে (সমস্বরে হাসি)।’