ব্যাটাররা যেখানেই শট খেলছে, চলে যাচ্ছে ফিল্ডারের হাতে: মিরাজ

ব্যাটারদের ছন্দহীন পারফরম্যান্সের কারণেই বিশ্বকাপে ভরাডুবি বাংলাদেশের। সাত ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের নিয়ে কোচিং স্টাফরাও অনেক কাজ করছেন। সাকিব আল হাসান তো দেশেই গিয়েছিলেন শৈশবের কোচের কাছে দীক্ষা নিতে। প্রতিটি ভেন্যুতেই ক্রিকেটাররা বাড়তি অনুশীলন করেছেন। কিন্তু কোনও ফল নেই। পাকিস্তানের কাছে হারের পর মেহেদী হাসান মিরাজ সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে অদ্ভুত এক যুক্তি দেখালেন অফস্পিনিং এই অলরাউন্ডার। 

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হারের পর ম্যাচ শেষে মিরাজ জানান, তাদের চেষ্টার কোনও ত্রুটি নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, সবাই ভালো খেলার চেষ্টা করছে। কেউ তো খারাপ খেলতে চায় না। সবাই চেষ্টা করছি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হচ্ছে না। ব্যাটাররা যেখানেই শট খেলছে, হাতে চলে যাচ্ছে। ক্যাচ হচ্ছে, ফিল্ডার ধরছে। বোলিংয়ে কিছু না কিছু হচ্ছে। এরকম কখনও হয়নি। গত ৩ বছরে তো ওয়ানডে খেলেছি। ভাগ্য কম কাজ করছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’

বিশ্বকাপের ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। ২০২৫ সালের টুর্নামেন্টের আয়োজক পাকিস্তানের সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ সাত দল খেলবে। এখনও দুটো ম্যাচ বাকি, সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। তবে মিরাজ যেন আগেই আত্মসমপর্ণ করলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে না পারলে সবার খারাপ লাগবে। আমাদের যেমন খারাপ লাগবে, আপনাদেরও খারাপ লাগবে।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যর্থ টুর্নামেন্ট ছিল ২০০৩ সালে। সাকিব এবারের বিশ্বকাপকেই সবচেয়ে বাজে বলেছেন। সাকিবের সাথে সুর মিলিয়েছেন মিরাজও, ‘এরকম কখনোই হয়নি। আমাদের কপাল ভালো নয়। সবাই চেষ্টা করছে কিন্তু। প্র্যাকটিস করছি, পরিকল্পনা করছি। কিন্তু সাফল্যের জন্য ভাগ্যও জরুরি। দিনশেষে আল্লাহর রহমত দরকার, ভাগ্য দরকার। বিশ্বাস করি এটা বেশি দিন চলবে না, আমরা ঘুরে দাঁড়াবো।’

এমন বাজে পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিক ভাবেই দলের আবহ ঠিকঠাক থাকার কথা নয়। মিরাজও সেটি স্বীকার করে নিলেন, ‘হারলে তো স্বাভাবিকভাবেই সবার খারাপ লাগে। দিনশেষে ক্রিকেটে এসব মেনেই নিতে হবে। হারজিত তো থাকবেই।’

বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে সমর্থকরা এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অনেক স্বপ্ন নিয়ে গ্যালারিতে বসলেও ম্যাচ শেষে মন খারাপ করেই ফিরতে হয়েছে। দর্শকদের হতাশ করলেও মিরাজ আশা করছেন বাংলাদেশ দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে, ‘হতাশ আমরা সবাই হচ্ছি। চেষ্টা করছি ভালো খেলার। বাংলাদেশের দর্শকরা সবসময় সাপোর্ট করেন। নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের পরও এই ম্যাচে অনেক দর্শক হয়েছে। তারা কখনও আশা ছেড়ে দেন না। বিশ্বাস করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে, আমরাও বিশ্বাস করি।’