টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করলে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়ায় সেটা চলতি বিশ্বকাপেই দেখা গেছে। অবিশ্বাস্য ব্যাটিং রানের পাহাড় গড়ে লিগ পর্বের দ্বিতীয় সেরা দল ছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলতে নামা দলটির ভিন্ন রূপও দেখা গেলো। ইডেন গার্ডেনসে শুরুর ব্যাটিং ধসে শেষ পর্যন্ত ২১২ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
প্রথমে ব্যাট করতে নামলেও নতুন বলে অজি দুই পেসার মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড ধস নামান প্রোটিয়াদের টপ অর্ডারে। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে অধিনায়ক বাভুমার উইকেট তুলে নেন মিচেল স্টার্ক। ষষ্ঠ ওভারে কুইন্টন ডি ককের উইকেটও তুলে নেন হ্যাজেলউড। দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়া দল।
চাপে পড়লে দলটার অবস্থা কেমন হয় তা এই ম্যাচেই দেখা গেছে আবার। নতুন বলে স্টার্ক-হ্যাজলউডের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। এইডেন মারক্রামকে (১০) স্টার্ক ও রাসি ফন ডার ডাসেনকে (৬) হ্যাজেলউড আউট করলে ২৪ রানে পড়ে চার উইকেট। তাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয় দক্ষিণ আফ্রিকার।
সেখান থেকেও তারা ঘুরে দাঁড়ায় ডেভিড মিলার- হাইনরিখ ক্লাসেনের প্রতিরোধে। দু’জনে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে ১৪ ওভারে স্কোরটা ৪৪ রানে নিয়ে গেছেন। তার পর বৃষ্টি হানা দিলে ৪৫ মিনিটের মতো বন্ধ থাকে ম্যাচ। বৃষ্টির পর ম্যাচ শুরু হলে এই জুটির প্রতিরোধে ২৫ ওভারে রান হয় ৭৯। এই জুটির কল্যাণে স্কোর একশও ছাড়িয়েছে। ক্লাসেন (৪৭) কে দারুণ এক ঘূর্ণিতে বোল্ড করে সম্ভাবনাময় জুটির ইতি ঘটান ট্রাভিস হেড। এই জুটিতে যোগ হয়েছে ৯৫ রান।
জুটি ভেঙে হেড পরের বলে নতুন ব্যাটার মার্কো ইয়ানসেনকেও (০) এলবিডাব্লিউতে ফেরালে মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় অস্ট্রেলিয়া। তাতে জাগে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও। যদিও শেষ পর্যন্ত হেডের হ্যাটট্রিক হয়নি। ১১৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর দলকে একাই টেনে নিতে থাকেন মিলার। অপরপ্রান্তের সঙ্গীরা ফিরতে থাকলে নিজের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর দুইশ ছাড়াতে অবদান রাখেন দারুণ এক সেঞ্চুরিতে। ১১৬ বলে ১০১ রানে তার আউটের পর ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ৪৯.৪ ওভারে ২১২ রানে তারা গুটিয়ে গেছে। মিলারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ছিল ৮টি চার ও ৫টি ছয়ের মার।
শেষটায় বেশি কার্যকরী ছিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ৫১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। তবে ৩৪ রানে তিন উইকেট নিয়ে সেরা ছিলেন মিচেল স্টার্ক। ১২ রানে দুটি নিয়েছেন হ্যাজলউড। ২১ রানে দুটি উইকেট শিকার করে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিতে অবদান রাখেন ট্রাভিস হেড।