ফাইনালে চোখ সতর্ক মাশরাফির

প্রথম ম্যাচের ভারতের সঙ্গে হার। এরপর টানা দুই ম্যাচে আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জয়ে টাইগারদের সামনে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার হাতছানি। আগামীকাল বুধবার পাকিস্তানের সঙ্গে জিতলে সরাসরি ফাইনালে খেলবে টাইগাররা। আর এই ম্যাচে না জিতলেও সুযোগ থাকছে তবে সেখানে 'যদি'; 'কিন্তু'র ছড়াছড়ি। নিশ্চিতভাবেই সে পথে হাঁটতে চাইবেন না তামিম-সাকিব-মাশরাফিরা। তাদের লক্ষ্য পাকিস্তানকে হারিয়ে সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করা।মাশরাফি
ম্যাচের আগে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি মুর্তজা বলেন, 'আমাদের সামনে আসলেই ফাইনাল খেলার খুব ভালো সুযোগ আছে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেভাবে খেলতে পারলে অবশ্যই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। কিছু ভুলও অবশ্য ছিলো। কিন্তু আমরা প্রয়োজনের সময় দরকারি কাজ করতে পেরেছি বলেই ম্যাচ দুটি জিততে পেরেছি।'

মাশরাফির মতে, 'এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা ম্যাচ। যারা জিতবে তাদেরই ফাইনাল খেলার সুযোগ বেড়ে যাবে। এখানে বাংলাদেশের যেমন সুযাগ আছে, তেমনি সুযোগ আছে প্রতিপক্ষেরও। তবে আমরা যদি ওদের দিকে না তাকিয়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো ঠিকঠাক প্রয়োগ করি, আমাদের ফাইনালে ওঠার সুযোগ বেশি।'

আগামীকালের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়টা অনুপ্রেরণা দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, 'সবাই জয়ের জন্যই খেলে। জিততে পারলে আত্মবিশ্বাসও বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। একটা দল যখন বাজে পরিস্থিতি থেকে নতুন একটা সাফল্যের পথে যায়, তখন কিন্তু একটু একটু করেই উন্নতির দিকে তাকাতে হয়। রাতারাতি কিছু হয় না। ভারতের বিপক্ষেও কিন্তু আমরা সঠিক পথেই ছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটা পর্যায়ে গিয়ে আর পারিনি। জয়টাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটা দল উন্নতির পথে থাকে, তখন ওই গ্রাফটাই দেখা উচিত। আমরা ওই দিকটাই ফোকাস করছি।'

গত বছর নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করেছিল টাইগাররা। বুধবার মাঠে নামার আগে তা বাড়তি সুবিধা দেবে কিনা এমন প্রশ্নে মাশরাফি বলেন, 'আমার মনে হয় না কোনও হেল্প করবে। এটা নতুন দিন, নতুন ম্যাচ, নতুন টুর্নামেন্ট। এই ধরনের টুর্নামেন্টে চাপও বেশি থাকে। আগে কী হয়েছে তা না ভেবে, কাল কতোটা ভালো করে শুরুটা করতে পারি আমরা তা নিয়ে ভাবছি।'

মিরপুরের উইকেট শুরুর দিক থেকে এখন একটু বদলে গেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'উইকেট বদলে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। টুর্নামেন্টের শুরুতে উইকেট যেমন আচরণ করেছে, এখন সে রকম করবে না। উইকেটে এখন কিছুটা রান হচ্ছে। আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করেছি। উইকেট আমরা সব সময় যেভাবে চাই, সেভাবে হবে না।'

দুই-একজন খেলোয়াড় জ্বলে উঠলেই বড় দলগুলো ম্যাচ জিতে যায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাব্বিরও প্রায় একই টেনেছেন বাংলাদেশকে। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, 'আমি বলবো চাপের মুখেও সাব্বিরের ওই ইনিসংটা বিশ্বেরই অন্যতম সেরা ইনিংস। এ ছাড়া মাহমুদউল্লাহ ও সাকিবের ইনিংসও সাব্বিরের ইনিংসের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আমি এভাবেই দেখি। রানের হিসেবে অনেক পার্থক্য থাকলেও, গুরুত্বের বিবেচনায় ছোট ইনিংসগুলোও খুবই কার্যকর। বোলিংয়েও সবাই ভালো করেছে। অন্য দলে দেখা যায়, দুইজন বোলার তিনটা তিনটা উইকেট নিয়ে নেয়, অন্যেরা সাপোর্ট দেয়। আমাদের কিন্তু সে রকম না। আমার কাছে মনে হয়, আমরা শেষ ম্যাচটিও জিতেছে দলীয় প্রচেষ্টার ফলেই।'

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানের শক্তিশালী পেস আক্রমণ নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ। বিশেষ করে টুর্নামেন্ট দুর্দান্ত বল করা আমিরকে নিয়ে। মাশরাফি বলেন, 'আমির তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। শুরুর দিকে উইকেট নেওয়ার দারুণ ক্ষমতা আছে তার। সব ধরনের বোলিং করতে পারে সে। আমরা যদি তাকে শুরুর দিকে উইকেট না দেই বা খেলে যেতে পারি তাহলেই ভালো হয়। তবে শুধু আমিরই নয়, অন্যেরাও খুব ভালো। সবার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।'

/আরআই/এমআর/