লম্বা সময়ের জন্য শান্তকে নেতৃত্বে দেখতে চান হাথুরুসিংহে

সাকিব আল হাসানের ইনজুরিতে বিশ্বকাপের মাঝপথে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব পান নাজমুল হোসেন শান্ত। একই কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের হোম সিরিজেও দায়িত্ব দেওয়া হয় টপ অর্ডার এই ব্যাটারকে। সদ্যই শেষ হওয়া নিউজিল্যান্ড সফরেও অধিনায়কত্ব করেন তিনি। টেস্ট সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডে গিয়ে শান্তর নেতৃত্বে হারের গেরো কাটায় বাংলাদেশ দল। দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তাকে লম্বা সময়ের জন্য অধিনায়ক হিসেবে চান প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রবিবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় তারা বেশ ভালোভাবেই চিন্তা করবে (শান্তকে দীর্ঘমেয়াদী অধিনায়ক করার ব্যাপারে)। অবশ্যই এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। কিন্তু শান্ত যথেষ্ট প্রমাণ রেখেছে তাকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়ার।'

শান্তর নেতৃত্বের প্রংশসা করে প্রধান কোচ আরও বলেছেন, 'এই সিরিজে তারা (বাংলাদেশ) দেখিয়েছে যে তারা মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে শান্তর নেতৃত্ব, যা অসাধারণ ছিল। ট্যাকটিক্যালি স্পট অন ছিল সে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বার্তায়ও তাকে খুব পরিষ্কার দেখা গেছে। সতীর্থদের স্পষ্ট করে বলেছে কার কাছে কী চায়।’

এবার নিউজিল্যান্ড সফরে সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে ওয়ানডেতে ছিলেন কেবল মুশফিকুর রহিম। তার অবদান ছাড়াই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। নতুন নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে গোটা দল। 

নানা জল্পনা কল্পনা এড়াতে হাথুরুসিংহে সিনিয়র ক্রিকেটারদের থাকা না থাকার প্রভাব এড়িয়ে গেলেও তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশংসা করতে ভুল করলেন না, 'যদি আমি কিছু বলি, তাহলে নানা জল্পনা তৈরি হবে সত্যি বলতে। সিনিয়রদের এখানে না থাকায় তাদের মনোভাবে কোনও সম্পর্ক নেই। আমার মনে হয় তারা তাদের ক্রিকেটটা উপভোগ করতে চেয়েছে। আমার মনে হয় ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা বেশ ভালো। কারণ তাদের যোগাযোগটা বেশ স্পষ্ট, যেমন আমি বলেছি শান্তর পক্ষ থেকে। তারা জানে যথেষ্ট ভালো খেলোয়াড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আছে। আমার মনে হয় এজন্য তাদের মনে কোনও ভয় ছিল না।'

সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এর আগে ভালো করতে দেখা গেছে লিটন দাসকেও। গত বছর ঘরের মাঠে তার নেতৃত্বে ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টেও লিটনের নেতৃত্বে আসে জয়। এবার দেখার অপেক্ষা নতুন বছরে পুরোনো সাকিবের ওপর দায়িত্ব চলে যায়, নাকি শান্তর কাঁধেই থাকে নেতৃত্ব ভার! 

যদিও কিছুদিন আগে ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানিয়েছিলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও তিন সংস্করণে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব।