২০২৩ সাল দুর্দান্ত কেটেছে প্যাট কামিন্সের। নেতৃত্ব নিয়ে টেস্ট ও ওয়ানডের চূড়ায় নিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়াকে। গত নভেম্বরে স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানান অস্ট্রেলিয়াকে। ওখানেই থামেননি। ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক ও বোলার হিসেবে রেখেছেন অসামান্য অবদান। তাতেই আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত হয়েছেন এই পেসার। তার সঙ্গে এই লড়াইয়ে নাম লিখেছেন বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস।
বাংলাদেশের মাটিতে টেস্টে অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিয়ে পা রাখে নিউজিল্যান্ড। তবে তাইজুল ইসলামের জাদুকরী বোলিংয়ে তাদের অজেয় মর্যাদা ধুলোয় মিশে যায়।
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়ের ৮৬ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে কেন উইলিয়ামসন সেঞ্চুরি করেন। আর ফিলিপসের চার উইকেটের বিপরীতে তাইজুল ১০৯ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট।
নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৩৩৮ রান করে দ্বিতীয় ইনিংসে। তারপর ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন তাইজুল। ১৫০ রানের জয়ে তিনি ৭৫ রান খরচায় নেন ৬ উইকেট।
দ্বিতীয় টেস্টেও দুরন্ত বোলিং করেন তাইজুল। হেরে গেলেও নেন ৫ উইকেট। প্রথম ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ১৫ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরাও হন।
কামিন্সও দেশের মাটিতে দুর্দান্ত বোলিং করেন। প্রথম ম্যাচে তিন উইকেট নিলেও বক্সিং ডে টেস্টে নিজেকে অন্যভাবে চেনান। শেষ ইনিংসে ৩১৭ রান আটকাতে গিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল অজিরা। ২ উইকেটে ১১০ রান তুলে ফেলে পাকিস্তান। কামিন্স অভাবনীয় বোলিংয়ে তাদের ২৩৭ রানে আটকাতে ভূমিকা রাখেন। দুই ইনিংসেই পাঁচটি করে উইকেট নেন তিনি এবং সিরিজ নিশ্চিত করা ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখান ফিলিপস। নিউজিল্যান্ডের এই বোলার ঘূর্ণি জাদুতে প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেন এবং ৬২ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। যদিও ম্যাচটি হেরে যায় নিউজিল্যান্ড।
দ্বিতীয় টেস্টে দলের রক্ষাকর্তা ছিলেন ফিলিপস। প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ১৭২ রানে আটকান তিনি। নিউজিল্যান্ড জবাব দিতে নেমে বিপদে পড়েছিল। ৪৬ রানে দলের অর্ধেক ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন নামেন ফিলিপস। ৭২ বলে ৮৭ রানের ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডকে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রাখেন তিনি।
স্বাগতিকরা তারপর ১৩৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয়। নিউজিল্যান্ড এই অল্প রানের লক্ষ্যে নেমে বিপাকে পড়েছিল। কিন্তু আবারও দাঁড়িয়ে যান ফিলিপস। ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারানো কিউইদের জয়ের বন্দরে নেন। মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে অপরাজিত জুটিতে নায়ক তিনি, ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। সমতায় শেষ করা সিরিজে নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন। ঢাকা টেস্টের ম্যাচসেরাও হয়েছেন এই অলরাউন্ডার।