ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফেরনান্দেজ ও গ্রানাডার কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্টের রসায়ন ছিল দেখার মতো। এই দুই বিদেশির সমন্বয়ে দারুণ জয় পেয়েছে আবাহনী। প্রিমিয়ার লিগে শেখ রাসেলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির দল। জোড়া গোল করেছেন কর্নেলিয়াস। জোনাথন করেছেন একটি।
শনিবার গোপালগঞ্জ শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে শুধু এই দুজন নন, আরেক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়াশিংটনও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তাতে তছনছ হয়েছে রাসেলের রক্ষণ।
প্রথমার্ধে আবাহনী আক্রমণে এগিয়ে থাকে। দুই গোলও আদায় করে নেয় এই অর্ধে। ম্যাচ ঘড়ির ১২ মিনিটে আসে প্রথম গোল। ওয়াশিংটনের পাসে কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট বক্সের মাঝ বরাবর দিয়ে ঢুকে ডান দিকে বল দেন জোনাথন ফেরনান্দেজকে, ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জড়িয়ে দেন জালে।
১৯ মিনিটে শেখ রাসেল সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ নষ্ট করে। মোহাম্মদ শাহীনের ডান প্রান্তের ক্রসে নিহাত জামান উচ্ছ্বাসের হেড পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে হতাশই হতে হয় সমর্থকদের।
যোগ করা সময়ে জোনাথনের দারুণ বুদ্ধিদ্বীপ্ত ফ্রি-কিকে ওয়াশিংটন বক্সে ঢুকে পাস দিয়েছিলেন, গোলকিপার সেটি ঠিকমতো প্রতিহত করতে পারেননি; সামনে থাকা কর্নেলিয়াস বল রিসিভ করে আলতো শটে লক্ষ্যভেদ করেছেন।
বিরতির পর শেখ রাসেল সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট করেছে। ৭০ মিনিটে ভালো সুযোগ পায় তারা। চন্দন রায় বক্সে ঢুকে ঠিকঠাক লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি। তার আগেই বাধা পান মাসুদ রানার কাছ থেকে।
দুই মিনিট পর আবাহনীও সুযোগ হারায় স্কোর বাড়ানোর। বদলি হিসেবে নামা জীবনের ফ্রি-কিকে এক ডিফেন্ডার হয়ে মিলাদ শেখের শট গোলকিপার প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সামনে থাকা কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্টের শট পোস্টের মাঝামাঝি লেগে ফিরে আসে।
৭৩ মিনিটে শেষ পর্যন্ত এক গোল শোধ দেয় শেখ রাসেল। চন্দনের ক্রসে ফাঁকায় থাকা সুমন রেজা দারুণ ফিনিশিং করেছেন। গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল বাঁ দিকে ঝাঁপালেও গোল বাঁচাতে পারেননি।
রাসেলকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ না দিয়ে আবাহনী ৮৫ মিনিটে তৃতীয় গোলের দেখা পেয়েছে। জোনাথনের ক্রসে কর্নেলিয়াস প্লেসিং করে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন। শেষ মুহূর্তে সারোয়ার নিপুর প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসলে শেখ রাসেল আর গোলের দেখা পায়নি।
আবাহনী চার ম্যাচে দুই জয় ও এক হার এবং ড্রতে ৭ পয়েন্ট পেয়েছে। সমান ম্যাচে শেখ রাসেল আগের ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে।