জয়ের পথেই ছিল ফরচুন বরিশাল। কিন্তু আব্বাস আফ্রিদিকে পরপর দুই ছক্কায় ম্যাচটা নিজেদের করে নেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের উইকেটকিপার ব্যাটার জাকের আলী অনিক। এরপর ১৮ বলে ৩৩ রানের সহজ সমীকরণ মিলিয়ে ৪ উইকেটে বিপিএলের প্রথম জয় তুলে নেয় তারা। অন্যদিকে টানা দুই হারের পর সিলেট পর্বে ভালো করার প্রত্যয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তামিম ইকবালের দলকে।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কুমিল্লা ও বরিশাল। টসে হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়া বরিশাল ১৬১ রানের বেশি করতে পারেনি। মাঝারি মানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে কুমিল্লার শুরুটাও হয় বাজেভাবে। ২৬ রানে কুমিল্লার দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। গতকাল ঢাকায় পা রাখা মোহাম্মদ রিজওয়ান আজ মাঠে নেমে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। ১৫ বলে ১৮ রান করে আউট হন পাকিস্তানি ব্যাটার। পরের বলেই গোল্ডেন ডাক মারের তাওহীদ হৃদয়।
২৬ রানে দুই উইকেট হারানোর পর লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস মিলে এগিয়ে নিচ্ছেলেন দলকে। কিন্তু ৩০ রানের জুটি হতেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক লিটন (১৩)। এরপর ইমরুল একাই দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। ৪১ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫২ রানের ইনিংস খেলে আব্বাসের বলে আউট হলে কুমিল্লার জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।
তবে ওই ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় আব্বাসের করা শেষ দুই বলে। জাকেরের পরপর দুই ছক্কায় ২৪ বলে ৪৭ রানের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩ ওভারে ৩৩ রান। পরের ওভারে আস্কিং রেট মিলিয়ে জয়ের পথেই থাকে কুমিল্লা। ১৯তম ওভারে ৯ রান দিলে শেষ ওভারে কুমিল্লার লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩ রান। ধুম-ধারাক্কার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব একটা কঠিন সমীকরণ হওয়ার কথা নয়।
তবে খালেদের শেষ ওভারের প্রথম বলেই খুশদিল শাহ রান আউট হন। ক্রিজে নামের নতুন ব্যাটার ম্যাথু ফোর্ড। পরের চার বল খেলে ফোর্ড দুই রান নেওয়ার পর ছয়, চার ও চারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেন। শেষ ওভারে খালেদের নিয়ন্ত্রণহীন বোলিং আর প্রীতম কুমারের বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিতে হয়েছে বরিশালকে।
বরিশালের বোলারদের মধ্যে দুনিথ ভেল্লালাগে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া বরিশালকে ডুবিয়ে খলনায়ক আব্বাস ও খালেদ নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়া বরিশালের শুরুটা হয় বাজে। চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকারের ৬৬ রানের জুটির ওপর দাঁড়িয়ে বরিশাল ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। মুশফিক ৪৪ বলে ৬২ রান করেন। সৌম্য ৩১ বলে খেলেন ৪২ রানের ইনিংস। বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল ১৯ রানের ইনিংস খেলেন।
কুমিল্লার হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ৩২ রানে নেন তিনটি উইকেট। রোস্টন চেজ ও ফোর্ড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।