টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে বিপিএলের প্লে অফ খেলার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কিন্তু তলানিতে থাকা সিলেট স্ট্রাইকার্সের কাছে তাদের জয়ের তরী ডুবলো। রবিবার সিলেটের দেওয়া ১৭৮ রান টপকাতে পারেনি কুমিল্লা। সুনিল নারিন-আন্দ্রে রাসেলকে যোগ করেও ১২ রানের হারে প্লে অফের টিকিট পাওয়ার অপেক্ষা বাড়লো।
এদিকে শুরুতে টানা হারের বৃত্ত ভেঙে দলটি শেষ দিকে এসে ফর্ম খুঁজে পেয়েছে সিলেট। আগের ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে শেষ ওভারে না হারলে হয়তো প্লে অফে খেলার সম্ভাবনা এখনও টিকে থাকতো তাদের।
চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লার লক্ষ্যটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। ১৭৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩৯ রানে দুই উইকেট হারায় তারা। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই করেন লিটন দাস। জনসন চার্লসের সঙ্গে তার ৭৯ রানের জুটির পর আর কেউ যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য কুমিল্লার প্রয়োজন ছিল ৩৭ রানের। বেনি হাওয়েলের করা ১৯তম ওভারে ১২ রান নিতে পারে কুমিল্লা।
ফলে শেষ ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় ২৫। প্রথম বলে লিটনকে ফিরিয়ে কুমিল্লার সম্ভাবনা শেষ করে দেন তানজিম হাসান সাকিব। ওই ওভারে রাসেল একটি ছয় ও চার মারলেও জয়ের সমীকরণ মেলাতে পারেননি। শেষ বলে আউট হন তিনি, ১৪ বলে করেন ২৩ রান। লিটন খেলেন ৮৫ রানের ইনিংস। ৫৮ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান কুমিল্লার অধিনায়ক।
সিলেটের বোলারদের মধ্যে তানজিম সাকিব ৩৩ রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সামিত প্যাটেল, শফিকুল ইসলাম ও হাওয়েল একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট। ব্যাটিংয়ের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে তারা। ৭৪ রানে হারায় টপ অর্ডারের চার উইকেট। আজও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে পঞ্চম উইকেটে হাওয়েল ও মোহাম্মদ মিঠুনের ৪২ বলে ৭৭ রানের জুটিতে সিলেট ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছে। মিঠুন ২০ বলে ২৮ রানে আউট হলেও হাওয়েল অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। ৩১ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬২ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন হাওয়েল। এছাড়া ওপেনার কেনার লুইসের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রানের ইনিংস।
কুমিল্লার বোলারদের মধ্যে নারিন ও রিশাদ হাসান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি উইকেট নেন মুশফিক হাসান।