সম্প্রতি অল্পতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন ক্রিকেটাররা। সাংবাদিকদের প্রশ্নটা যেমনই হোক না কেন, ক্রিকেটারদের যেন উত্তরটা দিতে হবে বাঁকা কথায়! সংবাদ সম্মেলনে প্রায় সাকিব আল হাসানকে এমন উত্তর দিতে দেখা যায়। প্রশ্নের পিঠে পাল্টা প্রশ্ন- এভাবেই চলে প্রেস কনফারেন্স! সাকিবের এই অভ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে লিটন দাস-নুরুল হাসান সোহানদের মাঝেও। আজ রংপুর রাইডার্সের অনুশীলন শেষে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নে ক্ষেপে গেলেন রংপুরের অধিনায়ক সোহান।
চলতি বিপিএলে বেশ কিছু ম্যাচ ইনটেন্ট নিয়ে ইমপ্যাক্টফুল ব্যাটিং করতে দেখা গেছে সোহানকে। বাকি ম্যাচগুলোতে যা ছিল অদৃশ্য। ১২ ম্যাচে রংপুরের অধিনায়কের রান ২০৭, সর্বোচ্চ ৪৬। চলমান বিপিএলে মিডল অর্ডারেই ব্যাটিং করে আসছেন তিনি। ১২ ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে ছিলেন নটআউট। শেষ তিন ম্যাচে তো দুই অঙ্কের ঘরও পেরোতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের অধিনায়কের রানে ফেরাটা জরুরি ছিল। এই কারণে আজ নেটে কঠোর অনুশীলন করতে দেখা গেছে তাকে। বোঝাই যাচ্ছিলো রানে ফিরতে মরিয়া উইকেটকিপার এই ব্যাটার।
রংপুর বসুন্ধরাতে অবস্থিত নিজেদের মাঠে অনুশীলন করছে। অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে আসেন অধিনায়ক সোহান। তাকে প্রশ্ন করা হয়- গত কয়েক ম্যাচ ধরে অফফর্মে আপনি, নিজেকে গোছানোর জন্যই কি আজকে আগেভাগে……; প্রশ্নটা শেষও হতে দেননি রংপুরের অধিনায়ক। পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন তিনি!
হাসিমুখেই সাংবাদিককে কটাক্ষ করেন সোহান, ‘অফফর্ম বলতে… ব্যাটে রান হচ্ছে না বলতে কী ১২ ম্যাচের মধ্যে ১২ ম্যাচেই রান করবো ভাইয়া? পাঁচটা ম্যাচে যে অবদান রাখছি, দেখেছেন? হয়তো আপনি আমাকে পছন্দ করেন না, নাহলে খেলা বোঝেন না। খেলা বুঝলে… আমি যে জায়গায় খেলছি ওইটার পরিসংখ্যান দেখবেন, কোন পজিশনে ব্যাটিং করেছি, কত রান করেছি- সেগুলো দেখে তারপর প্রশ্ন করা উচিত।’
সোহান ব্যক্তিগত লক্ষ্য পেছনে ফেলে দলের জয়ে অবদান রাখার চেষ্টা করেন বলে জানালেন, ‘দলের জন্য অবদান রাখার লক্ষ্য থাকে সবসময়। দল আমার কাছে কী চাচ্ছে, আমি ওটা দিতে পারছি কী না। ওটাই আসলে করার চেষ্টা করবো।’
সবার আগে টেবিল টপার হয়ে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে রংপুর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হেরেছে তারা। যদিও প্রথম দফায় জিতেছিল রংপুরই। সোমবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল। জিতলে তো ফাইনাল, হারলেও ফাইনালে উঠার আরও একটি সুযোগ থাকবে দুই দলের জন্যই!
১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে প্লে অফ খেলা রংপুর অবশ্য পা মাটিতেই রাখছে। কালকে সেরা ক্রিকেট খেলে ফাইনালের টিকিট পেতে আত্মবিশ্বাসী সোহান, ‘আলহামদুলিল্লাহ, পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় কোয়ালিফায়ারের নির্দিষ্ট দিনে কতটুকু ইনপুট দিতে পারছি, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। অবশ্যই কুমিল্লা ভালো দল কিন্তু আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’
সোহান আরও বলেছেন, ‘অবশ্যই ক্রিকেট সবসময় দলীয় খেলা, নির্দিষ্ট কোনও কিছু নির্ভরশীলতার নেই। আমরা দল হিসেবে ভালো করছি। দলের সবাই যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করছে ভালো খেলার। দলে যখন সাতজন বোলিং অপশন থাকবে, তখন ৮-৯ পর্যন্ত ব্যাটিং ডেপথ থাকে। নিজেদের সেরাটা দেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আমরা।’