বিপিএল

প্রথম থেকেই বিশ্বাস ছিল আমরা ফাইনাল খেলবো: মুশফিক

চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সামনে বিপিএলের আরও একটি শিরোপা জয়ের হাতছানি। ফাইনালে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাদের নেই। তবে কখনো হারেনি বলে যে সামনে হারবে না- এমন কথা বিশ্বাস করতে চান না বরিশালের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। 

বিপিএলে দেখা গেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের আধিপত্য। আগের নয় আসরের মধ্যে চারবার ফাইনালে উঠে চারবারই শিরোপা ছুঁয়েছে তারা। বিপিএলের দশম আসরে আরও একবার ফাইনালে উঠেছে লিটন দাসের কুমিল্লা। এবার তাদের প্রতিপক্ষ ফরচুন বরিশাল। শুক্রবার বরিশালকে হারাতে পারলেই পঞ্চম শিরোপার পাশাপাশি হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়বে। তবে এবার তামিম-মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকদের নিয়ে গড়া দলটি বিপক্ষে কুমিল্লার শিরোপা ছোঁয়াটা মিশন এতোটা সহজ হবে না। মুশফিকের কথাতে মিলেছে তার ইঙ্গিত।

সর্বশেষ ২০২২ সালের বিপিএলে কুমিল্লা ও বরিশাল ফাইনাল খেলেছিল। সেবার সাকিব আল হাসানের বরিশালের বিপক্ষে ১ রানে ম্যাচ জিতে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল কুমিল্লা। এবার অধিনায়ক পাল্টে বরিশালের অধিনায়ক হন তামিম ইকবাল। এবার কি কুমিল্লাকে হারিয়ে বরিশাল প্রথম শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে? দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রংপুরকে হারিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিক বলেছেন, ‘দেখা যাক, আমার তো ইচ্ছা আছে (প্রথমবার ট্রফি জয়ের)। সবারই তো ইচ্ছা থাকে, বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা। এত দূর এসেছি… চেষ্টা থাকবে যেন চ্যাম্পিয়নশিপটা নিতে পারি। কুমিল্লা কখনও ফাইনালে হারেনি। কে জানে, হয়তো এবারই প্রথম হারবে!’

বিপিএলের তৃতীয় আসর থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অংশ নিচ্ছে। প্রথম আসরে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাজিমাত করে তারা। দুই আসর পর ২০১৮ সালে ফের তাদের ঘরে শিরোপা আসে। ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে কুমিল্লা খেলেনি। এরপর ফিরে এসে টানা দুই বছর চ্যাম্পিয়ন। এবার তো হ্যাটট্রিক শিরোপার অপেক্ষায় দলটি। 

অন্যদিকে বরিশাল ফ্যাঞ্চাইজি চতুর্থ বারের মতো ফাইনালে উঠেছে। ২০১২ সালে প্রথম আসরে বরিশাল হেরেছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে। ২০১৫ সালেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হারে বরিশাল। ভাগ্য পাল্টায়নি ২০২২ সালেও। এবারও কুমিল্লার কাছে শিরোপা হারায় তারা। এক বছর পর আরও একটি ফাইনালে তামিমের নেতৃত্বাধীন বরিশাল। এবারও তাদের সামনে প্রতিপক্ষ কুমিল্লা। দুইবার কুমিল্লাতে হোঁচট খাওয়া বরিশাল কি এবার পারবে শিরোপা খরা কাটাতে?  

মুশফিক বলেছেন, ‘আপনারা কতটুকু বিশ্বাস করেছেন জানি না, তবে আমাদের প্রথম থেকেই বিশ্বাস ছিল যে আমরা প্লে-অফ খেলবো এবং ফাইনাল খেলবো। সত্যি বলছি। যখন এমন পরিস্থিতি ছিল যে হয়তো হারলেই বাদ… তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকলে কিন্তু পারফর্ম করার সেরা সময়। তখন হারানোর আর কিছু থাকে না। আশা করি, আর একটা ম্যাচ আছে; ফাইনালে যারই দিন হবে, সে যেন ম্যাচটা শেষ করতে পারে।’