শান্ত আগে ব্যাটার, পরে অধিনায়ক

বিপিএলের লম্বা সূচির ধকল কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আবার মাঠে নামতে হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যদিও তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স এই খারাপ, তো এই ভালো। পুরো বিপিএলে ব্যাটিং খরায় ভুগেছেন তিনি। এবার অধিনায়ক হিসেবে বাড়তি চাপ নিয়েই ব্যাটিং করতে হবে তাকে। শান্ত অবশ্য অধিনায়ক এবং ব্যাটার দুটো বিষয়কেই আলাদাভাবে দেখেন।

বিপিএলের আগে নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে রান পাননি শান্ত। ওই ‘ব্যাডপ্যাচ’ পুরো বিপিএলে বয়ে বেরিয়েছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের এই ব্যাটার। ৯ ম্যাচে শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ১৭৫ রান, সর্বোচ্চ ৩৯। এই মুহূর্তে পুরোপুরি অফফর্মে থাকা শান্ত কি অধিনায়কত্বের চাপটা সামলাতে পারবেন? 

শান্ত জানালেন, ‘অধিনায়ক না থাকলেও রান করতে হবে। অধিনায়ক থাকলে যে আলাদাভাবে রান করতে হবে ওইরকম কিছু না। আমার কাছে মনে হয় সবার আগে আমি একজন ব্যাটার। আমার কাজ রান করা, যখন আমি ব্যাট করি। তারপরে আমার যে দায়িত্বটা আছে সেটা আমি করবো, মাঠে বা মাঠের বাইরে। অধিনায়ক বলে আলাদা করে কিছু করতে হবে তা নয়। আমি যখন ব্যাট করবো, তখন নিজের দায়িত্বটা পালনের চেষ্টা করবো।’

বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বেশ সফল শান্ত। নিউজিল্যান্ড সফরে একটি টি-টোয়েন্টি জিতে তারই অধীনে সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ। এরপর একটি ওয়ানডেও সেখানে জেতে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে শান্তর নেতৃত্বে একটি টেস্ট ম্যাচও জেতে বাংলাদেশ। তিন ফরম্যাটের নেতৃত্বে একসঙ্গে পালন করা চ্যালেঞ্জিং হলেও শান্ত মনে করেন, এতে তার পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে, ‘আমার মনে হয় কাজটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু পরিকল্পনা করার দিক থেকে আমি বলবো যে সহজ হবে। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় সম্পর্কে জানতে হবে। যদিও খেলার মধ্যেই থাকি, একসঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। পরিকল্পনা করা আমার জন্য সহজ হবে যেহেতু তিন সংস্করণেই দায়িত্বে আছি।' 

অনিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে পালন করা দায়িত্বের অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগবে বলে মনে করেন শান্ত, 'যখন অধিনায়ক ছিলাম না, তখনও চিন্তা করতাম দলকে কীভাবে ইনপুট দিতে পারি। আমার মনে হয় এটা কাজে লাগবে আরও। আলাদাভাবে চিন্তা করছি না যে আমি অধিনায়ক, আমার অনেক কিছু করা লাগবে। প্রতিটি খেলোয়াড়েরও দায়িত্ব আছে। সবাই যদি যার যার দায়িত্ব পালন করে, আমার মনে হয় কাজটা সহজ হয়ে যাবে। এটা নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করছি না।’

বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে পেরে দারুণ খুশি শান্ত, 'অবশ্যই এটা অনেক আনন্দের, পরিবারের জন্য অনেক গর্বের ব্যাপার। প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার। ওই সুযোগ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড করে দিয়েছে, অবশ্যই তাদের ধন্যবাদ জানাই আর খুবই আনন্দিত।’