‘আজকে দেখি দর্শকের চেয়ে সাংবাদিক বেশি, কার মুখে আঁকবো’ 

সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সোমবার প্রথম ম্যাচে টস জিতে বোলিং নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ। নতুন বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, অথচ সিলেট স্টেডিয়াম প্রত্যাশিত দর্শক নেই। সিরিজ নিয়ে প্রচার না থাকায় দর্শক হয়নি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এমনিতে সিলেট খেলা মানেই দর্শকদের উন্মাদনা, টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি। কিন্তু এবার এর কিছুই নেই। দর্শকদের মধ্যে আগ্রহের ভাটার কারণ হতে পারে টানা খেলা। বিপিএল শেষে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ হওয়াতে মাঠে বসে খেলা দেখার আগ্রহ পাচ্ছেন না দর্শকরা।

এমনিতে ম্যাচের আগের দিন থেকেই টিকিট নিয়ে উত্তেজনা থাকে স্টেডিয়াম পাড়ায় কিংবা নির্দিষ্ট বুথে। সেসব কিছুই নেই সিলেটে। শহরের কোথাও সিরিজ নিয়ে কোনও ব্যানার কিংবা ফেস্টুন চোখে পড়েনি। অথচ এই বিভাগ থেকেই গত কয়েক বছরে ৫-৬ জন ক্রিকেটার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন, এরই মধ্যে একজনের আজ খেলছেন। এশিয়ান গেমসের তিনটি ম্যাচ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়াতে আজকের ম্যাচটি জাকের আলী অনিকের জন্য অভিষেক ম্যাচ হিসেবে গণ্য হয়নি। চায়ের শহর থেকে ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ, জাকির হাসানসহ বেশ কিছু ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলেছেন। তারপরও এই শহরে দর্শকদের মাঠে আসার আগ্রহ নিয়ে ভাটার টান!

বিক্রয়কর্মীদের মাথায় হাত পড়েছে

ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে লোকে লোকারণ্য থাকে স্টেডিয়াম পাড়া। কিন্তু সিলেট স্টেডিয়ামের মূল ফটকেও ছিল না কোনও ভিড়-ভাট্টা। টিকিট কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সকাল থেকেই অখণ্ড অবসরে! ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে থেকে তাদের ব্যস্ততা খানিকটা বেড়েছে। তাও কাউকে কোনও প্রকার লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। যে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি থাকে, সেই টিকিটের ব্যান্ডেল পড়ে ছিল কাউন্টারগুলোতে। আগ্রহী দর্শকরা আশা মাত্রই টিকিট নিয়ে ঢুকে যেতে পারছেন গ্যালারিতে। ম্যাচের আগের দিন তো রিক্সায় ঘোষণা দিয়ে টিকিট বিক্রয় করা হয়েছে। 

বেশ কিছু দর্শকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, একে তো বিপিএলের মতো বড় একটি টুর্নামেন্ট দেখে ক্লান্ত দর্শকরা। তার মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের আগে যথেষ্ট প্রচার প্রচারণার অভাব ছিল। এসব কারণ মিলিয়ে দর্শকরা আগ্রহী হয়ে ওঠেননি। তাছাড়া আজকে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। অফিস করে সন্ধ্যায় মাঠে আসাটা বেশ কঠিন। তবে সময় যত গড়িয়েছে, অল্প হলেও দর্শক আসতে শুরু করেছেন। স্টেডিয়ামের সাধারণ গ্যালারি প্রায় ভরা থাকলেও বাকি গ্যালারিতে ছিল খরা।

sylhet supp2

দর্শক কম হওয়াতে সবচেয়ে বেশি মন খারাপ স্টেডিয়ামরে আশপাশে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। স্টেডিয়ামের সামনে জার্সি, ক্যাপ, পতাকা নিয়ে বসা এইসব ব্যবসায়ীদের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। আব্দুর সাত্তার নামের এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি পতাকা আর ক্যাপ নিয়ে বসেছেন। ৪ ঘণ্টা ধরে বসে থেকেও একটি পতাকা বিক্রয় করতে পারেননি তিনি। সাত্তারের মতো আরও অনেকেই জার্সিসহ নানা জিনিস নিয়ে বসেছেন। কারও বিক্রির অবস্থাই ভালো নয়। অনেক কম মূল্যে কেউ কেউ কেবল জার্সির পসরা নিয়ে বসেছেন। বেচা-বিক্রি তাদেরও ভালো নয়।

এদিকে রং তুলির আঁচড়ে গালে, কপালে দেশের নাম, প্রিয় ক্রিকেটারদের নাম লিখে নেন অনেকেই। স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে বেশ কয়েকজন আঁকিয়ে রং নিয়ে দর্শকের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু দর্শক কম হওয়ায় আক্ষেপ রাসেল নামের এক যুবকের। ওই সময় টিকিট নিয়ে প্রতিবেদন সংগ্রহে কাজ করছিলেন সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। রাসেল তার আরেক সহকর্মীকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ‘দর্শকদের থেকে সাংবাদিকই তো বেশি। সবার হাতেই দেখি ক্যামেরা। দর্শকই তো নাই। আমরা কার মুখে আকঁবো।’