২৩ রানে তিন উইকেট হারানোর পরে ম্যাচে ফেরা যে কোন দলের জন্যই বেশ কঠিন। সেই কঠিন কাজটাই সহজ করে তুলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে শান্তর সঙ্গে দু’জনই গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছেন। এই জুটির ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ ২৫৬ রানের লক্ষ্যটা ৩২ বল আগেই ছুঁয়ে ফেলে। ম্যাচ জয়ের নায়ক শান্ত হলেও পার্শ্ব-নায়কের ভূমিকাতে ছিলেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। তাইতো ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্পের কণ্ঠে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক স্তুতি।
বৃহস্পতিবার ঐচ্ছিক অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। তাওহীদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, এনামুল হক বিজয়, রিশাদ হোসেন ও তাইজুল ইসলামকে নিয়ে হয় এই অনুশীলন। কোচিং স্টাফদের সবাই ছিলেন মাঠে। যদিও বৃষ্টির কারণে ঠিকঠাক অনুশীলন করা যায়নি। অনুশীলন শেষে ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প ভিডিও বার্তায় কথা বলেছেন। সেখানেই মাহমুদউল্লাহর প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘বল সুইং করছিল। লঙ্কানরা স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করছিল। রিয়াদ খুব বুঝে শুনে খেলছিল। তার অ্যাপ্রোচ লঙ্কানদের চাপে ফেলে দেয়। শান্তর সঙ্গে তার ৬৯ রানের জুটিই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে। তার অ্যাপ্রোচ শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে আমাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ এনে দিয়েছে।’
মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ার পর ক্রিজে নামেন মুশফিক। কঠিন চাপ মাথায় নিয়ে শান্তর সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১৬৫ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন তিনি। লঙ্কান লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গাকে বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে প্রতিটি শটেই রাখেন অভিজ্ঞতার ছাপ। শান্ত সেঞ্চুরি পেলেও মুশফিক খেলেছেন অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস। প্রথম ম্যাচে উইকেট কিপার ব্যাটারের এই ভূমিকা মনে ধরেছে হেম্পের, ‘মুশফিকের ইনিংস আউটস্ট্যান্ডিং। সে মোটেও বিচলিত হয়নি। রিয়াদ বাউন্ডারিতে রান বের করছিল, মুশফিক সেটাকে নিজের মতো খেলে অব্যাহত রেখেছে। সে প্রমাণ করেছে রান করা মানেই শুধু বাউন্ডারি নয়, সিঙ্গেল রোটেশন করেও রান বের করা যায়। পুরো ইনিংসজুড়েই সে দারুণ খেলেছে।'
অধিনায়ক হিসেবে শান্ত সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খেলেছেন ১২২ রানের অপরাজিত ইনিংস। শান্তর প্রশংসা করে হেম্প বলেছেন, ‘১৬৫ রানের পার্টনারশিপ আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে। শান্ত ও মুশফিক ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছে দেখে খুব ভালো লাগলো। ক্যাপ্টেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সে নিজের কাঁধে দায়িত্ব নিচ্ছে। খেলোয়াড় হিসেবে তো বটেই, অধিনায়ক হিসেবেও এমন ইনিংস মুগ্ধকর। ব্যাটাররা নিজেদের শক্তিমত্তা অনুযায়ী খেলছে। আমিও ওদের বলেছি, নিজের শক্তির জায়গা বুঝে খেলো।'
ব্যাটিংয়ে মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও শান্ত ভূমিকা রাখলেও বোলারদের ভূমিকাও কম নয়। বিনা উইকেটে ৭০ রান তুলে ফেলা লঙ্কানদের ২৫৫ রানে অলআউট করার কৃতিত্ব বোলারদেরও। তাসকিন, শরিফুল, জুনিয়র সাকিব সবাই- যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছেন। দলীয় প্রচেষ্টায় এই সাফল্য কোচকে তৃপ্তি দিচ্ছে। হেম্প আশা করেন সামনের ম্যাচেও এই ধারা অব্যাহত রাখবেন তার শিষ্যরা।