ওয়ানডে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে লিটন দাসের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। টানা দশ ম্যাচে নেই কোনও হাফসেঞ্চুরি। লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। সবকিছু মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে বাদ দেওয়া হয়েছে উইকেটকিপার ব্যাটারকে। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছেন, ফর্মহীনতার কারণে লিটন বাদ পড়েছেন।
লঙ্কানদের বিপক্ষে দুই ওয়ানডেতেই দৃষ্টিকটু শটে আউট হয়েছেন লিটন। দুই ম্যাচে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে লিটনকে শেষ ম্যাচে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে অন্য ওপেনারদের পরখ করতে পারতো। সেটি না করে লিটনকে সরাসরি ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগ খেলতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে ইঙ্গিতটা এখন বেশ স্পষ্ট- জাতীয় দলে পারফর্ম না করলে কারোর সুযোগ নেই। তাহলে লিটনের বাদ পড়া কি কোনও বার্তা দিচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, ‘প্রত্যেকেটা নির্বাচক প্যানেলের আলাদা আলাদা চিন্তা ভাবনা থাকে। একেক জনের চিন্ত ভাবনা একেক রকম। এটা যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে বলতে পারবো না। তাদের চিন্তা কী ছিল, তাদের সাথে আমার ওরকম কথা হয়নি। এটা টিম ম্যানেজমেন্ট কোচ কিংবা ক্যাপ্টেন ভালো বলতে পারবেন। তবে এতটুকু বলতে পারি প্রত্যেক প্লেয়ারকে পারফর্ম করতে হবে।’
পারফর্ম না করে জাতীয় দলে খেলে যাওয়ার কোনও বিকল্প নাই উল্লেখ করে মিরাজ আরও বলেছেন, ‘পারফর্ম করেই ক্রিকেটারদের খেলতে হবে, সেটা প্রত্যেক জায়গায়। আমার কাছে মনে হয় যে প্রত্যেকেটা খেলোয়াড়ের আরও বেশি সিরিয়াস হওয়া উচিত এ ক্ষেত্রে। কোন জায়গায় উন্নতি করলে ভালো হবে, সেটা নিয়ে কাজ করা উচিত।’
এ সময় মিরাজ জোর গলায় বলেছেন, জাতীয় দলে আসলে কোন অটোচয়েজ নেই, ‘জাতীয় দল এমন একটা জায়গা আপনাকে পারফর্ম করে স্টাবলিস্ট হতে হবে। এটা একদিনের না। দেখেন মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাইরা অনেক বছর সার্ভিস দিয়েছে। তাদেরও কিন্তু আপস ডাউনস ছিল। আমার কাছে মনে হয় পারফর্ম করে জাতীয় দলে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। খারাপ খেললে কিন্তু আপনিও চান্স পাবেন না, এটা প্রত্যেকেটা খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে।’
মিরাজ মনে করেন, লিটন দ্রুতই জাতীয় দলে ফিরবেন, ‘ক্যারিয়ারে সে অনেক ভালো ইনিংস খেলেছে। তার অনেক ইনিংস আছে যেটা স্মরণীয়। তবে সে বাদ পড়েছে ওইরকম কিছু না। আমরা জানি সে কেমন প্লেয়ার। একটু হয়তো অফফর্মে আছে। আবার খুব দ্রুত সে বাংলাদেশ দলে ফিরে আসবে, এটা আমি বিশ্বাস করি।’