৩ রান আউটেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে উপভোগ্য ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। তবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল নুন্যতম প্রতিরোধও গড়তে পারেনি। আগে ব্যাটিং করে ২১৪ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৯৬ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিক দল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান আউটের ঘটনা ঘটেছে তিনটি! ওই রান আউটই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বলে মনে করেন নাহিদা আক্তার।

বাংলাদেশ ইনিংসে পরপর তিন ব্যাটার বিদায় দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হয়েছেন। ফোবি লিচফিল্ডের দারুণ ফিল্ডিংয়ের পর সরাসরি থ্রোয়ে বিদায়ঘণ্টা বাজে ফাহিমার। রিতু মনিকে সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করেন বেথ মুনি। ক্রিজ পার করলেও ব্যাট বাতাসে থাকায় বিদায় ঘণ্টা বাজে রিতুর। অন্যদিকে, অদ্ভুতভাবে রান আউট হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। পপিং ক্রিজে যেন ব্যাট নামাতেই ভুলে যান তিনি। এর আগে শুরুতে ছন্দময় বোলিং করলেও শেষ দিকে গিয়ে খেই হারিয়েছে।

বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা মনে করেন, শেষের বোলিং আর তিনটি রান আউটই তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে, ‘পার্থক্য যদি বলি, বোলিং একটু খারাপ হয়েছে। এর চেয়ে ভালো করতে পারি। ব্যাটিংয়ে ৩টা রানআউট হওয়াতে পিছিয়ে গিয়েছিলাম। জ্যোতি আপু ও সোবহানা ভালো জুটি গড়ছিল। রানআউট হওয়াতে পিছিয়ে পড়েছি।’

মিস ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি অন্তত তিনটি ক্যাচ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাতের সুযোগ নিয়েই অস্ট্রেলিয়া ২১৩ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে। বিশেষ করে অষ্টম উইকেটে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ও অ্যালানা কিং  ৫৬ বলে যোগ করেছেন ৬৭ রান। তবে ক্যাচ মিস এবং মিস ফিল্ডিংকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই দেখছেন নাহিদা, ‘ক্যাচ তো মিস হতেই পারে। মিস হওয়ার পরও যাদের ক্যাচ পড়েছে, তারা বেশিক্ষণ খেলতে পারেনি। এসব ক্রিকেটের পার্ট। ভালো হবে, খারাপ হবে। মাঝে ওরা সেট হয়ে গিয়েছিল, জুটি হয়ে গিয়েছিল, সেটা আগে ভাঙতে পারলে চিত্রটা আলাদা হতো। ’

এদিকে বৃহস্পতিবার নাহিদা আক্তার ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে সালমা খাতুনকে টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বনে গেছেন। ৩৯ ইনিংসে নাহিদার উইকেট ৫৩টি। ৪৪ ইনিংসে ৫১ উইকেট নিয়ে এতদিন শীর্ষে ছিলেন ২০২২ সালে সবশেষ ওয়ানডে খেলা সালমা। সংবাদ সম্মেলনে এই অর্জনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নাহিদা বলেছেন, ‘এটা আমি জানি না ভাইয়া (সর্বোচ্চ উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ড)। ম্যাচ জিতলে ভালো লাগে। এখন চিন্তিত না কোন রেকর্ড হচ্ছে বা না হচ্ছে। দলে অবদান কতখানি রাখতে পারছি সেটাই ব্যাপার।’

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিধ্বস্ত হলেও সামনের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে ভুলগুলো নিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়ে গেছেন তিনি, ‘এটা মনে হয়নি যে মানসিক দিক দিয়ে পিছিয়ে আছি। আমরা কখনও অতি আত্মবিশ্বাসী হইনি। আমাদের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করবো, কাজ করবো পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে।’