বাংলাদেশকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩/৬ (লিটন ১৪, সৌম্য ২০, শান্ত ৩, হৃদয় ৫৮, সাকিব ৬, মাহমুদউল্লাহ ৩১, জাকের ৯*; টেলর ২/৯)

যুক্তরাষ্ট্র: ১৯.৩ ওভারে ১৫৬/৫ (টেলর ২৮, মোনাঙ্ক ১২, গাওস ২৩, জোন্স ৪, নিতিশ ১০, অ্যান্ডারসন ৩৪*, হারমীত ৩৩*; মোস্তাফিজ ২/৪১)

ফল: যুক্তরাষ্ট্র ৫ উইকেটে জয়ী।

আমেরিকান ক্রিকেটে ২১ মে দিনটা নিশ্চিতভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশকে হারালো তারা। অভূতপূর্ব অঘটনের শিকার হওয়ার তালিকায় নাম যুক্ত হলো বাংলাদেশের। হিউস্টনের প্রেইরি ভিউয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস গড়লো যুক্তরাষ্ট্র। 

১৬ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৯৯ রান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ১৫৪ রানের লক্ষ্য ছোঁয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল। যদিও ওপেনিংয়ে মোনাঙ্ক প্যাটেলকে নিয়ে স্টিভেন টেলর দারুণ শুরু এনে দেন। ২৭ রানে এই জুটি ভেঙে যাওয়ার পর আন্দ্রিয়াস গাওস দ্রুত রান তোলেন। এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের স্পিনারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল স্বাগতিকরা। 

কিন্তু হারমীত সিং ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। রান তাড়া করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্যাট চালাতে থাকেন কোরি অ্যান্ডারসনও। মোস্তাফিজুর রহমানকে ১৭তম ওভারে টানা দুটি ছক্কা মানের। মোমেন্টাম ধরে রাখেন শরিফুল ইসলামের ওভারেও। এই দুই ওভারে ১৭ ও ১৪ রান তোলে আমেরিকা। শেষ দুই ওভারে দরকার ২৪ রান, মোস্তাফিজ শেষ ওভারেও ছিলেন খরুচে। ১৯তম ওভারে দেন ১৫ রান। তাতে শেষ ওভারে লাগতো ৯ রান। মাহমুদউল্লাহ বল হাতে নিয়ে দলের ত্রাতা হতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার অ্যান্ডারসন প্রথম বলে ছক্কা মারেন। তৃতীয় বলে হারমীত চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নেন। ১৯.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট ইতিহাসে ষষ্ঠ উইকেটে রেকর্ড ৬২ রান করে দলকে জেতান অ্যান্ডারসন ও হারমীত। ১৩ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন হারমীত। ২৫ বলে অ্যান্ডারসনের ৩৪ রানের ইনিংসে ছিল দুটি চার।

৭ ওয়াইডসহ ১২টি অতিরিক্ত রান দিয়েছে বাংলাদেশ, প্রায় প্রতিটি অতিরিক্ত রান থেকে সুবিধা আদায় করেছে আমেরিকানরা।

এর আগে তাওহীদ হৃদয়ের ৫৮ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান করে। মাহমুদউল্লাহ খেলেন ৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে থাকলো যুক্তরাষ্ট্র। 

হারমীত ঝড়ে চাপে বাংলাদেশ

১৬ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৯৯ রান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ১৭ ও ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম যথাক্রমে ১৭ ও ১৪ রান দিলেন। তাতে শেষ দুই ওভারে ২৪ রান দরকার স্বাগতিকদের। এই সময়ে হারমীত সিং তিন ছয় ও দুটি চার মেরে বাংলাদেশকে চাপে ফেললেন। শেষের আগের ওভারে মোস্তাফিজ দেন ১৫ রান। তাতে শেষ ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন কমে দাঁড়ায় ৯ রানে।

যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম উইকেট শরিফুলের

মোস্তাফিজুর রহমানের জোড়া আঘাতের পর কোরি অ্যান্ডারসন ও নিতিশ কুমারের জুটি প্রতিরোধ গড়েছিল। ১৬ রানের বেশি করতে পারেনি এই জুটি। শরিফুল ইসলামের বলে নিতিশ ১০ রান করে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ হন। ৯৪ রানে ৫ উইকেট পড়লো যুক্তরাষ্ট্রের।

মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে মাত্র ৩ রান দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১২তম ওভারে দ্বিতীয়বার বোলিংয়ে এসে বাজিমাত করলেন বাংলাদেশের পেসার। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা স্টিভেন টেলরকে ফেরানোর পর একই ওভারে অ্যারন জোন্সকে থামান। তার জোড়া আঘাতে চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ৭৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

২৯ বলে ২৮ রান করেন টেলর। তিনি ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহকে। ১২ বলে ৪ রান করে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ হন জোন্স।

রিশাদ ভাঙলেন শক্ত জুটি

বাংলাদেশকে চাপে রেখেছিল স্টিভেন টেলর ও আন্দ্রিয়াস গাওসের জুটি। অবশেষে রিশাদ হোসেন ভেঙে দিলেন ৩৮ রানের এই জুটি। মোস্তাফিজুর রহমান ক্যাচ নেন। নবম ওভারে গাওস আউট হন ১৮ বলে ৪ চারে ২৩ রান করে। ৬৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট পেলো বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশকে চাপে রাখলো যুক্তরাষ্ট্র

পাওয়ার প্লে শেষে বল হাতে বাংলাদেশ স্বস্তিতে নেই। ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৩ রান দিয়েছে তারা।

এই সময়ে কেবল মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া আর প্রত্যেকের ওভারে চার-ছয় বের করে নিয়েছে আমেরিকান ব্যাটাররা। ষষ্ঠ ওভারে বাঁহাতি পেসার মাত্র ৩ রান দেন।

একমাত্র উইকেট এসেছে সৌভাগ্যের ছোঁয়ায়। স্টিভেন টেলরের শট শরিফুল ইসলামের হাত ছুঁয়ে স্টাম্পে লাগে। মোনাঙ্ক প্যাটেল ক্রিজের বাইরে থাকায় আউট হন। তারপর থেকে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন টেলর ও আন্দ্রিয়েস গাওস।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙলো বাংলাদেশ

সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় বাংলাদেশ পেলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম উইকেট। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে স্টিভেন টেলর সোজাসুজি শট নেন। বল ঠেকাতে চেয়েছিলেন বোলার শরিফুল ইসলাম, তার আঙ্গুল ছুঁয়ে লাগে স্টাম্পে। তখন ক্রিজের বাইরে ছিলেন নন স্ট্রাইকে থাকা মোনাঙ্ক প্যাটেল। ২৭ রানে ভেঙে যায় উদ্বোধনী জুটি। ১০ বলে ১২ রান করেন মোনাঙ্ক।

প্রথম দুই ওভারে খরুচে বাংলাদেশ

১৫৩ রান প্রতিহত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ওভারে বল হাতে নেন মাহমুদউল্লাহ। ৮ রান দেন তিনি। পঞ্চম বলে স্টিভেন টেলরের কাছে চার হজম করেন এই স্পিনার। পরের ওভারে শরিফুল ইসলাম ছিলেন আরও খরুচে। বাঁহাতি পেসার দুটি ওয়াইডসহ মোট ১১ রান দেন। ২ ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ১৯ রান।

হৃদয়ের ফিফটিতে বাংলাদেশের রান ১৫৩

দারুণ শুরুর পরও উদ্বোধনী জুটিতে লিটন দাস ও সৌম্য সরকার ৩৪ রানে বিচ্ছিন্ন হন। পাঁচ বলের ব্যবধানে দুজন ফিরে যান। নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসানও হতাশ করেন। ৬৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ায় তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহর পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে। ৪৭ বলে তাদের ৬৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে স্বস্তিতে রেখেছিল। ইনিংসের শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ ফিরে যান। শেষ ওভারে জাকের আলী টানা দুটি চার মেরে রানের গতি বাড়ান। ওই ওভারে ১৭ রান তোলে বাংলাদেশ। শেষ বলে স্টিভেন টেলরের ক্যাচ হন হৃদয়। ৪৭ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে ৫৮ রান করেন তিনি। তার ব্যাটে চড়ে বাংলাদেশ করেছে ৬ উইকেটে ১৫৩ রান।

হৃদয়ের হাফ সেঞ্চুরির পর মাহমুদউল্লাহ আউট

১৮তম ওভারের প্রথম বলে হারমীত সিংয়ের কাছ থেকে সিঙ্গেল আদায় করে হাফ সেঞ্চুরি করলেন তাওহীদ হৃদয়। ৬৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে দারুণ জুটিতে বাংলাদেশকে স্বস্তিতে রাখেন তিনি। ৪০ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ফিফটি করেছেন হৃদয়।

পরের ওভারে ভেঙে যায় দুর্দান্ত এই জুটি। ৪৭ বলে ৬৭ রান করেন দুজনে মিলে। মাহমুদউল্লাহ ২২ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ৩১ রান করে নিতিশ কুমারকে ক্যাচ দেন। বোলিংয়ে ছিলেন সৌরভ নেত্রাভালকার। ১৩৫ রানে ৫ উইকেট পড়লো বাংলাদেশের।

নো বলে রক্ষা পেলেন হৃদয়

১৪তম ওভারের শেষ বলে তাওহীদ হৃদয় কভার ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন। কিন্তু বোলার হারমীত সিংয়ের পায়ের নো বলে ৪১ রানে জীবন পান তিনি।

হৃদয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে ভুল করলেন সাকিব

সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে বিপদে পড়লো বাংলাদেশ। ইনিংসের ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাওহীদ হৃদয় পয়েন্টে বল ঠেলে দিয়ে তাকে রান নেওয়ার জন্য কল করে আবার ফিরে যেতে বলেন। সাকিব তখন পিচের মাঝামাঝি জায়গায়, হাল ছেড়ে দিয়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। স্টিভেন টেলরের থ্রো থেকে হারমীত সিংয় ভেঙে দেন স্টাম্প। ১২ বলে ৬ রানে রানআউট সাকিব। ৬৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। 

৩ রানে আউট শান্ত

স্টিভেন টেলরের বল ক্রিজ থেকে বেরিয়ে মারতে চাইলেন শান্ত। বল ব্যাটে লাগেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কিপার মোনাঙ্ক দ্রুত স্টাম্প ভাঙলেন। ১১ বলে ৩ রানে বিদায় অধিনায়ক। ৭.২ ওভারে ৫১ রানে তিন উইকেট হারালো বাংলাদেশ।

পাঁচ বলের মধ্যে লিটন ও সৌম্যর বিদায়

পাঁচ বলের মধ্যে বাংলাদেশের দুই ওপেনার প্যাভিলিয়নে। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে লিটন দাস এলবিডব্লিউ হন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের প্রথম বলে ফিরে গেলেন সৌম্য সরকারও। স্টিভেন টেলরের বলে বাউন্ডারির দড়ির কাছে কুমারের ক্যাচ হন তিনি। ১৩ বলে তিন চারে ২০ রান করেন এই ওপেনার। স্কোর ৩৪ রান থাকতেই ২ উইকেট নেই। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৩৭ রান করে তারা।

বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ লিটন

২ রানে জীবন পেয়ে লিটন দাস বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম ছক্কা হাঁকান। পরে একটি চারও মারেন তিনি। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র সফরে ব্যর্থ হলেন প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে জাসদীপ সিংয়ের বলে এলবিডব্লিউ এই ওপেনার। ১৫ বলে একটি করে চার ও ছয়ে ১২ রান করেন তিনি। ৩৪ রানে ভাঙলো উদ্বোধনী জুটি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে তিন ম্যাচ খেলে যথাক্রমে ১, ২৩ ও ১২ রান করেন লিটন। ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও টিম ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তার ওপর আস্থা রাখেন। আমেরিকায় প্রথম ম্যাচে তার প্রতিদান দিতে পারলেন না লিটন। 

জীবন পেলেন লিটন

দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে সৌম্য সরকার আলী খানকে চার মারেন। পঞ্চম বলে জীবন পান লিটন দাস। উইকেটকিপার মোনাঙ্ক প্যাটেলের হাত ফসকে বেঁচে যান তিনি। ২ রানে জীবন পেয়ে পরের ওভারে ছক্কা হাঁকান লিটন। সৌম্য সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি মারছেন। তাতে তিন ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ২৪ রান বাংলাদেশের। 

প্রথম ওভারে লিটন-সৌম্যর সতর্ক ব্যাটিং

প্রথম ওভারে চারটি সিঙ্গেল থেকে রান এসেছে। সৌরভ নেত্রাভালকারের ছয় বল থেকে দুটি করে সিঙ্গেল রান নেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা টস জিতেছে এবং বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগে ব্যাটিং করতে নামবে বাংলাদেশ।

কানাডাকে ৪-০ তে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বাংলাদেশ ৪-১ এ হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। দারুণ সিরিজ জয়ে টেক্সাসে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটাই দুই দলের শেষ সিরিজ। তাই প্রস্তুতির শেষ সুযোগ তাদের সামনে।

যুক্তরাষ্ট্র একাদশ: মোনাঙ্ক প্যাটেল (উইকেটকিপার ও অধিনায়ক), অ্যারন জোন্স, আন্দ্রিয়েস গাউস, কোরি অ্যান্ডারসন, স্টিভেন টেলর, আলি খান, হারমীত সিং, জাসদীপ সিং, নিতিশ কুমার, নসথুশ কেনজিগে, সৌরভ নেত্রাভালকার।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ, জাকের আলী (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম।