ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট বেশি খেলতে ওয়ানডে ছাড়তে পারেন স্টার্ক

ক্যারিয়ারের উড়ন্ত সময়টাতেই আইপিএল থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন মিচেল স্টার্ক। কলকাতার হয়ে চলতি আসরে শিরোপা জেতার পর ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবছেন তিনি! এখন তো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিতে ওয়ানডে ফরম্যাটকে বিদায় বলে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন। তেমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন আইপিএল ফাইনালের পর।

ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে স্টার্ক বলেছেন, ‘গত ৯টি বছর শুধু অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকেই গুরুত্ব দিয়েছি। নিজের শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া কিংবা ক্রিকেট ছেড়ে একটু দূরে থেকে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো, এসবও ছিল। এখন সামনে তাকিয়ে.. দেখুন আমি ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে পড়েছি। একটি ফরম্যাট তাই হয়তো বাদ পড়তে পারে। পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে লম্ব সময়ের বিরতি। এই ফরম্যাট আমি আর চালিয়ে যাবো কিনা…এটা হয়তো আরও বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দুয়ার খুলে দিতে পারে আমার জন্য।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মানে দুই মাসের আইপিএল। অতীতে যে টুর্নামেন্টটি মাত্র দুবার খেলেছেন তিনি। বেঙ্গালুরুর হয়ে ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে। তার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য সতেজ আর ফিট থাকতে সেটি এড়িয়ে গেছেন। এমনকি ২০০৯ সালে অভিষেকের পর এত বছর শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেললেও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৩৭টি। চলতি মৌসুম অবশ্য ভীষণ উপভোগ করেছেন তিনি, ‘পুরো মৌসুম দারুণ উপভোগ করেছি। এটার পরই বিশ্বকাপ। ফলে এখানে দারুণ সব ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলা মানে প্রাপ্তির আরেকটি দিক। বিশ্বকাপের আগে ব্যাপারটা দুর্দান্ত।’

স্টার্ক পরের বছরও আইপিএলে খেলতে চান। সম্ভব হলে সেটা কলকাতার জার্সিতে, ‘আগামী বছর আমি সূচিটা হয়তো জানি না। তবে এবার ভীষণ উপভোগ করেছি। আগামী বছর এখানে আসার জন্য মুখিয়ে থাকছি। সম্ভব হলে সেটা কেকেআরের জার্সিতে।’

এই বছর আইপিএলে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়ে কলকাতায় খেলেছেন স্টার্ক। ভারতীয় মুদ্রায় ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপি! কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুটা মোটেও স্বস্তির ছিল না তার জন্য। প্রথম দুই ম্যাচে ৮ ওভারে পাননি কোনও উইকেট! খরচ করেছেন ১০০ রান। ছন্দে ফিরতে সময় নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত স্বরূপে ফিরেছেন প্লে-অফে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। তার পর ফাইনালে ১৪ রানে নিয়েছেন ২টি।