যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা: বিশ্বকাপের সূচনায় পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন শুরু

ক্রিকেট বিশ্বের প্রথম টেস্ট হয়েছিল কবে? ১৮৭৭ সালে। ক্রিকেট বিশ্বের বর্তমান হাইভোল্টেজ প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছিল। তারও অনেক আগে ১৮৪৪ সালে তিন দিনের ম্যাচে মুখোমুখি দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ঐতিহ্যগতভাবে এই দুই দলও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। নিউ ইয়র্কে সেবার ২৩ রানে জিতেছিল কানাডা।

১৮০ বছর পর এই দুটি দলই ডালাসে মুখোমুখি হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে। পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন রূপে হাজির হচ্ছে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, বাংলাদেশ সময় রবিবার সকাল সাড়ে ৬টায়। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের রোমাঞ্চ ছড়াতে আর কী চাই!

দুই দলের জন্যই এটি প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র সহআয়োজক হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছে, আর কানাডা টিকিট পেয়েছে আমেরিকান বাছাই জিতে। শনিবার গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি হতে যাচ্ছে। কিন্তু ডলাসে সেভাবে নেই কোনও উত্তেজনা।

দুই চিরশত্রু মুখোমুখি হলেও ৭ হাজার ধারণক্ষমতার গ্যালারি পুরোপুরি ভরা নিয়ে শঙ্কা। শোনা যাচ্ছে, বজ্রঝড় বাগড়া দিতে পারে এই ম্যাচে, যেমনটা হয়েছিল এই ভেন্যুতে দুই দলের ওয়ার্মআপে।

প্রকৃতি বাধ না সাধলে এই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ফেভারিট। যদিও ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে মাত্র সাতটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে তারা, সবগুলোই গত দুই মাসে। আর তাতেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে তারা। ৪-০ তে কানাডাকে হারানোর পর বাংলাদেশকে ২-১ এ হারিয়েছে, দুইবারই ঘরের মাঠে। কানাডার বিপক্ষে সাত টি-টোয়েন্টি খেলে হেড টু হেডে ৫-২ এ এগিয়ে আমেরিকানরা।

বৃষ্টি ভজঘট না পাকালে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার কোরি অ্যান্ডারসন যুক্তরাষ্ট্রের জার্সি পরতে যাচ্ছেন নিশ্চিত। তাতে করে পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিনি। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা হারমীত সিংও দেশটির হয়ে ব্যাটে-বলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অপেক্ষায়।

বাঁহাতি সিমার কালিম সানা, যিনি পাকিস্তানে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে বাবর আজমকে আউট করেছেন, এবার কানাডার হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। দেশটির শক্তির পাল্লা ভারী করতে আছেন ৩৭ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার জেরেমি গর্ডন।

যুক্তরাষ্ট্রের টপ অর্ডার বেশ শক্তিশালী, যেখানে আছেন স্টিভেন টেলর, মোনাঙ্ক প্যাটেল ও আন্দ্রিয়েস গাওসের মতো ব্যাটার। আলী খান ও সৌরভ নেত্রাভালকার পেস আক্রমণের ভরসা। দলের প্রধান স্পিনার হারমীত লেট অর্ডারে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে সিদ্ধহস্ত।

কানাডার শক্তির জায়গা বোলিং। গর্ডন ও সানার সঙ্গে পেস আক্রমণে আছেন ডিলন হেলিগার। অধিনায়ক সাদ বিন জাফর ও নিখিল দত্ত তাদের বৈচিত্রময় স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নিষ্ক্রিয় করে রাখতে চাইবেন।

যুক্তরাষ্ট্র (সম্ভাব্য একাদশ): মোনাঙ্ক প্যাটেল (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), অ্যারন জোন্স, স্টিভেন টেলর, নিতিশ কুমার, কোরি অ্যান্ডারসন, জাসদীপ সিং, আলী খান, সৌরভ নেত্রাভালকার, হারমীত সিং, আন্দ্রিয়েস গাওস, নসতুশ কেনজিগে/শ্যাডলি ফন শ্যালকউইক।

কানাডা (সম্ভাব্য একাদশ): নাভনীত ঢালিওয়াল, অ্যারন জনসন, পারগাত সিং, শ্রেয়াস মোভা (উইকেটকিপার), রবিন্দরপাল সিং, নিকোলাস কার্টন, সাদ বিন জাফর (অধিনায়ক), কালিম সানা, নিখিল দত্ত, ডিলন হেলিগার, জেরেমি গর্ডন।