এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের সেরা ক্রিকেটারের তালিকা করলে পেসার শরিফুল ইসলামের নাম সবার ওপরে থাকবে। তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা যায় তাকে। খেলোয়াড়ি জীবনে কাছের মানুষদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে বিশ্ব আসরে যাওয়ার আগে খোলা মনে কথা বলে গেছেন।
গত বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলারদের একজন শরিফুল। এই সময়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন কেবল তাসকিন। শরিফুলের এই সাফল্যের পেছনে অনেক বড় ভাইয়ের অবদান থাকলেও এই পেসার আলাদা করে মুশফিকের নামই বলছেন। দেশ ছাড়ার আগে বিসিবির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আয়োজন 'গ্রিন-রেড' স্টোরিতে তিনি বলেছেন, ‘খেলার সময় তো বড় ভাইরা অবশ্যই অনেক সমর্থন করেন। নিউজিল্যান্ডে খেলার সময় মুশফিক ভাই একটা কথা বলেছিলেন, সেটা এখনও আমার কানে সবসময় বাজে।’
তবে মুশফিকের বলা কথাটি গোপনই রাখতে চাইলেন তিনি,‘কথাটা গোপনই থাক। আর এমনিতে তো পরিবার সবসময়ই সমর্থন করে। আমার স্ত্রী বিশেষ করে। সবসময় খেলতে যাওয়ার আগে কথা হয়, ইতিবাচক কথা হয়। ভালো লাগে। তাই মাঠে গিয়ে যদি দুই-একটা ওভার খারাপও হয়, তখন চিন্তা করি যে, ভালো সময় আসবে। পরের ওভারে ভালো করবো।’
অধিনায়ক শান্তকে নিয়ে শরিফুল বলেছেন, ‘শান্ত ভাই খুব ভালো। স্বাধীনতা দেন। আর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন। সবাই তাকে অনেক পছন্দও করেন। আমরা বোলাররা যদি কখনও কিছু করতে চাই, তখন এটা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। সব অধিনায়কই দেখেন। তবে শান্ত ভাইয়ের সঙ্গে অনেক দিন ধরে খেলছি তাই উনার ব্যবহার বা সবকিছুই ভালো লাগে।’
বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত শরিফুল ১০ টেস্ট, ৩৬ ওয়ানডে ও ৪১ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপও খেলে ফেলেছেন দুটি। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মোটামুটি কাটলেও ২০২২ বিশ্বকাপ তার ভালো কাটেনি। ছোট্ট ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে শরিফুল নিজের অনুভূতিও জানিয়েছেন, ‘প্রতিটা খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ খেলার। সেটা হোক ক্রিকেট, ফুটবল বা যে কোনও কিছুর। সেখানে আমি যদি বিশ্বকাপে খেলতে পারি, অন্যরকম পাওয়া হবে। বিশ্বকাপটা আসলে দুনিয়ার সবাই দেখে। ওই ক্ষেত্রে সবার একটা মনোযোগ থাকে। তাই আমার মনে হয়, বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার জন্য অন্যান্য সিরিজ থেকে একটা ভিন্ন অনুভূতি কাজ করে।‘
ড্রেসিংরুমের পরিবার নিয়ে শরিফুল বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমরা দলে খুব কমই সিনিয়র-জুনিয়র দেখি। সবাই মনে করি একটা পরিবার। বন্ধুর মতো আচরণ সবার। আর রিয়াদ ভাই কিন্তু সবচেয়ে বড়। কিন্তু উনি সবার সঙ্গে ভালোভাবে মেশেন। উনি এমনভাবে মেশেন যে মনেই হয় না বয়সের এত পার্থক্য। উনি দলটাকে চাঙা করে রাখেন। মনে হয় যে, খুব ছোট থেকেই একসঙ্গে খেলছি। ’